ময়মনসিংহ হাসপাতালের পরিচালককে সরাতে কোটি টাকার ফান্ড

শনিবার, ৭ জুলাই, ২০১৮ ১:১৩:৪৯ অপরাহ্ণ
0
129

আব্দুল মান্নান পল্টন,ময়মনসিংহ :

ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল নাছির উদ্দিন আহম্মেদকে বদলী করতে দুর্নীতিবাজ সিন্ডিক্যাড কোটি টাকার ফান্ড গঠন করেছে বলে তথ্য ফাঁস হয়েছে। পেশাজীবী চক্রের নেতৃতে নগরির অধিকাংশ প্রাইভেট হাসপাতালের মালিক,ঔষধ ব্যবসায়ীসহ স্থানীয় চিহিৃত টাউট, দালালদের একটি চক্র পরিচালকের বদলী নিশ্চিত করতে উপর মহলে দৌড় ঝাপ করছেন বলে একধিক দায়িত্বশীল সুত্র নিশ্চিত করেছে।

কর্মগুনে ময়মনসিয়ংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে আলো ছড়ানো এ সেনা কর্মকর্তার বদলী হচ্ছে খবরে ফেপে ফুঁসে উঠেছে ময়মনসিংহের মানুষ। ,টুইটার,অনসলাইনসহ জনপ্রিয় সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেইসবুকে পরিচালক নাসির উদ্দিন আহম্মেদকে অকুণ্ঠ সমর্থন জানিয়ে পোষ্ট করেছেন হাজার হাজার মানুষ।

ময়মনসিংহ ১০ গফরগাঁও আসনের জনপ্রিয় এমপি ফাহমি গোলন্দাজ বাবেল বলেন বর্তমান পরিচালক নাসির উদ্দিন আহম্মেদের হাতধরে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল দুর্নীতিমুক্ত হয়েছে। রোগীরা উন্নত চিকিৎসাসেবা পাচ্ছে। অক্লান্ত পরিশ্রমী ও সৎ এই মানুষটিকে ময়মনসিংহবাসী অসম্ভব ভালবাসে, সম্মান করে। আমি তার মঙ্গল কামনা করছি।যার হাতধরে মমেক হাসপাতালে উন্নত চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত হয়েছে। যিনি দায়িত্ব পালনের পোনে তিনবছরে নিকশকালো অন্দকারে ডেকে যাওয়া মমেক হাসপাালকে আধুনিক হাসপাতাল হিসেবে গড়ে তুলেছেন।

যিনি দেশের সরকারি হাসপাতালগুলির অনিয়ম দুর্নীতির চিরচারিত প্রথা ভেঙ্গে দিয়ে চিকিৎসাসেবায় নতুন ইতিহাস রচনা করেছেন। প্রত্যাশার অধিক চিকিৎসাসেবা দিয়ে বৃহত্তর ময়মনসিংহের পোনে তিন কোটি মানুষের হৃদয় জয় করেছেন রোগী দরদী খ্যাত সেই সেনা কর্মকর্তা ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পরিচালক বিগ্রেডিয়ার জেনারেল নাসির উদ্দিন আহম্মেদকে আমিও খুব পছন্দ করি। তিনি যতদিন এই হাসপাতালে থাকবেন ততদিন রোগীরা উন্নত চিকিৎসাসেবা পাবে । ময়মনসিংহবাসীর প্রাণের দাবী তিনি যেন এই হাসপাতালেই থেকে যান। এ কথা গুলো এ প্রতিবেধককে বলছিলেন ময়মনসিংহ পৌরসভার জননন্দিত মেয়র জেলা আ’লীগ নেতা ইকরামুল হক টিটু ।

ময়মনসিংহ মহানগর আ’লীগের সাধারন সম্পাদক ধর্মমন্ত্রী পিন্সিপাল মতিউর রহমান পুত্র মোহিত উর রহমান শান্ত বলেন মানুষটিকে কখনো দেখিনি। অসংখ্য মানুষের মুখে শুনেছি তিনি রোগী দরদী, তিনি ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে উন্নত চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করেছেন । আমি ময়মনসিংহবাসীর পক্ষ থেকে ওনাকে অনেক ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জানাই।

