সরকারের হুমকির মুখে আত্মসমর্পন করেছে ইসি: রিজভী

শুক্রবার, ১৩ জুলাই, ২০১৮ ১১:৩৮:০৬ পূর্বাহ্ণ
0
100
নিজস্ব প্রতিবেদক:

বিনা ওয়ারেন্টে কাউকে গ্রেফতার করা যাবে না- এমন নির্দেশনা থেকে নির্বাচন কমিশনের সরে আসার সিদ্ধান্ত সরকারের হুমকির মুখে ইসির প্রতিরোধহীন আত্মসমর্পন বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী।

শুক্রবার সকালে রাজধানীর নয়াপল্টন বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ মন্তব্য করেন।

রুহুল কবির রিজভী বলেন, বিনা ওয়ারেন্টে কাউকে গ্রেপ্তার করা যাবে না- এমন নির্দেশনা থেকে সরে এসেছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। বৃহস্পতিবার (১২ জুলাই) ইসির সঙ্গে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর বৈঠক শেষে সিইসি এ কথা জানান।  এ সিদ্ধান্ত সরকারের হুমকির মুখে ইসির প্রতিরোধহীন আত্মসমর্পন। আগামী নির্বাচনগুলোতে সরকার খুলনা-গাজীপুর মার্কা নতুন মডেলের ভোট সন্ত্রাসের নির্বাচন নির্বিঘ্ন করতেই ইসি তার আগের সিদ্ধান্ত থেকে সরে আসতে বাধ্য হয়েছে।

আইনশৃঙ্খলাবাহিনীর মামলা হামলার হুমকির মুখে নেতাকর্মীদের সিটি কর্পোরেশন নিজ এলাকার বাহিরে অন্যত্র পালিয়ে বেড়াতে হচ্ছে অভিযোগ করে তিনি বলেন, সিটি করপোরেশনে গ্রেপ্তারের হিড়িকতো চলছেই। রাজশাহীতে ধানের শীষের প্রার্থী মোসাদ্দেক হোসেন বুলবুল নির্বাচনী অনাচারে লিপ্ত কাশিয়া ডাঙ্গা থানার ওসি ও গোয়েন্দা পুলিশের ওসির প্রত্যাহার চাইলেও নির্বাচন কমিশনের স্থানীয় কর্মকর্তারা অভিযোগে কান না দিয়ে আকাশের দিকে চেয়ে থাকেন।

রাজশাহীতে গোটা  শহরজুড়ে ক্ষমতাসীন দলের প্রার্থী এমনভাবে পোষ্টার সেঁটেছেন যে সেখানে অন্য কারও পোষ্টার লাগানোর কোন জায়গাই নেই।  সিলেটে ধানের শীষের প্রার্থী আরিফুল হক চৌধুরীর নির্বাচনী প্রচারণা বিরত রেখে থানার সামনে অনশন করতে হচ্ছে গ্রেপ্তারকৃত নেতা-কর্মীদের মুক্তির জন্য।

বরিশাল ও রাজশাহীতে সরকারি দলের পক্ষ থেকে কালো টাকার ছড়াছড়ি চলছে অভিযোগ করে বিএনপির এ মুখপাত্র বলেন, অস্বাভাবিক টাকা খরচ দৃশ্যমান হলেও সেখানে নির্বাচনী কর্মকর্তারা মুখে কুলুপ এঁটে বসে আছেন। বরিশালে বিএনপির সমর্থকদের নির্বাচনী প্রচারনায় বাধা দেওয়া হচ্ছে। ধানের শীষের পোষ্টার ছিড়ে ফেলছে, মাইক ভাঙচুর করছে, সমর্থকদের মারধর করছে।

বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়াকে রাজনৈতিকভাবে গ্রেপ্তার করা হয়নি- প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার এ বক্তব্যের সমালোচনা করে তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্য সত্যের অপলাপ। সরকার প্রধান যে প্রতিহিংসার বশবর্তী হয়ে বেগম খালেদা জিয়াকে যে কারাগারে আটকে রাখবেন তার আরও প্রমাণ রয়েছে। যেমন, তথ্যমন্ত্রী হাসানুল হক ইনুসহ মন্ত্রী ও আওয়ামী লীগের নেতারা বিগত কয়েক বছর ধরে বলে আসছেন, বেগম জিয়ার জন্য কারাগারের সেল প্রস্তত করা হয়েছে। সুতরাং রাজনৈতিক উদ্দেশ্যেই বেগম জিয়াকে মিথ্যা তথ্যের উপর ভিত্তি করে সাজানো মামলায় ক্যাঙ্গারু আদালত কর্তৃক সাজা দিয়ে বন্দী করে রাখা হয়েছে এটি বোঝার জন্য বেশী কষ্ট করতে হয় না।

শেখ হাসিনার জিঘাংসার শিকার বেগম খালেদা জিয়া অভিযোগ করে বিএনপির এই সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব বলেন, খালেদা জিয়া জনপ্রিয়তা শেখ হাসিনার জন্য অসহ্যের কারণ। অবৈধ ক্ষমতার মৌতাতে বুঁদ হওয়া নিষ্ঠুর একদলীয় চেতনার শেখ হাসিনা কখনই বেগম জিয়ার সাফল্য ও জনপ্রিয়তাকে একেবারেই মেনে নিতে পারেন না বলেই তাকে জনবিচ্ছিন্ন করতে কারাগারে বন্দী করে রেখেছেন। শেখ হাসিনা একতরফা নির্বাচন করার জন্য বেগম খালেদা জিয়াকে মিথ্যা মামলার নাটক সাজিয়ে সাজা দিয়ে কারাবন্দী করেছেন। প্রধানমন্ত্রীর উদ্দশ্যে পরিস্কার করে বলতে চাই, আপনি যতই ষড়যেন্ত্রের জাল বুনতে থাকুন না কেন বেগম জিয়াকে ছাড়া কোন নির্বাচন হবে না জনগন হতে দেবে না।

হাইকোর্টের রায় থাকায় মুক্তিযোদ্ধা কোটা বাতিল করা সম্ভব নয়-  প্রধানমন্ত্রীর এ বক্তব্যের সমালোচনা করে তিনি বলেন, শেখ হাসিনা ছাত্রদের তুমুল আন্দোলনের মুখে কোটা বাতিলের কথা কেন বলেছিলেন? তখনতো হাইকোর্টের রায় ছিল। তখন তার মুক্তিযোদ্ধাদের কথা মনে হয়নি। মুক্তিযুদ্ধ মুক্তিযোদ্ধাদের প্রতি শেখ হাসিনার দরদ ভাঁওতাবাজি ছাড়া আর কিছুই নয়।

রিজভী বলেন, সংসদে প্রধানমন্ত্রীর জাতির উদ্দেশ্যে যে কোন ঘোষণা মানেই সেটি আইনের সমতুল্য এবং তা কার্যকর হতে হবে। আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা কোটা বাতিল চায়নি তারা কোট সংস্কার চেয়েছিল। প্রধানমন্ত্রীর গতকালের বক্তব্যে এটা এখন সুস্পষ্ট যে, তিনি ছাত্র আন্দোলনকে বিভ্রান্ত করতেই সেদিন প্রতারণার আশ্রয় নিয়েছিলেন। মিথ্যা প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন।