কক্সবাজার পৌরসভা নির্বাচন ‘অহিংস’ দেখতে চায় বিএনপি

শনিবার, ১৪ জুলাই, ২০১৮ ১১:৪৪:৪৬ পূর্বাহ্ণ
0
155
?
কক্সবাজার প্রতিনিধি:

কক্সবাজার পৌরসভা নির্বাচনকে কেন্দ্র করে অপ্রীতিকর ঘটনা ও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতির আশংকা প্রকাশ করেছে বিএনপি। শুক্রবার সকাল ১১টায় জেলা বিএনপির কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এ আশংকা প্রকাশ করা হয়। জেলা পর্যায়ে দায়িত্বশীল বিএনপি’র নীতি নির্ধারকরা বলেছেন, এ নির্বাচন তারা ‘অহিংস’ ও উৎসমুখর পরিবেশে দেখতে চায়। যেখানে ভোটাররা নির্বিঘ্নে কেন্দ্রে গিয়ে তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পারবেন।

জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ও নির্বাচন পরিচালনা কমিটির আহ্বায়ক শামীম আরা স্বপ্না বলেন, ‘বর্তমানে বিভিন্ন জায়গায় আমাদের কর্মীদের হুমকি-ধমকি দেয়া হচ্ছে। তাদেরকে নির্বাচনী প্রচারণা থেকে বিরত থাকার জন্য হুমকি দেয়া হচ্ছে। এজেন্ট হিসেবে দায়িত্ব না নেয়ার জন্য তাদের বলা হচ্ছে। বিষয়টি আমরা লিখিতভাবে নির্বাচন কমিশনকে জানাবো।’

তিনি বলেন, ‘কক্সবাজারে আগে থেকে কোন সহিংসতা নেই। হানাহানি, মারামারি নেই। এখানে পর্যটন শহরকে ভাল রাখার জন্য সরকারি দল, বিরোধী দল সবাই আমরা পাশাপাশি কাজ করে যাচ্ছি সহিংসতার ঊর্ধ্বে থেকে। সেটা আপনারা বিগত এত বছর ধরে দেখেছেন। সামনেও আমরা অহিংস একটি নির্বাচন চাই। একটি সুষ্ঠু, সুন্দর নির্বাচন চাই। জনগণের ভোট দেয়ার অধিকার চাই।’

জেলা বিএনপির সভাপতি শাহজাহান চৌধুরী বলেন, ‘এবার আমরা পরিচ্ছন্ন একজন প্রার্থীকে মনোনয়ন দিয়েছি। যিনি বিগত প্রায় ২৭ বছর যাবত নির্বাচিত জনপ্রতিনিধি হিসেবে দায়িত্ব পালন করে আসছেন। তিনি প্রতিদিন সকাল ৯ টা থেকে দুপুর ২ টা পর্যন্ত অফিস করেন এবং নিজের ওয়ার্ডের জনসাধারণকে প্রয়োজনীয় নাগরিক সেবা দিয়ে আসছেন। রফিকুল ইসলাম একজন পরীক্ষিত প্রার্থী। তিনি সমস্ত নিয়ম মেনেই নির্বাচনে অংশ নিচ্ছেন। অথচ আওয়ামী লীগের প্রার্থী নিয়ম-কানুনের কোন তোয়াক্কা করছেন না। এক একটি ওয়ার্ডে ১০/১২টি পর্যন্ত নির্বাচনী অফিস করেছেন তিনি।’

১১ নম্বর ওয়ার্ডের ৩ টি কেন্দ্রে ইভিএম পদ্ধতি ভোট গ্রহণের উদ্যোগের প্রসঙ্গ তুলে ধরে তিনি বলেন, ‘আমাদের প্রার্থীর নির্বাচনী এলাকায় কেন শুধু ইভিএম পদ্ধতি প্রয়োগ করা হবে? যদি করতে হয় তিন প্রার্থী রফিকুল ইসলাম, মুজিবুর রহমান এবং সরওয়ার কামালের নির্বাচনী এলাকায় একটি করে কেন্দ্রে এ পদ্ধতি প্রয়োগ করা হোক। কারণ ইভিএম পদ্ধতিতে ভোট গ্রহণের ক্ষেত্রে না অভিযোগ রয়েছে। এ পদ্ধতিতে ভোট কম কাস্ট হয়। আরও নানা ত্রুটি রয়েছে। শুধু রফিকুল ইসলামের নির্বাচনী এলাকায় ইভিএম পদ্ধতিতে ভোট গ্রহণ করা হলে আমরা সেটি মেনে নেবো না। প্রয়োজনে বৃহত্তর আন্দোলন কর্মসূচি হাতে নেয়া হবে।’