ময়মনসিংহ ১০ গফরগাঁও আসনের সাবেক এমপি ইনামুল হক জজ বলেন কয়েকমাস পুর্বে এই মানুষটির বদলির প্রত্যাহারের দাবীতে এতদ অঞ্চলের লক্ষ লক্ষ মানুষ অন্দোলনে নেমেছিল আটঘাট বেধে । পোনে তিনকোটি ময়মনসিংহবাসীর অকুন্ঠ দাবী আর আন্দোলনের মুখে বদলীর আদেশ প্রত্যাহার করে এই হাসপাতালের পরিচালক হিসেবে তাকে বহাল রাখে সরকার।

মাত্র দুই বছর আট মাসে অপরিচ্ছন্ন হাসপাতালকে পরিস্কার পরিচ্ছন্ন পরিপাটি করে গড়ে তুলার কারিগর অক্লান্ত পরিশ্রমী এই সেনা কর্মকর্তার কর্মযজ্ঞে টাউট দালাল সিান্ডিকেট অসন্তষ্ট হলেও সন্তষ্ট হয়েছেন এতদ অঞ্চলের পোনে তিন কোটি মানুষ । কথাগুলো বলছিলেন ময়মনসিংহ জেলা পুলিশের মিডিয়া সেন্টারের ওসি মোর্শেদ। বিশিষ্ট লেখক ও সাংবাদিক মজিবুর রহমান ( অনিন্দ্র মিন্টু ) বলেন দালাল টাউট সিন্ডিক্যাটদের কন্ঠে পরিচালককে বদলির একাধিক ডেডলাইন এবার ২১ জুলাইয়ে গিয়ে ঠেকেছে।

সন্ত্রাস ও মাদক কারবারিদের নিয়ন্ত্রক হিসেবে আলোচিত সমালোচিত এক পেশাজীবী সংগঠনের নেতা ও তাঁর ভাইয়ের নেতৃত্বাধীন গুটিকয়েক সদস্য বিশিষ্ট ভয়ঙ্কর চক্রের হোতারা বলে বেড়াচ্ছেন আগামী ২১ জুলাইয়ের চেয়ে একদিন বেশি পরিচালক স্বপদে বহাল থাকতে পারবেননা’
ভয়ঙ্কর সিন্ডিকেডদের দেয়া ২১ জুলাইয়ের ডেটলাইন নিয়ে মুখ খুলেছেন ব্রিগেডিয়ার জেনারেল নাছির উদ্দিন আহমেদ। তিনি এই প্রতিবেধককে বলেন ‘আর কত ডেটলাইন দেয়া হবে? আমি বদলি হচ্ছি বলে একটি মহল অপপ্রচার চালাচ্ছে। রোগী দরদী খ্যত পরিচালক স্ট্যাটাসের শেষ প্যারায় ষড়যন্ত্রকারীদের সনাক্ত করতে স্থানীয় প্রশাসন ও গোয়েন্দা সংস্থার হস্তক্ষেপও প্রত্যাশা করেছেন।

তবে চিকিৎসা সেবায় দৃষ্টান্ত স্থাপনের বদৌলতে চিকিৎসক থেকে শুরু করে সাধারণ মানুষ এবং ঐক্যবদ্ধ ময়মনসিংহবাসী ষড়যন্ত্রকারীদের দাঁতভাঙা জবাব দিতে পরিচালকের পাশে পাশে রয়েছেন। বজ্রকন্ঠে পেশাজীবী চক্রের ওইসব ষড়যন্ত্রকারীদের প্রতি ঘৃণা ও ধিক্কার জানিয়ে রাজপথে নামারও প্রস্তুতি নেয়ার কথাও জানিয়েছেন তারা। ফেইসবুকে হাসপাতাল পরিচালকের দেয়া স্ট্যাটাসটি পড়ে রুবেল আকন্দ লিখেছেন -‘এটা সাধারণ জনগণ মেনে নেবেনা। প্রয়োজনে আমরা রাজপথে নামব কিন্তু এ অন্যায় মেনে নেব না।’

ময়মনসিংহ নগরির আকুয়া মড়লপাড়া এলাকার বাসীন্দা ফুরাদ সরকার নামের একজন স্পষ্টতই বলেছেন- ‘ভাল এবং সৎ মানুষকে খুব কষ্ট করে চাকরি করতে হয়। ময়মনসিংহ মেডিকেলে যে পরিবর্তন আপনি করে দিয়ে গেলেন তা সাধারন রোগিরা খুব মিস করবে। আপনি চলে যাবার সাথে সাথে দালাল লোকগুলো আবার হাসপাতালের পরিবেশ নষ্ট করে দিবে। সাধারণ রোগীরা আবার অসহায় হয়ে পরবে।’
সদর উপজেলার বাসীন্দা দুলাল তালুকদার লিখেছেন- ‘আজ কোথায় জাতির বিবেক? আজ কোথায় সুশিল সমাজ, আজ কোথায় মানবাধিকার? আজ কোথায় প্রবীণ রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব? আজ কোথায় প্রশাসন? একজন সৎ আদর্শ ন্যায় পরায়ণ ব্যক্তি, উনার সম্মান অবমাননা করার জন্য একটি কুচক্রী মহল উঠে পড়ে লেগেছে, আমি এর প্রতিবাদ জানাই।’

