বেলজিয়ামকে হারিয়ে ফাইনালে ফ্রান্স

বুধবার, ১১ জুলাই, ২০১৮ ১০:০৬:৫৮ পূর্বাহ্ণ
0
103
স্পোর্টস ডেস্ক:

সেমিফাইনালের হাইভোল্টেজ ম্যাচে বেলজিয়ামকে ১-০ গোলে হারিয়ে রাশিয়া বিশ্বকাপের ফাইনালে ফ্রান্স। ফরাসিদের পক্ষে জয়সূচক গোলটি করেন স্যামুয়েল উমিতি। তার দেওয়া একমাত্র গোলে রাশিয়া বিশ্বকাপের ফাইনালের টিকেট পেল ফ্রান্স। আর তাতে স্বপ্নযাত্রা থাকল টুর্নামেন্টের ডাকহর্স বেলজিয়ামের। এই জয়ে ২০০৬ সালের পর আবারও ফাইনালে উঠলো ফ্রান্স। আগামী ১৫ জুলাই মস্কোর লুঝনকি স্টেডিয়ামে রাশিয়া বিশ্বকাপের ফাইনালে ইংল্যান্ড অথবা ক্রোয়েশিয়ার মুখোমুখি হবে হ্যাজার্ড-এমবাপ্পেরা।

জমজমাট এই ম্যাচে প্রথম মিনিট থেকেই ছিল উত্তেজনায় ঠাসা। প্রথমার্ধে দুই দলই চালিয়েছে আক্রমণ, পাল্টা আক্রমণ। ম্যাচের ১৫তম মিনিটেই এগিয়ে থাকার সুযোগ ছিল বেলজিয়ামের। তবে অফ টার্গেটে গোলবারের পাশ দিয়ে চলে যায় হ্যাজার্ডের শট। এরপর ১৮ তম মিনিটে ফ্রান্সও এগিয়ে থাকতে পারতো। তবে মাতুইদির শট আটকে দেন বেলজিয়ামের গোলরক্ষক কোর্তো।

ম্যাচের ২১তম মিনিটে গোলরক্ষক হুগো লরিসের দৃঢ়তায় আবারো বেঁচে যায় ফ্রান্স। প্রায় ১৪ গজ দূর থেকে শট নিয়েছিলেন টবি আল্ডারওইরেল্ড।

৩১তম মিনিটে ফ্রান্সের সামনে সুযোগ তৈরি হয়েছিল। কিন্তু ফরাসি ফরোয়ার্ড জিরুডের হেডে বল চলে যায় সাইডবারের সামান্য পাশ দিয়ে। ৩৯তম মিনিটে আবারও সুযোগ পায় ফ্রান্স। ডি-বক্সের মধ্যে থেকে গোলপোস্ট লক্ষ্য করে শট নেন প্যাভার্ড। কিন্তু বল গোলরক্ষক কোর্তোয়ার গায়ে লেগে চলে যায় গোললাইনের বাইরে। পুরো প্রথমার্ধ পাওয়ার ফুটবলের প্রদর্শনী দেখালেও প্রথমার্ধে গোলবঞ্চিতই থাকতে হয়েছে ফ্রান্স-বেলজিয়ামকে।

পরিসংখ্যান বলছে, প্রথমার্ধে ৬০ ভাগ বল দখলে রেখেছে বেলজিয়াম। অন্যদিকে ফ্রান্সের ৪০ ভাগ। কিন্তু প্রথমার্ধের বেশির ভাগ সময়ই মাঠে রাজত্ব করেছে দেশমের শিষ্যরা। যেমন গোলের লক্ষ্যে ফরাসিদের শট ছিল ১১টি। বিপরীতে বেলজিয়ামের ছিল মাত্র তিনটি।

অবশেষে দ্বিতীয়ার্ধের ৫১ তম মিনিটে আন্তোনি গ্রিজম্যানের কর্নার থেকে দুর্দান্ত হেডে বেলজিয়ামের গোলরক্ষককে পরাস্ত করেন বার্সেলোনার তারকা স্যামুয়েল উমিতি। ম্যাচের ৫৫ তম মিনিটে বেলজিয়াম দুর্গে আরেকটি হামলা চালাতে পারতেন মাতুইদি। তবে ভুল শটে ব্যবধান বাড়াতে পারেনি ফ্রান্স। এরপরের মিনিটেই জিরুদের দুর্দান্ত শট ফিরিয়ে দেন বেলজিয়ান ডিফেন্ডাররা।

ম্যাচের ৬০ তম মিনিটে সমতায় আসার সুযোগ ছিল বেলজিয়ামের। কেভিন ডু ব্রেইনের দুর্বল হেডের কারণে গোলবঞ্চিত হয়েছে বেলজিয়াম। এরপর মার্টিনের দুর্দান্ত শটও আটকে দেন লরিস। ৮০ মিনিটে দূরপাল্লার দারুণ এক শট নিয়েছিলেন আলেক্স উইসেল। দারুণ দক্ষতায় সে শট ফিরিয়ে দেন ফরাসী গোলরক্ষক। এরপর ফ্রান্সকে চেপে ধরেও ধারালো কোন আক্রমণ করতে পারেনি বেলজিয়াম। উল্টো ম্যাচের যোগ করা সময়ে ব্যবধান বাড়ানোর সুযোগ ছিল ফ্রান্সের। যোগ করা সময়ের তৃতীয় মিনিটে ফাঁকায় শট নিয়েও কোর্তোকে পরাস্ত করতে পারেননি গ্রিজম্যান। দুই মিনিট পর কোরেনতিন তিলিসোও ফাঁকায় পেয়েছিলেন। তার শট ঝাঁপিয়ে পড়ে রক্ষা করেন কোর্তো।

১৯৮৬ সালের পর আরও একবার সেমিফাইনালে উঠে সুযোগ হাতছাড়া করল রবার্তো মার্টিনেজের শিষ্যরা। সেমিফাইনালে বেলজিয়ামকে হারিয়ে ফাইনালে উঠে গেল ১৯৯৮’র চ্যাম্পিয়ন ফ্রান্স। কে হবে তাদের প্রতিপক্ষ, ইংল্যান্ড নাকি ক্রোয়েশিয়া?