খুলনা সিভিল সার্জন অফিসের গোপন লেনদেনে বিনা টেন্ডারে কাজ করছে মোল্লা ট্রেডার্স

সোমবার, ৯ জুলাই, ২০১৮ ৭:০২:১৩ পূর্বাহ্ণ
0
102

এস,ইসলাম খুলনা থেকে:

ঠিকাদারের সাথে যোগ সাজছে মাত্র ছয় লাখ বকেয়া পাওনার মামলা করে একই ঠিকাদার কাজকরছেন খুলনা সিভিল সার্জন অফিসে । সার্জন অফিসের এই বকেয়া টাকার জন্যই কৌশলে বিনা টেন্ডারে কাজ করে যাচ্ছে মোল্লা ট্রেডার্সের মালিক ঠিকাদার ওয়াহিদুল ইসলাম। তিনি খুলনা সদর হাসপাতালসহ একই সাথে রূপসা, তেরখাদা, বটিয়াঘাটা, দিঘলিয়া, দাকোপসহ সাত উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের একাই খাদ্য সরবরাহ, স্টেশনারি, ধোপার সকল কাজ করে যাচ্ছেন। আর প্রতি মাসে ঠিকাদারী ব্যবসায় কামিয়ে নিচ্ছেন লাখ লাখ টাকা।

জানা যায়, পূর্বের ঠিকাদারী বিলের পাওনা আদায়ের জন্য আদালতে রীট করলে পাওনা পরিশোধ না হওয়া পর্যন্ত নতুন ঠিকাদার নিয়োগ স্থগিত করা হয়। কিন্তু ওই আদেশে উচ্চ আদালত থেকে মোল্লা ট্রেডার্সকে ঠিকাদারী কাজ করবার নির্দেশ দেওয়া হয়নি। কিন্তু খুলনা সিভিল সার্জন অফিসের কতিপয় কর্মকর্তার সহযোগিতায় এবং সিভিল সার্জনের গোপন লেনদেনে বিনা টেন্ডারে কাজ করছে মোল্লা ট্রেডার্স।
কোনো ধরনের জবাবদিহিতা না থাকায় হাসপাতালে নি¤œমানের খাবার সরবরাহ করা হচ্ছে।

রূপসা উপজেলা স্বাস্থ্য কমেপ্লেক্সে ভর্তি রোগি বিউটি বেগম (৫৫) জানান, আমি গত তিন দিন ধরে এখানে ভর্তি আছি। এরা যে খাবার দেয় তা গালে দেওয়া যায় না। মোটা গন্ধযুক্ত ভাত একটু পরেই নষ্ট হয়ে যায়। দুপুরের খাবারে শুধু পানি ডাল আর মাছের লেজ। সকালে চিড়া ও এক পিস দাগি কলা। এ খাবার খেলে সুস্থ রোগিও অসুস্থ হয়ে যাবে। অথছ প্রতিমাসে শুধু রূপসা হাসপাতাল থেকে কয়েক লাখ টাকার বিল নিচ্ছে মোল্লা ট্রেডার্স।

জানা যায়, রূপসা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের বড়বাবু মোঃ জাকির তিনি প্রতি মাসে ১০ হাজার টাকার বিনিময়ে পচা ও বাসি খাবার ভালো বলে চালিয়ে নেন। কোনো দিন ১০ জন রোগি ভর্তি থাকলেও তিনি কাগজে-কলমে ৩০ জন দেখিয়ে দেন। এ নিয়ে সাধারণ ঠিকাদারদের মধ্যে ক্ষোভ বিরাজ করছে। মেসার্স আলমগীর ট্রেডার্সের পরিচালক বলেন, ঠিকাদারের বিল বাকি-বকেয়া থাকতে পারে কিন্তু মামলা ও উচ্চ আদালতে রীট করে বিনা টেন্ডারে কাজ করা অবৈধ। তিনি বলেন, পূর্বেও ওই বিলটি ইচ্ছাকৃতভাবে বকেয়া রাখা হয়েছে। এর পরের অসংখ্য বিল পরিশোধ করা হয়েছে।

খুলনা সিভিল সার্জন আব্দুর রাজ্জাক বলেন, আমি এবার দুই লাখ টাকা বিল দিয়েছি। আরও চার লাখ টাকা বকেয়া আছে। তবে এবার আমরা টেন্ডার করার জন্য স্বাস্থ্য আইন শাখায় সুপারিশ কপি পাঠিয়েছি। তবে উচ্চ আদালত তাকেই কাজ করবার কোনো অনুমতি দিয়েছে কিনা প্রশ্ন করলে তিনি এড়িয়ে যান। মোল্লা ট্রেডার্সের পরিচালক ওয়াহিদুল এর নিকট জানতে চাইলে তিনি বলেন, আমি বর্তমান মোট ৪ লাখ টাকার বিল পাবো। আমার নামে কোনো প্রকার কাগজ নেই, সব মহিদুল ইসলামের নামে। শুধু চেকের টাকা আমার নামে আসে। উপরের বস সবাই এসব জানেন।