মন্ত্রণালয়ের নিষেধাজ্ঞা সত্ত্বেও শিক্ষকদের কোচিং বাণিজ্য

সোমবার, ৯ জুলাই, ২০১৮ ১১:০২:০৮ পূর্বাহ্ণ
0
76
ঝিনাইদহ প্রতিনিধি:

শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের নিষেধাজ্ঞা থাকা সত্ত্বেও ঝিনাইদহের বিভিন্ন সরকারি ও বেসরকারি স্কুলের শিক্ষকরা দেদারসে চালিয়ে যাচ্ছে কোচিং বাণিজ্য। অধিকাংশ শিক্ষক নিজের বাসায় গড়ে তুলেছে বিকল্প বাণিজ্যিক স্কুল ও প্রাইভেট সেন্টার। এতে শিক্ষার্থীদের সময় ও শ্রমের অপচয়ের পাশাপাশি অভিভাবকদের গচ্চা যাচ্ছে বড় অংকের টাকা।

তবে জেলা শিক্ষা অফিস বলছে, কোচিং ও প্রাইভেট বাণিজ্য রোধে কয়েকবার অভিযান চালানো হয়েছে। আগামীতে এ ধরনের কোনো ঘটনা ঘটলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

জানা যায়, ২০১২ সালের ২০ জুন প্রাইভেট টিউশনি বন্ধে প্রজ্ঞাপন জারি করে শিক্ষা মন্ত্রণালয়। সেখানে বলা হয় সরকারি ও এমপিওভুক্ত বেসরকারি শিক্ষকরা বিদ্যালয়ে বা নিজের বাড়িতে কোচিং বা প্রাইভেট পড়াতে পারবে না। কিন্তু সরকারি এই নির্দেশনা অমান্য করে জেলার বিভিন্ন উপজেলাসহ জেলা শহরের শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোতে রমরমা হয়ে উঠেছে কোচিং বাণিজ্য। প্রকাশ্যে বাসা অথবা সেন্টারে চালু রেখেছে এই বাণিজ্য।

জেলার অধিকাংশ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে গিয়ে দেখা গেছে, শিক্ষার্থীদের প্রাইভেট পড়তে। শিক্ষার্থীরা নিজস্ব কোচিং সেন্টারের প্রশ্নে পরীক্ষা দিচ্ছে। তবে জিজ্ঞাসা করলে শিক্ষকরা দোহাই দিচ্ছে অতিরিক্ত ক্লাসের। একই দশা গ্রামের শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোতেও। ভোরের আলো ফুটতে না ফুটতে কয়েক কিলোমিটার দূরের স্কুলে প্রাইভেট পড়তে যেতে হচ্ছে শিক্ষার্থীদের।

এদিকে সরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের কোনো শিক্ষক কোচিং বাণিজ্যে জড়িত থাকলে তার বিরুদ্ধে সরকারি কর্মচারী বিধিমাল ১৯৮৫ এর অধীনে অসদাচরণ হিসেবে গণ্য করে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণের কথা নীতিমালায় উল্লেখ রয়েছে। তবে সেই আইনকে অমান্য করে ঝিনাইদহ শহরের শের-এ বাংলা সড়ক, ব্যাপারীপাড়া, কাঞ্চননগর, স্টেডিয়ামপাড়া, আদর্শপাড়া, হামদহ, আরাপপুর, উপশহরপাড়াসহ বিভিন্ন স্থানে শিক্ষকরা প্রাইভেট ও কোচিং সেন্টার নির্বিঘ্নে চালিয়ে যাচ্ছে। বিদ্যালয়ে নামমাত্র সিলেবাস শেষ করা হয়। ছুটি, পরীক্ষাসহ বিভিন্ন কারণে ঠিক মতো পাঠদান করাতে পারে না শিক্ষকরা। যে কারণে কোচিং বা প্রাইভেট সেন্টারে যেতে হচ্ছে শিক্ষার্থীদের।

এ ব্যাপারে ঝিনাইদহ জেলা শিক্ষা অফিসার মোকছেদুল ইসলাম বলেন, ‘কোচিং বাণিজ্য বন্ধে আমরা প্রায়ই অভিযান চালাচ্ছি। এরপরও যদি কোনো শিক্ষক কোচিং ব্যবসা খুলে তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।