নড়াইলে সেনাবাহিনীর ভুয়া নিয়োগ পত্র দিয়ে দেড় কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগ

শনিবার, ১৪ জুলাই, ২০১৮ ১২:৩৫:২৪ অপরাহ্ণ
0
269

 

এস.এম. হালিম মন্টু নড়াইল :

নড়াইলে সেনাবাহিনীর ভুয়া নিয়োগ পত্র দিয়ে কমপক্ষে ৩০ যুবকের কাছ থেকে দেড় কোটি টাকা আত্মসাত করেছে বলে অভিযোগ উঠেছে। ঘটনাটি ঘটিয়েছে কালিয়া উপজেলার মাউলি ইউনিয়নের কাঠাধুরা গ্রামের প্রতারকর রমজান সিকদার। অসহায় গরীব এসব মানুষের কাছ থেকে টাকা নিয়ে আলিশান বাড়ি নির্মান করছেন প্রতারক রমজান সিকদার । ভুয়া নিয়োগপত্র বিষয়টি জানাজানি হলে এলাকা থেকে পালিয়েছে প্রতারক রমজান সিকদার ।

ভুক্তভুগি ও এলাকাবাসী জানান, রমজান সিকদার তার শ্যালক সেনাবাহিনীর ওয়ারেন্ট অফিসার এর মাধ্যমে চাকুরি দেওয়ার নামে জেলার কালিয়া ও লোহাগড়া উপজেলার বিভিন্ন এলাকার কমপক্ষে ৩০জন যুবককে সেনাবাহিনীর মালি পদে ভুয়া নিয়োগপত্র দিয়ে তাদের কাছ থেকে ৫ লক্ষ থেকে ৭ লক্ষ টাকা করে নেয় । বাকি আরো ১৯জনকে নিয়োগ দেওয়ার কথা বলে ঘুরাতে থাকে শুধু তাই নয় সে জেলার বাইরে গোপালগঞ্জ ও খুলনার বেশ কয়েকজন যুবকের কাছ থেকেও টাকা হাতিয়ে নেয় বলে ভুক্তভোগীরা জানান ।

কালিয়া উপজেলার শুক্তগ্রামের জুলু মোড়ল বলেন, রমজানের সাথে দীর্ঘ দিনের পরিচয় সে সুবাদে রমজান তাকে বলে তোর ছেলেকে সেনাবাহিনীর চাকুরী দিয়ে দিব। তোকে আর কষ্ট করতে হবেনা। আমি তার কথায় বিশ্বাস করে জমি বিক্রি করে এবং এলাকা থেকে সুদে টাকা নিয়ে রমজানের হাতে ৫ লক্ষ টাকা তুলে দেই । রমজানের আমার ছেলেকে ঢাকায় নিয়ে একটি হোটেলে রেখে একটি নকল নিয়োগ পত্র দিয়েছে।তিনি আরো বলেন, রমজান তাকে বলেছে বিষয়টি নিয়ে কোন বাড়াবাড়ি করিসনা ।

নড়াগাতি থানার মাউলি গ্রামের সাদিয়ার মুছল্লী বলেন, মালি পদে চাকুরী দেওয়ার জন্য রমজান সিকদার তাকেসহ এলাকার আরও ২জনকে একসাথে ঢাকায় মিরপুর নিয়ে একটি হোটেলে রাখে। দিনের বেলা মিরপুর সেনানিবাসের পাশে একটি রেষ্টুরেন্টে নিয়ে চা খেতে দেয় তাদের। পরে সেখানে ২টি লোক এসে তাদেরকে একটি করে নিয়োগ পত্র দেয়। তার সাথে থাকা ২ যুবক তখন হোটেলে ফিরে ১১ লক্ষ টাকা দেন রমজান সিকদারকে। সাদিয়ার মুছল্লী তার নিজের নিয়োগগত্রটি নিয়ে খুশিতে বাড়ি ফিরে আসে। পরে সাদিয়ারের বাবা কামরুল মুসোল্লি বসত ভিটাসহ মাঠের জমি বিক্রি করে রমজান সিকদারকে সাড়ে ৫ লক্ষ টাকা দেন। নিয়োগপত্র নিয়ে চাকুরীতে যোগদান করতে গেলে বুঝতে পারে তাদের সাথে প্রতারনা করেছে রমজান সিকদার।

কলাগাছি গ্রামের এরশাদ শেখ জানান, তার ভাগিনা আবু তাহের গাজী এবং শালা হিরাঙ্গির গাজীকে সেনাবাহিনীর মালি পদে চাকুরী দেওয়ার জন্য ১০ লক্ষ ৫০ হাজার টাকা নেয় রমজান। বিনিময়ে তাদের ২ জনকে মালি পদে চাকুরীর ২টি নিয়োগপত্র দেন। নিয়োগ পত্রে লেখা ঠিকানা অনুযায়ী ঢাকা মিরপুর সেনানিবাসে তারা যোগদান করতে গেলে সেনাবাহিনীর সদস্যদের মাধ্যমে জানতে পারেন তাদের নিয়োগ পত্র নকল। প্রতারক রমজানকে বিষয়টি জানালে পুনরায় সঠিক নিয়োগ পত্র দিবেন বলে ঘুরাতে থাকে।

এ ব্যাপারে রমজান সিকদারের বাড়িতে গেলে তাকে পাওয়া যায়নি। রমজানের স্ত্রী আছিয়া খাতুন আসমা সাংবাদিকদের দেখে ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠেন । তিনি বলেন আপনারা কেন এসেছেন? আমার স্বামী স্বামী ঢাকায় বেড়াতে গেছে । প্রতারক রমজানের মোবাইলে যোগাযোগ করার চেষ্টা করলে তার ফোন বন্ধ পাওয়া যায়।

কালিয়া থানার অফিসার ইনচার্জ শেখ সমশের আলী বলেন, ভূয়া নিয়োগ দিয়ে টাকা আত্বসাতে বিষয়ে কোন অভিযোগ আমার থানায় আসেনি । ফলে আমি বিষয়টি জানি না ।

নড়াগাতি থানা অফিসার ইনচার্জ মোঃ আরশগীর কবীর বলেন, এ ব্যাপারে আমি কিছু জানি না । তবে কেউ যদি অভিযোগ করে তাহলে বিষয়টি তদন্ত পুর্বক ব্যবস্থা নেওয়া হবে ।