মন্তব্যের শেষ অংশে তিনি সচেতন করতে চেয়েছেন ময়মনসিংহবাসীকে। লিখেছেন-‘আমি বৃহত্তর ময়মনসিংহের জনসাধারণকে উদ্দেশ্য করে বলছি, নাসির উদ্দিন আহমদ স্যার, উনি যদি চলে যান, ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসার নাম করে আবার কসাইখানা হবে।
চিকিৎসা তো দুরের কথা শুধু ওরা জনসাধারণের রক্ত চুষে খাবে। আমরা আবার মাঠে নেমে প্রমাণ করে দিবো, নাছির উদ্দিন আহমদ স্যার বৃহত্তর ময়মনসিংহের পোনে তিন কোটি মানুষের হৃদয়ের স্পন্দন।’

 

এ নিয়ে গত বৃহস্পতিবার (৩১ মে) রাতে এক স্ট্যাটাসে দেশের সব সরকারি মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পরিচালক নাছির উদ্দিন আহমেদ লিখেছিলেন- ‘একটি মহল অপপ্রচার চালাচ্ছে আমি সহসা বদলী হয়ে যাব। এটা মিথ্যা, ভিত্তিহীন, গুজব। সরকার যতদিন চাইবে আমি ততদিন আমার দায়িত্ব পালন করব।’

বিগ্রেডিয়ার জেনারেল নাসির উদ্দিন আহম্মেদকে বদলির অপচেষ্টা ও তার বিরুদ্ধে অপপ্রচার ষড়যন্ত্র হচ্ছে খবরে উত্তেজনা বাড়ছে জনমনে। ষড়যন্ত্রকারি দালালদের ঘেরাও করে ময়মনসিংহ থেকে উচ্ছেদ করার শপথ নিচ্ছে পরিচালক অন্তপ্রাণ লক্ষ লক্ষ মানুষ।

হাসপাতাল এলাকাসহ নগরির অনেকেই বলেন সরকারি ওষধ বিক্রয়, হাসপাতাল থেকে রোগী ভাগানোর ঘটনা ছিলো ওপেন সিক্রেট। এই পরিচালক এসব বন্ধ করেছেন। এক ছাদের নিচে তিনি রোগীদের সব ধরণের পরীক্ষা-নিরীক্ষার ব্যবস্থা করেছেন নামমাত্র টাকায়। একজন ক্লিনিক মালিক হিসেবে ওই চিকিৎসক নেতার স্বার্থে আঘাত লাগারই কথা। তাঁর ক্লিনিকের ব্যবসা লাটে ওঠেছে। সুবিধার ভাগ লুটেপুটে না খেতে পেরে তিনি কত কথাই বলবেন!

ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ (মমেক) হাসপাতালের এক কর্মচারী নেতা বলেন, হাসপাতাল পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল নাছির উদ্দিন আহমেদ স্বাস্থ্য বিভাগের এক স¤্রাটকে কার্যত ‘জিরো’ বানিয়ে ছেড়েছেন। ক্ষমতাধর ওই স¤্রাটের কাছে তিনি আতœসমর্পণ না করে নিয়মের মধ্যে থেকেই স্বাস্থ্য বিভাগের চিকিৎসক, কর্মকর্তা-কর্মচারীদের রাহুমুক্ত করেছেন। হাসপাতালের রাজস্ব আয়ে রেকর্ড গড়েছেন।’

বিগ্রেডিয়ার জেনারেল নাসির উদ্দিন আহম্মেদ বলেন আমি সরকারের দেয়া দায়িত্ব যথাযথ পালন করে যাচ্ছি । হাসপাতালের সার্থে দুর্নীতিবা দের সাথেরআপোষ করিনি। কখনও করবনা। সরকার যতদিন রাখবে ততদিন এই হাসপাতালে থাকবো।