খুলনার সেটেলমেন্ট অফিসের ডি ম্যান শ্যামল কৃষ্ণ মিস্ত্রি দ্বৈত নাগরিক হয়েও তার পরকিয়া প্রেমিকের জোড়ে করছেন সরকারি চাকুরি

রবিবার, ৮ জুলাই, ২০১৮ ৫:১৯:২২ অপরাহ্ণ
0
159

খুলনা প্রতিনিধিঃ
সরকারি কর্মচারী দ্বৈত নাগরিক প্রসঙ্গে সংবাদ পরিবেশনে নানা মহলের চাপ। এই প্রসঙ্গে ধারাাহিক পর্বের ১ম পর্ব সংবাদ প্রকাশের পর থেকে চলছে নানা মহলের চাপ। পশ্চিম বঙ্গের নগরিক শ্যামল কৃষ্ণ মিস্ত্রি খুলনা জোনাল সেটেলমেন্ট অফিসের ডি ম্যান । আর এই ডি-ম্যানের চাকুরী করে একের পর এক অনিয়ম দূর্ণীতির মাধ্যমে বিপুল অর্থ সম্পদের মালিক বনে গেছেন । নিজের স্ত্রী থাকার পর তার রয়েছে সুন্দরী রক্ষীতা । সম্প্রতি বয়রা পূজা খোলা মোড়ে রক্ষিতা সুজাতার ঘরে অনৈতিক কার্যকালাপ অবস্থার ঘটনা জানে না এমন লোক খুজে পাওয়াই যাবে না। তার এই রক্ষিতা হচ্ছে খুলনা জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের অফিস সহকারী সুজাতা। সুজাতার সাথে রয়েছে দীর্ঘ দিনের পরকিয়া প্রেমের সম্পক শ্যামল কৃষ্ণ মিস্ত্রীর। এমনটাই শোনা যায় এলাকা বাসীর কাছে। আর এই পরকিয়া প্রেমিকের ক্ষমতা বলেই নাকি দ্বৈত নাগরিক শ্যামল কৃষ্ণ মিস্ত্রী চাকুরী করে যাচ্ছে খুলনা সেটেলমেন্ট অফিসে। বিভিন্ন মহলের অনেক ক্ষমতাধর ব্যক্তির সাথেই রয়েছে তার গভীর সম্পর্ক। শ্যামলের স্ত্রী ভারতী রায় খুলনা আবু নাসের হাসপাতালের সিনিয়র স্টাফ নার্স ও নার্সিং সুপার ভাইজার পদে কর্মরত থাকায় সেখানেও ভারতী রায়ের কাছে তার স্বামীর দ্বৈত নাগরিকত্ব ও তিনিও ভারতের নাগরিক কিনা জানতে চাওয়া হলে তিনি এ প্রতিবেদকের সাথে কোন কথা বলতে রাজি হননি ।
এ বিষয়ে অফিস সহকারী সুজাতার কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, আপনাদের এমন একটি ব্যক্তিগত বিষয়ে কথা না বললে হয় না। শ্যামল দ্বৈত নাগরিক হলে তাতে আপনাদের সমস্যা কিসের । তিনি আরো বলেন,শ্যামলের রিপোটটা আর না করার জন্য এ কথা বলে যে পত্রিকা চালাতে হলে আমাদের কাছে আসতে হবে । এ বিষয়ে আপনাদের এত মাথা ব্যাথা কিসের। যাই হোক আমার এখন সময় নাই। আমি শ্যামল কৃঞ্চ মিস্ত্রীর ব্যাপারে আপনার সাথে কথা বলতে চাই না। তখন সে প্রতিবেদকের সাথে পরবর্তিতে প্রয়োজন হলে কথা বলবে এই মর্মে ভিজিটিং কার্ড নেন। ঠিক ঐদিন সন্ধায় নেয়ামুল হক কচি নামে একটি স্যাটেলাইট টেলিভিশনের একজন ক্যামেরা ম্যান প্রতিবেদককে ফোন দেন এবং নানা ভাবে হুমকি দেয় নিউজটি না করার জন্য।
উল্লেখ্য, শ্যামল কৃষ্ণ মিস্ত্রি পূজা খোলা মন্দির কমিটির সাধারন সম্পাদক থাকাকালীন মন্দিরের অর্থ নিজের পকেটস্থ করার দায়ে তাকে কমিটি থেকে অব্যাহতি দেয়া হয় । খুলনা জোনাল সেটেলমেন্ট অফিসের ডি- ম্যান শ্যামল কৃষ্ণ সেটেলমেন্ট অফিসে ভুমি সংক্রান্ত জটিলতা নিয়ে বিভাগের বিভিন্ন জেলার সাধারন মানুষ আসেন তাদেরকে ভোগান্তিতে ফেলে হাতিয়ে নিয়েছে লক্ষ লক্ষ টাকা । পশ্চিম বঙ্গের নাগরিক পরিচয় পত্র এবং রেশন কার্ডধারী ও বাংলাদেশের ভোটার তালিকা ভুক্ত হয়ে কি ভাবে এ দির্ঘ সময় শ্যামল ও তার স্ত্রী সরকারী চাকুরীতে এখনো বহাল রয়েছে তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন তাদের সহকর্মীরা । কাজী পাড়ার পাল পাকুরিয়ায় প্রায় দেড় কোটি টাকা ব্যয়ে দ্বীতল ভবন নির্মান করেছেন এবং সেখানে সার্বক্ষনিক তার বড় ভাই এবং সেঝ ভাই অবস্থান করেন। শ্যামল কৃষ্ণ মিস্ত্রি ভারতে নিয়মিত যাওয়ার জন্য যে পাসর্পোট ব্যাবহার করেন সে পাসপোটিও নন-গর্ভারমেন্ট এবং সরকারী চাকরীজীবী হওয়া সত্বেও তিনি পাসপোর্টে পেশা হিসেবে ব্যাবসায়ী উল্লেখ করেছেন।। যার পাসপোর্ট নন্বর- এএ৩৬৯৫৯০০ । যার ব্যাবসায়ীক ঠিকানা ছিল খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের সামনে শুভ মেডিকেল হলের প্রোপাইটর। এবং তা পরবর্তিতে সংশোধনের সুযোগ থাকা স্বত্তেও তিনি করেন নাই।
বাংলাদেশ নাগরিকত্ব আইন-২০১৬ অনুযায়ি সুপ্রিমকোর্টে বিচারক, জাতীয় সংসদের সদস্য, সাংবিধানিক পদে অধিষ্ঠিত ব্যক্তি, সশস্ত্র বাহিনী বা প্রজাতন্ত্রের কোনো বেসামরিক পদে নিয়োজিত ব্যক্তিরা দ্বৈত নাগরিকত্ব গ্রহণ করতে পারবেন না। আর দ্বৈত নাগরিকরা স্থানীয় সরকার নির্বাচন, জাতীয় সংসদের সদস্যপদে নির্বাচন, রাষ্ট্রপতি পদে নির্বাচন, বিচারকসহ প্রজাতন্ত্রের কোনো কাজে নিয়োগলাভ বা কোনো রাজনৈতিক সংগঠন করতে পারবেন না। পাশাপাশি মিথ্যা বা বিকৃত তথ্য প্রদান বা তথ্য গোপন করে এ আইনের অধীনে নাগরিকত্বসংক্রান্ত অপরাধের জন্য অপরাধী অনধিক পাঁচ বছরের কারাদন্ড বা অনধিক এক লাখ টাকা জরিমানা বা উভয় দন্ডে দন্ডিত হবেন।