অসুস্থ’ খালেদা জিয়ার জামিনের মেয়াদ বাড়লো

মঙ্গলবার, ১০ জুলাই, ২০১৮ ৭:১৬:০০ পূর্বাহ্ণ
0
94

‘অসুস্থ’ খালেদা জিয়ার জামিনের মেয়াদ বাড়লো
নিজস্ব প্রতিবেদক

বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া অসুস্থ থাকায় তাকে আজও আদালতে হাজির করা হয়নি। এ অবস্থায় জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্ট দুর্নীতির মামলায় যুক্তিতর্ক উপস্থাপন ফের পিছিয়ে আগামী ১৭ জুলাই ধার্য করেছেন আদালত। একই সঙ্গে ওইদিন পর্যন্ত খালেদা জিয়ার জামিনের মেয়াদও বৃদ্ধি করা হয়েছে। মঙ্গলবার পুরান ঢাকার বকশিবাজারের অস্থায়ী আদালতে ঢাকার ৫ নম্বর বিশেষ জজ ড. মো. আখতারুজ্জামান এ দিন ধার্য করেন।

জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্ট দুর্নীতির মামলায় আজ খালেদা জিয়ার পক্ষে যুক্তিতর্ক উপস্থাপনের দিন ধার্য ছিল। একইসঙ্গে তাকে আদালতে হাজির করার কথাও ছিল। কিন্তু আদালতে জমা দেওয়া কাস্টডিতে বলা হয়েছে, অসুস্থ থাকায় খালেদা জিয়াকে হাজির করা সম্ভব হয়নি। এ অবস্থায় তার জামিনের মেয়াদ বাড়ানোর আবেদন করেন আইনজীবী সানাউল্লাহ মিয়া। এ ছাড়া আসামি জিয়াউল হক মুন্নার পক্ষেও হাজিরা দাখিল করা হয়।

শুনানি শেষে ঢাকার পঞ্চম বিশেষ জজ আদালতের বিচারক ড. মো. আখতারুজ্জামান ১৭ জুলাই পর্যন্ত খালেদা জিয়ার জামিন বাড়ান এবং একই সঙ্গে ওইদিন যুক্তিতর্ক উপস্থাপনের নতুন দিন ধার্য করেন। এদিন সকাল ১১টা ৮ মিনিটে আদালতের কার্যক্রম শুরু হয়ে ১১টা ১৩ মিনিটে শেষ হয়।

এদিকে, দুদকের আইনজীবী অ্যাডভোকেট মোশাররফ হোসেন কাজল আদালতে বলেন, খালেদা জিয়া আদালতে উপস্থিত না হওয়ার কারণে আদালতের কার্যক্রম শুরু হচ্ছে না। খালেদা জিয়া দণ্ডপ্রাপ্ত হওয়া থেকে ১৫০ দিন এই মামলার উপস্থিত হননি।

তিনি আরও বলেন, খালেদা জিয়া আদালতে উপস্থিত হতে চান না। আদালতের দৃষ্টি আকর্ষণ করে তিনি বলেন, আইনি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে খালেদা জিয়াকে আদালতে উপস্থিত না করতে পারলে মামলার পরবর্তী কার্যক্রম শুরু করা যাবে না।

চ্যারিটেবল ট্রাস্ট মামলায়  খালেদা জিয়া ছাড়া আরো তিনজন আসামি রয়েছেন। এরা হলেন- খালেদা জিয়ার তৎকালীন রাজনৈতিক সচিব হারিছ চৌধুরী, হারিছ চৌধুরীর তৎকালীন একান্ত সচিব বর্তমানে বিআইডব্লিউটিএ’র নৌ-নিরাপত্তা ও ট্রাফিক বিভাগের ভারপ্রাপ্ত পরিচালক জিয়াউল ইসলাম মুন্না এবং ঢাকা সিটি করপোরেশনের সাবেক মেয়র সাদেক হোসেন খোকার একান্ত সচিব মনিরুল ইসলাম খান। এ মামলায় মোট ৩২ জন সাক্ষ্য দিয়েছেন।

২০১১ সালের ৮ আগস্ট খালেদা জিয়াসহ চার জনের বিরুদ্ধে তিন কোটি ১৫ লাখ ৪৩ হাজার টাকা আত্মসাতের অভিযোগে দুদক জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্ট মামলাটি দায়ের করে। এ মামলায় ২০১২ সালের ১৬ জানুয়ারি আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করে দুদক।

মামলায় খালেদা জিয়া ছাড়া অন্য আসামিদের বিরুদ্ধে ২০১৪ সালের ১৯ মার্চ তৎকালীন বিচারক বাসুদেব রায় অভিযোগ গঠন করেন।

প্রসঙ্গত, দুদকের দায়ের করা জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলায় বিএনপি চেয়ারপারসান খালেদা জিয়াকে গত ৮ ফেব্রুয়ারি পাঁচ বছরের কারাদণ্ড দেন ঢাকার বিশেষ জজ আদালত-৫ এর বিচারক ড. আখতারুজ্জামান। একই মামলায় খালেদা জিয়ার বড় ছেলে তারেক রহমানকে ১০ বছরের কারাদণ্ড দেয়া হয়।

রায়ের পর খালেদা জিয়াকে রাজধানীর নাজিমউদ্দিন রোডের পুরাতন কেন্দ্রীয় কারাগারে রাখা হয়েছে। এ মামলায় তার জামিন হলেও অন্য মামলায় গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি থাকায় তিনি মুক্ত হতে পারছেন না।