পাঁচ মেয়র প্রার্থীর নির্বাচনী ব্যয় ১৭ লাখ টাকা!

মঙ্গলবার, ১০ জুলাই, ২০১৮ ১০:২০:৪৫ পূর্বাহ্ণ
0
216
কক্সবাজার প্রতিনিধি:

আগামী ২৫ জুলাই কক্সবাজার পৌরসভার নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। প্রার্থীদের হলফনামায় দেয়া তথ্য থেকে জানা যায়, মেয়র পদের জন্য লড়াইয়ে থাকা পাঁচজন প্রার্থীর সম্ভাব্য নির্বাচনী ব্যয় সর্বমোট ১৬ লাখ ৯০ হাজার টাকা।

কক্সবাজার পৌর নির্বাচনে অংশ নেয়া আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থী মুজিবুর রহমানের সম্ভাব্য ব্যয় চার লাখ টাকা। অন্যদিকে বিএনপি মনোনীত রফিকুল ইসলামের সম্ভাব্য ব্যয় চার লাখ টাকা।

এছাড়া স্বতন্ত্র প্রার্থী সরওয়ার কামালের চার লাখ টাকা, জাতীয় পার্টির মনোনীত প্রার্থী রহুল আমিন সিকদারের দুই লাখ পাঁচ হাজার টাকা এবং ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ-এর প্রার্থী জাহেদুর রহমানের সম্ভাব্য নির্বাচনী ব্যয় দুই লাখ ৮৫ হাজার টাকা।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, কাগজে-কলমে প্রার্থীরা সম্ভাব্য নির্বাচনী ব্যয় কম দেখালেও বাস্তবে তারা খরচ করবেন বহুগুণ বেশি।

কক্সবাজার পৌরসভা নির্বাচনের সহকারি রিটার্নিং কর্মকর্তা ও সদর উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তা শিমুল শর্মা বলেন, ‘নির্বাচনে মেয়র প্রার্থীদের ব্যক্তিগত ও দলীয় নির্বাচনী ব্যয়ের সীমা নির্ধারণ করে দেয়া হয়েছে। প্রত্যেক মেয়র প্রার্থীর সর্বোচ্চ ৩০ হাজার টাকা ব্যক্তিগতভাবে ব্যয় করতে পারবেন এবং দলীয় নির্বাচনী ব্যয় করতে পারবেন সর্বোচ্চ ৪ লাখ টাকা। কোন প্রার্থী এর বেশি টাকা ব্যয় করলে সেটি নির্বাচনী আচরণ বিধি লংঘন হিসেবে ধরা হবে।’

প্রার্থীদের হলনামা থেকে জানা যায়, আওয়ামী লীগ মনোনীত (নৌকা প্রতীক) মুজিবুর রহমান তার নির্বাচনী ব্যয়ের সম্ভাব্য আয়ের উৎস হিসেবে দেখিয়েছেন নিজের ব্যবসা। সেখান থেকে সম্ভাব্য আয় আড়াই লাখ টাকা, আত্মীয়-স্বজন থেকে ধার বাবদ প্রাপ্ত অর্থ ৫০ হাজার টাকা, ছেলে কাছ থেকে প্রাপ্ত অর্থ এক লাখ টাকা। এসব অর্থ থেকে ৮০ হাজার টাকা পোস্টার বাবদ খরচ, ৩২ হাজার টাকা নির্বাচনী অফিস খরচ, ৩০ হাজার টাকা কেন্দ্রীয় অফিস খরচ, ৬০ হাজার টাকা যাতায়াত খরচ, ২৫ হাজার টাকা ঘরোয়া বৈঠক খরচ, ২০ হাজার টাকা লিফলেট খরচ, ২০ হাজার টাকা হ্যান্ডবিল খরচ, ১২ হাজার টাকা পথসভা খরচ, ২৫ হাজার টাকা মাইকিং খরচ, ১৮ হাজার টাকা ছবি বা প্রতীক তৈরি বাবদ খরচ, ৬ হাজার টাকা অফিস আপ্যায়ন খরচ, ২৫ হাজার দুইশ টাকা কর্মী বাবদ খরচ, ৫ হাজার টাকা স্থানীয় ডিস ক্যাবল লাইনে প্রচার বাবদ খরচ এবং ৩৫ হাজার টাকা ব্যানার রশি, বাঁশ, স্টেশনারি ও নমিনেশন বাবদ খরচ করবেন।

