ছাত্রলীগ নেতাকে চাকরি দিতে ইবির নিয়োগ বোর্ড স্থগিত!

বুধবার, ১১ জুলাই, ২০১৮ ১০:৫৪:২৩ পূর্বাহ্ণ
0
101
ইবি প্রতিনিধি:

ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের ফিন্যান্স অ্যান্ড ব্যাংকিং বিভাগের শিক্ষক নিয়োগ নির্বাচনী বোর্ড চতুর্থবারের মত স্থগিত হয়েছে। সাবেক এক ছাত্রলীগ নেতাকে চাকরির সুযোগ করে দিতেই প্রশাসন এবার শিক্ষক নিয়োগ নির্বাচনী বোর্ড স্থগিত করেছে বলেঅভিযোগ পাওয়া গেছে। ওই ছাত্রলীগ নেতা হলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক কমিটির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ও ফিন্যান্স অ্যান্ড ব্যাংকিং বিভাগের ২০০৯-১০ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী আনিচুর রহমান আনিচ। বর্তমানে তিনি কুষ্টিয়া সদর থানা ছাত্রলীগের আহবায়ক।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, ওই নিয়োগের জন্য আবার নতুন করে বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হবে। একইসঙ্গে পদসংখ্যা (প্রভাষক) একটি বাড়িয়ে তিনটি করা হবে। আনিচুর রহমানকে চাকরি দিতেই প্রশাসন ওই শিক্ষক নিয়োগের নতুন করে বিজ্ঞপ্তি এবং পদের সংখ্যা বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নিচ্ছে বলে জানা গেছে।

এদিকে, ইউজিসির নিষেধাজ্ঞা, নিয়োগ বাণিজ্যের অডিও ফাঁস, স্থানীয় চাকরী প্রত্যাশী ও ছাত্রলীগ নেতাদের চাপে এর আগে তিন বার শিক্ষক নিয়োগ স্থগিত হলেও এবার স্থগিত হওয়ার কারণ ভিন্ন।২০১৫ সালের ২০ অক্টোবর তৎকালীন উপাচার্য অধ্যাপক ড. আব্দুল হাকিম সরকারের সময়ে ফিন্যান্স বিভাগের নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশিত হয়। এতে দুইটি পদের বিপরীতে ২৪ জন প্রার্থী আবেদন করে।

আবেদনের নির্ধারিত সময়ে আনিচুর রহমানের মাস্টার্সের পরীক্ষা ও ফলাফল না হওয়ায় আবেদন করতে পারেননি। শুরু থেকেই আনিচ যে কোনো উপায়ে শিক্ষক নিয়োগ প্রক্রিয়া বাতিলের পক্ষপাতী ছিলেন। কারণ নতুন বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে তার নিজের জন্য সুযোগ তৈরি হবে।

স্থানীয় চাকরী প্রত্যাশীদের বাধা,তৎকালীন বিভাগীয় সভাপতি ড. রুহুল আমিনের নিয়োগ বাণিজ্য সংক্রান্ত অডিও ফাঁস, ইউজিসির নিষেধাজ্ঞা সহ বেশ কিছু কারণে পর পর তিনবার শিক্ষক নিয়োগ নির্বাচনী বোর্ড (লিখিত ও মৌখিক পরীক্ষা) স্থগিত হয়।

জানা যায়, আগের তিন বার কোনো ধরনেই ছক ছাড়াই ওই বোর্ড স্থগিত হয়ে যায়। চতুর্থবার আর কোনো উপায় না দেখে আনিচ সরাসরি প্রশাসনের কর্তাব্যক্তিদের শরণাপন্ন হন। শেষ পর্যন্ত এই ছাত্রলীগ নেতার যোগসাজশে গতকালের (৯জুলাই) বোর্ডও (লিখিত ও মৌখিক পরীক্ষা) স্থগিত করে প্রশাসন। একইসঙ্গে শিক্ষক নিয়োগের পূর্বের প্রক্রিয়া বাতিল করে নতুন করে নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশেরও অভিযোগ পাওয়া গেছে। এজন্য আনিচকে নিয়োগ দিতে দুইটি পদ বাড়িয়ে তিনটি করার  প্রক্রিয়া চলছে বলে জানা যায়।

উল্লেখ্য, সোমবার (৯ জুলাই) ফিন্যান্স অ্যান্ড ব্যাংকিং বিভাগের শিক্ষক নির্বাচনী বোর্ড হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু অনিবার্য কারণ দেখিয়ে বিশ্ববিদ্যালয় কতৃপক্ষ নির্বাচনী বোর্ড স্থগিত করে। এ নিয়ে চতুর্থ বার ওই বিভাগের শিক্ষক নির্বাচনী বোর্ড (লিখিত ও মৌখিক পরীক্ষা) স্থগিত হয়।