স্বজনদের কান্না যেন থামছে না

রবিবার, ৮ জুলাই, ২০১৮ ১১:৫৫:৫২ পূর্বাহ্ণ
0
117
নড়াইল প্রতিনিধি:

গত ৪ জুলাই সৌদি আরবের জেদ্দায় সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত দু’জনের বাড়ি নড়াইলের লোহাগড়া উপজেলায়। নিহতরা হলেন, মনিরুল মোল্যা (২৮) ও সৈয়দ হোসেন আলী (৩২)। তাদের দু’পরিবারেই এখনও চলছে শোকের মাতম। আত্মীয়-স্বজন এবং পাড়া প্রতিবেশীদের আহাজারিতে এলাকার বাতাস ভারী হয়ে উঠেছে। স্বজনদের এখন অপেক্ষা প্রিয়জনের লাশের।

জানা গেছে, লোহাগড়া উপজেলার আড়পাড়া গ্রামের মৃত মহসিন মোল্যার ছেলে মনিরুল সাত ভাই-বোনের মধ্যে মনিরুল সবার ছোট। জেলার সদর উপজেলার শাহাবাদ মাদ্রাসা থেকে কামিল পাশ করে এক বছর আগে সৌদি আরবে যায় ।

নিহত মনিরুলের মা আমেনা বেগম কান্না জড়িত কন্ঠে বলেন, আমার ছেলে এবার দেশে ফিরে এসে বিয়ে করবে বলে আমাদের মেয়ে দেখতে এবং বাড়ীঘর মেরামত করতে বলেছিল। কিন্তু তার সে স্বপ্ন আর পূরণ হলো না। এসব কথা বলে বিলাপ বকছিলেন ছেলের মৃত্যুর খবর শুনে।

মনিরুলের বোন জেসমিন ও নাইচ বেগম বিলাপ করতে করতে জানান, টাকা দিয়ে কি হবে? আমার ভাই বিদেশে গিয়েছিলো অনেক টাকা আয় করতে কিন্তু সে এখন লাশ হয়ে ফিরছে। দ্রুত লাশ দেশে ফিরিয়ে আনার দাবি তাদের।

এ সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত উপজেলার লাহুড়িয়া গ্রামের সৈয়দ আশরাফ আলীর ছেলে সৈয়দ হোসেন আলীর বাড়িতে মৃত্যুর খবরে চলছে এখনও কান্নার রোল। নিহতের স্ত্রী রাকিয়া বেগম তার দুই শিশু ছেলে ফাহাদ ও হামজাকে জড়িয়ে ধরে বিলাপ করে বলছে, তোর বাবা আর কোন দিন আমাদের মাঝে ফিরে আসবে না। তোদের পৃথিবীতে বাবা বলে ডাকার আর কেউ থাকলো না। তোরা এতিম হয়ে গেলি রে।

নিহতের বড় ভাই সৈয়দ নাসির আলী জানান, হোসেন প্রথমে পাঁচ বছর কুয়েতে ছিলো দেশে ফিরে গত ৮/৯ মাস পূর্বে সৌদি আরবে চলে যায়। তার মৃত্যুর খবরে বৃদ্ধ পিতা-মাতা বাকরুদ্ধ হয়ে পড়েছেন। এদিকে, নিহত দু’পরিবারের সদস্যরা নিহত মনিরুল ও হোসেনের লাশ দ্রুত দেশে ফিরে আনার দাবী জানিয়েছেন পরিবারের লোকজন।

উল্লেখ্য, গত ৪ জুলাই সৌদি আরবের জেদ্দায় কিং আব্দুল আজিজ সড়কের সামারী কোর্ট ও রেড সি মলের মধ্যবর্তী এলাকায় মাইক্রোবাস উল্টে হতাহতের ঘটনা ঘটে।