কক্সবাজার রামু-আসনের সাবেক সাংসদ, বিএনপির কেন্দ্রীয় মৎস্যজীবী বিষয়ক সম্পাদক লুৎফুর রহমান কাজল বলেন, ‘আমরা একটি উৎসব মুখর নির্বাচন চাই। যেখানে ভয়ভীতি ছাড়া যার যার ভোট সে প্রয়োগ করতে পারবে। পাঁচটি নির্বাচনী অফিস করার কথা থাকলেও ইতোমধ্যে আওয়ামী লীগের প্রার্থীর একশ’টিরও বেশি নির্বাচনী অফিস করা হয়েছে। অথচ নির্বাচন কমিশন এ বিষয়ে কোন ধরনের ব্যবস্থা নিচ্ছে না।’

তিনি বলেন, ‘বিভিন্ন জায়গা থেকে আমাদের কাছে অভিযোগ আসছে। তার মধ্যে ২ নম্বর ওয়ার্ডে আমাদের নেতৃবৃন্দ বলছে, নৌকার প্রার্থীর পক্ষের লোকজন আমাদের ক্যাম্পেইন করতে দিচ্ছে না। সম্ভাব্য যারা এজেন্ট থাকবেন তাদের বাধা দেওয়া হচ্ছে। তাদের বলা হচ্ছে, নৌকাতেই ভোট দিতে হবে। আমাদের মুজিব ভাই  (আওয়ামী লীগের মনোনীত প্রার্থী মুজিবুর রহমান) এক নম্বর ওয়ার্ডে বক্তব্য দিতে গিয়ে প্রকাশ্যে নাকি বলেছেন, যদি আমাকে ভোট না দেন তাহলে আপনারা কেন্দ্রে আসবেন না। এটি আচরণবিধির লঙ্ঘন। এ ব্যাপারে আমরা প্রশাসনের দৃষ্টি আকর্ষণ করছি।’ বিএনপির প্রার্থী রফিকুল ইসলামকে এবারের মেয়র প্রার্থীদের মধ্যে ‘সবচেয়ে যোগ্য এবং সেরা প্রার্থী’ বলেও মন্তব্য করেন লুৎফুর রহমান কাজল।

বিএনপির মনোনীত মেয়র প্রার্থী রফিকুল ইসলাম বলেন, আমার নির্বাচনী এলাকায় তিনটি কেন্দ্রে ইভিএম পদ্ধতিতে ভোট চালু করেছে। এটি একটি ষড়যন্ত্র। আমাকে ঘায়েল করার জন্য, নির্বাচনে হারানোর জন্য এ সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়েছে। তারা চাইলে টেকপাড়া, বাহারড়া এবং দুই নম্বর ওয়ার্ডের একটি কেন্দ্রে এই পদ্ধতির ভোট গ্রহণ চালু করতে পারতো। এখন আমার মনে হচ্ছে কক্সবাজারের নির্বাচন কমিশন আওয়ামী লীগের প্রার্থীর পক্ষ হয়ে কাজ করছে। আমার আবেদ হচ্ছে, আমারা নির্বাচনী এলাকায় যে তিনটি কেন্দ্রে ইভিএম পদ্ধতিতে ভোট নেওয়ার কথা বলা হচ্ছে সেগুলো অন্যত্র স্থানান্তর করা হোক। অন্যথায় সাধারণ ভোটাররা আতঙ্কগ্রস্ত হবে। আচরণবিধি লঙ্ঘন করে আওয়ামী লীগের প্রার্থীর শতাধিক নির্বাচনী অফিস করা হয়েছে। মানুষকে হুমকি-ধমকি দিয়ে ভোট আদায় করার চেষ্টা করা হচ্ছে। আমরা এর প্রতিকার চাই। কক্সবাজার আওয়ামী লীগ, বিএনপি এবং জামায়াত সৌহার্দ্যপূর্ণ পরিবেশে রয়েছে। এ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে যদি এ ধরনের ঘটনা ঘটতে থাকে তাহলে কক্সবাজারের শান্ত পরিবেশ অশান্ত হওয়ার আশংকা রয়েছে। আইনশৃঙ্খলার অবনতি হওয়ার আশংকা রয়েছে।’

জেলা বিএনপির দপ্তর সম্পাদক ইউছুপ বদরীর সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত সংবাদ সম্মেলনে অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য রাখেন জেলা বিএনপির সহ-সভাপতি এটিএম নুরুল বশর চৌধুরী, কক্সবাজার পৌর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ও নির্বাচন পরিচালনা কমিটির সদস্য সচিব রাশেদ মোহাম্মদ আলী প্রমুখ।

প্রসঙ্গত, কক্সবাজার পৌরসভা নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে আগামী ২৫ জুলাই।