এখনও মানবাধিকার বঞ্চিত ২১ কোটি ৪০ লাখ নারী

বুধবার, ১১ জুলাই, ২০১৮ ১০:১৮:৫৯ পূর্বাহ্ণ
0
93
অনলাইন ডেস্ক:

আজ ১১ জুলাই, বিশ্ব জনসংখ্যা দিবস। বিশ্বায়নে জনসংখ্যা-চ্যালেঞ্জ ও পরিকল্পিত পরিবারের সুবিধাসমূহের ব্যাপারে জনগণের সচেতনতা বৃদ্ধি করাই এই দিবসটি পালনের লক্ষ্য। দিবসটির এবারের প্রতিপাদ্য হচ্ছে, ‘পরিকল্পিত পরিবার, সুরক্ষিত মানবাধিকার’।

প্রায় অর্ধ শতাব্দী আগে পরিবার পরিকল্পনা মৌলিক মানবাধিকার হিসেবে স্বীকৃতি পায়। তবে এখনও এ মানবাধিকার সর্বস্তরে বাস্তবায়ন সম্ভব হয়নি। বর্তমান বিশ্বে ২১ কোটি ৪০ লাখ (২১৪ মিলিয়ন) নারী তাদের অতি প্রয়োজনীয় জন্মনিয়ন্ত্রণ সামগ্রী ব্যবহারের সুযোগ থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। ফলে তারা অনকাঙ্ক্ষিত গর্ভধারণের শিকার হচ্ছেন।

এমন পরিস্থিতিতে বিশ্বের অন্যসব দেশের মতো বাংলাদেশেও আজ পালিত হচ্ছে বিশ্ব জনসংখ্যা দিবস। দিবসটি উপলক্ষে জনসংখ্যা ও উন্নয়নবিষয়ক বক্তৃতা, র‌্যালি, সেমিনার ও আলোচনা সভার আয়োজন করা হয়েছে।

এ উপলক্ষে পৃথক পৃথক বাণী দিয়েছেন রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। দিবসটি পালনের লক্ষ্যে জনগণের মাঝে সচেতনতা সৃষ্টিতে স্বাস্থ্য ও পরিবারকল্যাণ মন্ত্রণালয় বিস্তারিত কর্মসূচি গ্রহণ করেছে। কর্মসূচির মধ্যে রয়েছে র‌্যালি ও আলোচনা সভা।

রাজধানীতে মূল অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হবে ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে। স্পিকার ড. শিরীন শারমীন চৌধুরী এতে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকছেন।

এ উপলক্ষে আজ বুধবার সকাল সাড়ে ৮টার দিকে জাতীয় জাদুঘরের সামনে থেকে এক শোভাযাত্রা বের করা হয়। শোভাযাত্রাটি ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে এসে শেষ হয়। এছাড়া বাংলাদেশ টেলিভিশন, বাংলাদেশ বেতার ও প্রাইভেট চ্যানেলগুলো বিশেষ কর্মসূচি সম্প্রচার এবং বিভিন্ন জাতীয় দৈনিকগুলো বিশেষ ক্রোড়পত্র প্রকাশ করেছে।

পরিবার পরিকল্পনা অধিদফতরের তথ্যমতে, দেশে এখনও ৫৯ ভাগ মেয়ের বিয়ে ১৮ বছর পূর্ণ হওয়ার আগে হয়। ১৫ থেকে ১৯ বছর বয়সী বিবাহিত নারীর মধ্যে ৩১ ভাগ প্রথম বা দ্বিতীয়বার গর্ভবতী হন। এই বয়সী কিশোরীদের পরিবার পরিকল্পনা পদ্ধতি ব্যবহারের হার ৪৭ শতাংশ। আধুনিক পরিবার পরিকল্পনা পদ্ধতি গ্রহণের হার ৫৪ দশমিক ১ ভাগ এবং ড্রপ আউটের হার ৩০ শতাংশ। এখনও ৬২ ভাগ নারীর সন্তান প্রসব হয় বাড়িতে।

শুধু তাই নয়, দেশে এখনও পরিবার থেকে কন্যাশিশুর বিয়ের সিদ্ধান্ত নেয়া হয়। এমনকি বিয়ের পর সন্তান নেয়ার ক্ষেত্রে তাদের কোনো ভূমিকাও থাকে না। ফলে বাল্যবিয়ে, শিশু বিবাহ, সন্তান গ্রহণ, মাতৃমৃত্যু, শিশুমৃত্যু ইত্যাদি ক্ষেত্রে লক্ষ্যমাত্রা অর্জন বাধাগ্রস্ত হচ্ছে।

প্রসঙ্গত, ১৯৮৯ সালে জাতিসংঘ উন্নয়ন কর্মসূচির গভর্নিং কাউন্সিল জনসংখ্যা ইস্যুতে গুরুত্ব প্রদান ও জরুরি মনোযোগ আকর্ষণের লক্ষ্যে বিশ্বব্যাপী ১১ জুলাই বিশ্ব জনসংখ্যা দিবস পালনের সিদ্ধান্ত নেয়।