আতঙ্কিত হওয়ার কিছু নেই: প্রধানমন্ত্রী

শনিবার, ১৪ জুলাই, ২০১৮ ১০:৪৫:৩২ পূর্বাহ্ণ
0
157
বিশেষ প্রতিবেদক:

পরমাণু বিদ্যুৎকেন্দ্র সুরক্ষায় সব ধরনের পদক্ষেপ নেয়া হয়েছে জানিয়ে এ নিয়ে আতঙ্কিত না হতে দেশবাসীকে আশ্বস্ত করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

শনিবার পাবনার রূপপুরে পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের দ্বিতীয় ইউনিট নির্মাণে কনক্রিট ঢালাই কাজ উদ্বোধন করে এই আশ্বাসবাণী দেন প্রধানমন্ত্রী।

তিনি বলেন, কিছু মহল নানা ধরনের ভয়ভীতি সৃষ্টি করে। কোনো কাজ করতে গেলে অনেক কথা হয়।  এখানে উদ্বেগের কিছু নেই। ভয়ের কোনো কারণ নেই। এখন পারমাণবিক বিদ্যুতে উন্নত ও আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহৃত হচ্ছে। ফলে এখানে কোনো সমস্যা সৃষ্টি হবে- সেটা আমরা মনে করি না।

প্রধানমন্ত্রী আরো বলেন, বিশেষ করে নিরাপত্তার দিকটা আমরা অত্যন্ত গুরুত্ব দিয়েছি। এক্ষেত্রে রাশিয়া ও ভারত বাংলাদেশের জনবলকে প্রশিক্ষিত করছে। এই বিদ্যুৎকেন্দ্রের নিরাপত্তার জন্য পুলিশ, সেনাবাহিনীসহ আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সমন্বয়ে একটি ইউনিট গড়ে তোলা হয়েছে।

তিনি বলেন, পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের বর্জ্যও নিয়ে যাওয়ার দায়িত্ব রাশিয়া নিয়েছে। কাজেই কারো কোনো আতঙ্কগ্রস্ত হওয়ার কিছু নেই। বাংলাদেশ পরমাণু শক্তি শান্তির জন্য ব্যবহার করবে বলেও জানান প্রধানমন্ত্রী।

এর আগে পাবনার রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের দ্বিতীয় ইউনিটের প্রথম কংক্রিট ঢালাই কাজের উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। এই প্রকল্পের প্রথম ইউনিটের কাজ এগিয়ে চলার মধ্যেই দ্বিতীয়টির উদ্বোধন করা হলো।

শনিবার বেলা ১২টায় ডিজিটাল বোতাম চেপে এবং সিমেন্টের ঢালাই দিয়ে এই কাজের উদ্বোধন করেন তিনি। এ সময় রাশিয়ার উপপ্রধানমন্ত্রী ইউরি ইভানোভিচ বোরিসভ প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে ছিলেন। তিনিও প্রতীকী পিলারে কংক্রিট ঢালেন। এরপর অন্য অতিথিরাও সেখানে কংক্রিট ঢালেন।

তবে মূল সাইটে যেখানে কংক্রিট ঢালা হচ্ছে, সেখানে হাতের ছোঁয়া ছিল না। বিশাল একটি ক্রেনের সাহায্যে সেখানে কংক্রিট ঢালার ব্যবস্থা ছিল। এই কংক্রিট মেশানোতেও হাতের ছোঁয়া নেই। যন্ত্রের মাধ্যমে মেশানো হচ্ছে পাথর, সিমেন্ট, বালু।

প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে ছিলেন কৃষিমন্ত্রী মতিয়া চৌধুরী, ভূমিমন্ত্রী শামসুর রহমান শরীফ,  সেনাপ্রধান জেনারেল আজিজ আহমেদও।

এদিকে রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রের দ্বিতীয় ইউনিটের প্রথম কংক্রিট ঢালাই উপলক্ষে দেয়া এক বাণীতে প্রধানমন্ত্রী বলেন, নির্ধারিত সময়েই রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রের নির্মাণ কাজ শেষ হবে। মাত্র সাত মাস আগে, ২০১৭ সালে প্রথম ইউনিটের প্রথম কংক্রিট ঢালাই শুরু করা হয়। সে ইউনিটের নির্মাণ কাজ অনেক দূর এগিয়েছে। এবার শুরু হলো দ্বিতীয় ইউনিটের নির্মাণ।

২০১০ সালের ২১ মে পরমাণু বিদ্যুৎকেন্দ্র বাস্তবায়নের জন্য বাংলাদেশ ও রাশিয়ান ফেডারেশনের মধ্যে চুক্তি হয় মস্কোতে। এরপর ২০১৫ সালের ২৫ ডিসেম্বর ২ হাজার চারশ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন ক্ষমতার দুটি চুল্লি নির্মাণে রাশিয়ার এটমস্ট্রয় এক্সপোর্টের সঙ্গে চুক্তি করে বাংলাদেশ।

গত বছরের ৩০ নভেম্বর শেখ হাসিনা রূপপুরে পরমাণু চুল্লির জন্য কংক্রিটের মূল স্থাপনা নির্মাণ উদ্বোধন করেছিলেন। পরমাণু প্রযুক্তি ব্যবহার করে বিদ্যুৎ পাওয়ার এই উদ্যোগটি বাংলাদেশের স্বপ্নের প্রকল্প।