প্রেম করে বিয়ে, লাশ হলেন নাট্যশিল্পী তানিয়া

শনিবার, ১৪ জুলাই, ২০১৮ ১০:৫৮:৩৯ পূর্বাহ্ণ
0
142
নিজস্ব প্রতিবেদক:

প্রেম করে বিয়ের পর স্বামীর ভাড়া বাসায় ঢাকায় গিয়ে দুই মাস পর লাশ হলেন তেঁতুলিয়ার মেয়ে নাট্যশিল্পী তানিয়া আকতার নদী। তানিয়া ছিলেন পঞ্চগড়ের তেঁতুলিয়া সম্মিলিত নাট্যগোষ্ঠী দলের একজন নাট্যকর্মী।

নদীর পরিবার ও প্রতিবেশী সূত্রে জানা যায়, ঢাকা তিতুমীর কলেজের প্রথম বর্ষের ছাত্রী ছিলেন তানিয়া আকতার নদী। চলতি বছরের মে মাসে ডেভেলপার কোম্পানি বন্ধনের কর্মী মো: শাওন নামে এক ছেলেকে প্রেম করে বিয়ে করেন। বিয়ের পরে শাওন তাকে ঢাকা উত্তরা ৮নং সেক্টরের আদম আলী মার্কেটসংলগ্ন একটি ভাড়া বাসায় বাবা-মায়ের কাছে নিয়ে যান। শাওনের বাবা শহীদুল ইসলাম উত্তরা ৭নং সেক্টরে কাস্টম অফিসে চাকরি করেন। শাওনের পরিবার প্রেমের বিয়ে মেনে নিতে পারেনি। যে কারণে তানিয়ার ওপর শ্বশুর-শাশুড়ির নির্যাতন চলে। ফলে স্বামী শাওনকে অন্যত্র ভাড়া বাসায় ওঠার জন্য তানিয়া চাপ দেন। কিন্তু শাওন বাবা-মাকে ছেড়ে তানিয়াকে নিয়ে অন্যত্র বাসা ভাড়া নেননি।

গত ২৭ জুন তানিয়া তার স্বামীকে নিয়ে তেঁতুলিয়ায় গ্রামের বাড়ি থেকে বেড়িয়ে ফের ঢাকায় যান। তানিয়ার বড় বোন সোনিয়া জানান, ঢাকায় যাওয়ার পর তার শাশুড়ির শারীরিক ও মানসিক নির্যাতনের কথা মুঠোফোনে তাদের বলেন। এ ছাড়া সিথি নামে এক বান্ধবীর কাছেও তানিয়া নির্যাতনের কথা জানান। এমনকি নির্যাতন সহ্য করতে না পেরে তানিয়া গত ১১ জুলাই সকালে তার বান্ধবী সিথির বাসায় গিয়ে ওঠেন। সে দিন রাত ১০টায় শাওন জোর করে তানিয়াকে বাসায় নিয়ে আসেন।

তানিয়ার মা হামিদা বেগম জানান, বুধবার বেলা ১টায় তানিয়া মুঠোফোনে বলে, আমি গোসল সেরে তোমার সাথে দুই ঘণ্টা কথা বলব; এ সময় তার শাশুড়ি তাকে গালমন্দ করেন। এরপর থেকে তানিয়ার মুঠোফোনটি বন্ধ পান। সে দিন রাত ৯টায় শাওন প্রথমে মুঠোফোনে তানিয়ার মা হামিদা বেগমকে জানান ‘আমার প্রাণপাখি তানিয়া উড়াল দিছে’। পরে শাওনের মা কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, আপা আপনার তানিয়াকে আমি মেরে ফেলেছি আমাকে ক্ষমা করবেন।

পরে তানিয়ার বড় বোন সোনিয়া ঘটনাটি মুঠোফোনে ঢাকায় তার স্বামী ফারুক হোসেন ও বাবা জয়নালকে বললে, তারা দ্রুত ঘটনাস্থলে যান। ততক্ষণে শাওনের পরিবার তানিয়ার লাশ একটি অ্যাম্বুলেন্সে ওঠায়। খবর পেয়ে তানিয়ার বান্ধবী সিথিও ঘটনাস্থলে পৌঁছে। কিন্তু শাওনের পরিবার তাদের কোনোভাবেই অ্যাম্বুলেন্স নিতে রাজি না হলে সিথি ও ফারুক জোর করে গাড়িতে উঠে গভীর রাতে ঢাকা মেডিক্যালে নিয়ে যান। এ সময় তানিয়ার বান্ধবী সিথি ও ভাই ফারুক ঢাকা মেট্টোপলিটন পুলিশ, দক্ষিণখান পুলিশ স্টেশনে খবর দেন। থানার অফিসার ইনচার্জ তপন চন্দ্র সাহা নিহতের সুরতহাল রিপোর্ট সংগ্রহ করেন। একই সাথে শাওন ও তার বাবা-মাকে থানায় নিয়ে আসেন। সেখানে ময়নাতদন্ত শেষে তানিয়ার লাশ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়।

এ ব্যাপারে তানিয়ার বান্ধবী সিথি মুঠোফোনে জানান, বিয়ের পরে তনিয়াকে যে নির্যাতন করত তার মৃত্যুর কয়েক ঘণ্টা আগেও সে আমাকে যেসব কথা বলেছে; তা ফোন রেকর্ডে আছে। প্রয়োজনে আমি বান্ধবীর মৃত্যুর রহস্য উদঘাটনে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীসহ অন্যান্য সংস্থাকে সহযোগিতা করব। তানিয়ার বাবা জয়নাল ও মা হামিদা বেগম মেয়ে হত্যার রহস্য উদঘাটন করে দোষীদের শাস্তির দাবি করেছেন।

শুক্রবার তানিয়ার লাশবাহী অ্যাম্বলেন্স গ্রামের বাড়িতে পৌঁছে। বাদ জুমা কলোনিপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় মাঠে নামাজে জানাজা শেষে পারিবারিক কবরস্থানে তাকে দাফন করা হয়।