সড়ক দুর্ঘটনা রোধে ব্যক্তিগত সচেতনতার বিকল্প নেই :কেফায়েত শাকিল

শনিবার, ১৪ জুলাই, ২০১৮ ১২:১৭:৪৭ অপরাহ্ণ
0
83

নিজস্ব প্রতিবেদক:

সড়ক দুর্ঘটনায় মৃত্যুর মিছিল কমাতে জনগণকে সচেতন করা ও নগরবাসীকে ট্রাফিক আইন মানায় উদ্বুদ্ধ করতে ফুটওভারব্রিজ ব্যবহারকারীদের সংবর্ধনা দিয়েছে যাত্রী অধিকার আন্দোলন।

আজ  শনিবার সকাল থেকে রাজধানীর প্রেসক্লাব, পল্টন ও মতিঝিল এলাকায় ফুটওভারব্রিজ ব্যবহারকারীদের ফুল দিয়ে শুভেচ্ছা জানানোর মাধ্যমে এ কর্মসূচি পালিত হয়। এতে রাজধানীর বিভিন্ন কলেজ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা অংশ নেয়।

কর্মসূচিতে সংগঠনটির কর্মীরা যাত্রী, পথচারী ও চালকদের সচেতন করতে লিফলেট বিতরণ করেন। এ সময় তারা রাস্তা পারাপারে ফুটওভারব্রিজ ও জেব্রাক্রসিং ব্যবহার করতে, পরিবহনে যাতায়াতের সময় যাত্রীদের হাত-মাথা বাইরে না নিতে, ঝুঁকি নিয়ে ও অতিরিক্ত যাত্রী হয়ে পরিবহনে না উঠতে সতর্ক করেন। ট্রাফিক আইন মানা এবং পরিবহনে হয়রানিতে জাতীয় হেল্প নম্বর ৯৯৯ এর মাধ্যমে পুলিশের সহায়তা নিতেও উদ্বুদ্ধ করেন তারা।

কর্মসূচির উদ্বোধন করে যাত্রী অধিকার আন্দোলনের আহ্বায়ক কেফায়েত শাকিল বলেন, আমাদের দেশে সড়কে মৃত্যুর অন্যতম প্রধান কারণ ট্রাফিক আইন না মানা। আমরা মনে করি যাত্রীরা নিজ নিজ অবস্থান থেকে সচেতন হলে দুর্ঘটনার হার অনেকাংশে কমে আসবে। তাই যাত্রী, চালক ও পথচারীদের ব্যক্তিগত সচেতনতা বৃদ্ধিকে আমরা সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিচ্ছি।

তিনি বলেন, অধিকাংশ পথচারী অলসতা এবং অসাবধানতার কারণে ফুটওবারব্রিজ ব্যবহার করেন না। এছাড়া, ওভারব্রিজগুলো অবৈধ দখলে থাকা, ছিনতাইকারী ও হিজরাদের দৌরত্ব এবং যথাযথ পরিবেশ না থাকায় ব্যবহার অনুপযুক্ত। যার কারণে অনেকে ফুটওভারব্রিজ ব্যবহার করেন না। পাশাপাশি ওভারব্রিজ ব্যবহার না করার জন্য ট্রাফিক আইন না জানা এবং সচেতনতার অভাবও বড় কারণ। তাই জনগণকে সচেতন করা ও ওভারব্রিজগুলোকে চলাচলের উপযুক্ত করতে সরকারকে এখনি পদক্ষেপ নিতে হবে।

যাত্রী অধিকার আন্দোলনের আহ্বায়ক আরো বলেন, রাজধানীতে গণপরিবহন এখন আর জনগণের পরিবহন নেই। লাগাম ছাড়া এসব পরিবহন জনগণের স্বার্থ বিবেচনার চেয়ে নিজেদের ব্যবসাকেই বেশি প্রাধান্য দিচ্ছে। ফলে বেপরোয়া গাড়ি চালাতে, যাত্রীদের জিম্মি করে অতিরিক্ত ভাড়া নিতে তারা দিধা করছে না। পরিবহন মালিক-শ্রমিকদের এ অন্যায় আচরনের বিরুদ্ধে সবাইকে ঐক্যাদ্ধ হতে হবে। সবাই মিলে সরকারকে বুঝাতে হবে এই শহরে আধুনিক ও সুশৃঙ্খল পরিবহনের প্রয়োজনীয়তা কতো।

রাজধানীতে গণপরিবহনে যে নৈরাজ্য চলছে তা একে অপরকে দোষারোপের মাধ্যমে কখনোই সমাধান হবে না। এ সমস্যা সমাধানের যাত্রী ও চালকদের সচেতনতা এবং জনসাধারণের ঐক্যবদ্ধ প্রচেষ্টা সবচেয়ে বড় ভুমিকা রাখবে।

ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের প্রয়াত মেয়র আনিসুল হককে স্মরণ করে কেফায়েত শাকিল বলেন, রাজধানীবাসীকে একটি সুশৃঙ্খল ও আধুনিক পরিবহনব্যবস্থার স্বপ্ন দেখিয়েছিলেন মেয়র আনিসুল হক। কিন্তু তার মৃত্যুর পর সেই প্রকল্প আর আলোর মুখ দেখেনি। আমরা আশা করবো রাজধানীর পরিবহনব্যবস্থাকে সুশৃঙ্খল করে সরকার মেয়র আনিসুল হকের সেই স্বপ্ন বাস্তবায়ন করবে।

একই সঙ্গে তিনি আগামী ৩০ জুলাই তিন সিটি নির্বাচনের প্রার্থীদের নির্বাচনী ইশতেহারে আধুনিক নগর পরিবহনব্যবস্থাকে গুরুত্ব দেয়ার আহ্বান জানান।

কর্মসূচিতে অন্যান্যের মাঝে সংগঠনের যুগ্ম আহ্বায়ক অন্তু মুজাহিদ, মুখপাত্র মাহমুদুল হাসান শাকুরী, নাজমুস সাকিব, জিহাদ আরিফ, শাফি হাসান, বিল্লাল হোসাইন সাগর, এসএম সজিব, হুমায়ুন তামিম, সোহেল তাজ, মো. মোস্তাকিম, সাব্বির অর্নব, রাকিব হাওলাদার, মুঈনুদ্দিন আরিফ প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।