বিএনপি মনোনীত প্রার্থী (ধানের শীষ প্রতীক) রফিকুল ইসলাম তার হলফনামায় নির্বাচনী ব্যয়ের সম্ভাব্য উৎস হিসেবে দেখিয়েছেন নিজের ব্যবসা থেকে সম্ভাব্য আয় দুই লাখ টাকা ও ভাতিজার কাছ থেকে প্রাপ্ত দুই লাখ টাকা। ওই অর্থ থেকে তিনি ৮০ হাজার টাকা পোস্টার বাবদ খরচ, এক লাখ টাকা নির্বাচনী অফিস খরচ, ৫০ হাজার টাকা যাতায়াত খরচ, ৩৬ হাজার টাকা ঘরোয়া বৈঠক খরচ, ৩০ হাজার টাকা হ্যান্ডবিল খরচ, তিন হাজার ৬শ টাকা পথসভা খরচ, ২০ হাজার টাকা মাইকিং খরচ, ৯ হাজার নয়শ টাকা ছবি বা প্রতীক তৈরি বাবদ সম্ভাব্য খরচ, ১৫ হাজার টাকা অফিস আপ্যায়ন খরচ, ৩০ হাজার টাকা কর্মী বাবদ খরচ এবং ২৫ হাজার পাঁচশ টাকা বিবিধ খরচ করবেন।

স্বতন্ত্র প্রার্থী সরওয়ার কামাল তার নির্বাচনী ব্যয়ের সম্ভাব্য উৎস হিসেবে দেখিয়েছেন নিজের ব্যবসা থেকে সম্ভাব্য আয় চার লাখ টাকা। ওই অর্থ থেকে তিনি ৯০ হাজার টাকা পোস্টার বাবদ খরচ, এক লাখ টাকা নির্বাচনী অফিস খরচ, ২৫ হাজার টাকা কেন্দ্রীয় অফিস খরচ, ২৯ হাজার টাকা যাতায়াত খরচ, ২০ হাজার টাকা লিফলেট খরচ, ২০ হাজার টাকা পথসভা খরচ, ৪০ হাজার পাঁচশ টাকা মাইকিং খরচ, ১২ হাজার টাকা ছবি বা প্রতীক তৈরি বাবদ সম্ভাব্য খরচ এবং ৪৫ হাজার টাকা কর্মী বাবদ খরচ করবেন।

জাতীয় পার্টির প্রার্থী (লাঙ্গল প্রতীক) রহুল আমিন সিকদার তার নির্বাচনী ব্যয়ের সম্ভাব্য উৎস হিসেবে দেখিয়েছেন নিজের ব্যবসা ও পেশাগত সম্ভাব্য আয় দুই লাখ পাঁচ হাজার টাকা। ওই অর্থ থেকে তিনি ২০ হাজার টাকা পোস্টার বাবদ খরচ, ৩০ হাজার টাকা নির্বাচনী অফিস খরচ, ৫০ হাজার টাকা যাতায়াত খরচ, ২০ হাজার টাকা ঘরোয়া বৈঠক খরচ, ১২ হাজার টাকা পথসভা খরচ, ১০ হাজার টাকা মাইকিং খরচ, ৫ হাজার টাকা অফিস আপ্যায়ন খরচ, ৩০ হাজার টাকা কর্মী বাবদ খরচ, এবং ১০ হাজার টাকা বিবিধ খাতে খরচ করবেন।

ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ-এর প্রার্থী (হাতপাখা প্রতীক) জাহেদুর রহমান তার নির্বাচনী ব্যয়ের সম্ভাব্য উৎস হিসেবে দেখিয়েছেন নিজের ব্যবসা ও চাকরি থেকে সম্ভাব্য ৩০ হাজার টাকা, বোন ছাদেকা খানমের কাছ থেকে ধার বাবদ ৫০ হাজার এবং খালাত ভাইয়ের কাছ থেকে এক লাখ টাকা, আত্মীয়-স্বজন ব্যতিত অন্য তিন ব্যক্তির কাছ থেকে স্বে”ছাপ্রণোদিত দান হিসেবে এক লাখ ৫ হাজার টাকা। ওই অর্থ থেকে তিনি ২০ হাজার টাকা পোস্টার বাবদ খরচ, ৩৬ হাজার টাকা নির্বাচনী অফিস খরচ, ২০ হাজার টাকা কেন্দ্রীয় অফিস খরচ, ২০ হাজার টাকা যাতায়াত খরচ, ১৫ হাজার টাকা ঘরোয়া বৈঠক খরচ, পাঁচ হাজার টাকা লিফলেট খরচ, পাঁচ হাজার টাকা হ্যান্ডবিল খরচ, সাত হাজার দুইশ’ টাকা ব্যনার খরচ, ২০ হাজার টাকা ডিজিটাল ব্যানার খরচ, ১৫ হাজার টাকা পথসভা খরচ, ১০ হাজার টাকা পোর্ট্রেট খরচ, ২৫ হাজার টাকা ছবি বা প্রতীক তৈরি বাবদ সম্ভাব্য খরচ, ২০ হাজার টাকা অফিস আপ্যায়ন খরচ, ২০ হাজার দুইশ টাকা কর্মী বাবদ খরচ এবং ১০ হাজার টাকা স্থানীয় ডিস ক্যাবল লাইনে প্রচার বাবদ খরচ করবেন।