মিয়ানমারে রয়টার্সের সাংবাদিকদের বিচার শুরু

সোমবার, ৯ জুলাই, ২০১৮ ১১:০৪:০৭ পূর্বাহ্ণ
0
128
Detained Reuters journalist Kyaw Soe Oo is escorted by police while leaving Insein court in Yangon, Myanmar July 2, 2018. REUTERS/Ann Wang
অনলাইন ডেস্ক:

মিয়ানমারে রোহিঙ্গাদের তথ্য সংগ্রহ করতে এসে গ্রেপ্তার হওয়া বার্তা সংস্থা রয়টার্সের দুই সাংবাদিকের বিচার শুরু করেছে দেশটির আদালত। সোমবার ওয়া লোন এবং কিয়াও সো ও’র বিরুদ্ধে অবৈধভাবে রাষ্ট্রীয় তথ্য রাখার অভিযোগ গঠন করে পূর্ণ বিচার শুরুর আদেশ দেয় দেশটির আদালত।

গত কয়েকমাস তাদের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগের শুনানি চলে। তবে নিজেদেরকে নির্দোষ দাবি করেন ওই দুই সাংবাদিক।

গত বছর মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যে রোহিঙ্গা সংকট নিয়ে প্রতিবেদন তৈরির কাজ করছিলেন তারা। সেখানে রোহিঙ্গা মুসলিম সম্প্রদায়কে নিধনের জন্য ব্যাপকভাবে মানবাধিকার লঙ্ঘনের দায়ে অভিযুক্ত করা হয় দেশটির নিরাপত্তা বাহিনীকে।

মিয়ানমারের নিরাপত্তা বাহিনীর নৃশংসতার শিকার হয়ে গত বছরের আগস্ট থেকে সাত লাখের বেশি রোহিঙ্গা মুসলিম বাধ্য হয়ে বাংলাদেশে আশ্রয় নেয়।

গত বছরের ১২ ডিসেম্বর রাখাইন রাজ্য পুলিশ ওয়া লোন এবং কিয়াও সো ওকে গ্রেপ্তার করে।

রাখাইন পুলিশের অভিযোগ, ওই দুই সাংবাদিকের কাছে মিয়ানমারের গোপনীয় রাষ্ট্রীয় কাগজপত্র ছিল। তারা সামরিক বাহিনীর কর্মকাণ্ড নিয়ে স্পর্শকাতর তথ্য ও নথি সংগ্রহ করেছেন, যাতে দেশটির জাতীয় নিরাপত্তা হুমকিতে পড়তে পারে।

আনীত অভিযোগ প্রমাণিত হলে তাদের ১৪ বছরের কারাদণ্ড পর্যন্ত হতে পারে এই দুই সাংবাদিকের।

এদিকে মিয়ানমার কর্তৃপক্ষকে ওই সাংবাদিকদের মুক্তি দেয়ার আহ্বান জানিয়েছে আন্তর্জাতিক সংবাদ সংস্থা- রয়টার্স।

এক বিবৃতিতে রয়টার্সের প্রেসিডেন্ট ও এডিটর-ইন-চীফ স্টেফান জে. আদলের বলেন, ‘আমরা গভীরভাবে দুঃখিত যে আদালত ওয়া লোন ও কিয়াও সো ওর বিরুদ্ধে এই দীর্ঘস্থায়ী ও ভিত্তিহীন প্রক্রিয়াটি শেষ করতে অস্বীকৃতি জানিয়েছে। রয়টার্সের ওই সাংবাদিকরা স্বাধীন এবং নিরপেক্ষভাবে তাদের কাজ করেছেন। তারা ভুল কিছু করেছেন বা আইন ভঙ্গ করেছেন এমন কোনো প্রমাণ নেই।’

এই সিদ্ধান্তের মাধ্যমে স্বাধীনতা ও আইনের শাসনের প্রতি মিয়ানমারের প্রতিশ্রুতি গুরুতর সংকটে পড়ল বলেও জানান তিনি।