সালমান শাহ: ২২ বছরেও মেলেনি রহস্যের কিনারা

বৃহস্পতিবার, ৬ সেপ্টেম্বর, ২০১৮ ৩:১৯:২২ অপরাহ্ণ
0
135
বিনোদন প্রতিবেদক:

সময়ের আবর্তনে কেটে গেছে দীর্ঘ দুই দশক। কোটি বাঙালির প্রাণের নায়ক সালমান শাহ বেঁচে নেই। তার অকাল মৃত্যু গোটা সিনেমা জগতকে যেন অন্ধকারের অতল গহ্বরে ফেলে দিয়েছে। আর সেখান থেকে উঠেও দাঁড়াতে পারছে না ঢাকাই সিনেমা। মাত্র তিন বছরের ক্যারিয়ারে যেই নায়ক ২৭টি ছবিতে অভিনয় করে আলোড়ন সৃষ্টি করেছিলো, যার অধিকাংশই দর্শকনন্দিত এবং ব্যবসাসফল ছবি, সেই নায়কের অকাল মৃত্যু কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যায় না। আর যদি সেই মৃত্যুতে জড়িয়ে যায় গভীর রহস্য, তাহলে তো ব্যথার পরিমাণ আকাশ ছুঁয়ে যাবেই।

১৯৯৬ সালের ৬ সেপ্টেম্বর ঢাকার ইস্কাটনে নিজের বাসায় ফ্যানের সঙ্গে সালমান শাহ’র ঝুলন্ত লাশ পাওয়া যায়। আজ তার ২২তম মৃত্যুবার্ষিকী। এই দিনে সালমান শাহকে স্মরণ করছে গোটা ইন্ডাস্ট্রি ও সিনেমাপ্রেমি অগণিত মানুষ। এছাড়া চলচ্চিত্র শিল্পী সমিতিতে কোরআন খতম ও মিলাদ মাহফিলের আয়োজন করা হয়েছে। বিভিন্ন টিভি চ্যানেলেও তার স্মরণে নানা অনুষ্ঠানের আয়োজন রয়েছে।

সালমান শাহর মৃত্যুকে কেউ কেউ আত্মহত্যা হিসেবে আখ্যা দিলেও সালমানের পরিবার ও তার অগণিত ভক্ত জোর দিয়েই বলেছেন এটা খুন। সেই সুবাদে সালমান শাহ’র পরিবার থেকে একটি খুনের মামলা দায়ের করা হয়েছিলো। কিন্তু তদন্তের শ্লথ গতি আর প্রশাসনের অসহযোগিতার কারণে আজও উন্মোচিত হয়নি আসল সত্য।

এরই মধ্যে কেটে গেলো ২২টি বছর। দর্শকের নিখাদ ভালবাসায় বেঁচে আছেন সালমান শাহ। কিন্তু তার মৃত্যু রহস্য যেন ধামাচাপা পড়ে গেছে। মাঝে মধ্যে তার কিছু অন্ধ ভক্ত এই বিষয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে দাবি জানিয়েছেন। কিন্তু সেই দাবি কেবলই ফেসবুকের পাতায় ঘুরেছে। আমলে নেননি কেউই।

গত বছরের আগস্টে সালমান শাহ’র মৃত্যুর রহস্যটি নতুনভাবে মাথাচাড়া দিয়ে ওঠে। আমেরিকা প্রবাসী রাবেয়া সুলতানা রুবি নামের একজন নারী সালমানের মৃত্যু প্রসঙ্গে একটি ভিডিও বার্তা দেন। সালমান শাহ হত্যা মামলার এই অন্যতম আসামী তার ভিডিওতে বেশ কিছু চাঞ্চল্যকর তথ্য দেন। তিনি জোর দিয়ে বলেন, সালমান শাহ আত্মহত্যা করেননি। তাকে খুন করা হয়েছে। এবং সেই খুনের সঙ্গে সালমানের স্ত্রী সামিরা ও সামিরার পরিবার এবং তার নিজের স্বামী ও ভাই জড়িত বলেও স্বীকার করেন রুবি।

এমন তথ্য উঠে আসার পর গোটা দেশে যেন আবারও সালমান ভক্তরা ফুঁসে ওঠে। তদন্ত ও সুষ্ঠু বিচারের দাবিতে হুংকার ছাড়তে থাকে। গণমাধ্যমের শিরোনামে উঠে আসে সালমান শাহ সংশ্লিষ্ট সব শিরোনাম। রহস্যের অনেক ক্লু প্রকাশ হতে থাকে। পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই) মামলাটির পুনঃতদন্তের জন্য তোড়জোড় শুরু করে দেয়। রুবির খোঁজেও পদক্ষেপ নেওয়ার কথা শোনা যায়। সবার মনেই একটা আশা জেগে ওঠে যে, দীর্ঘ দিন পরে হলেও সালমান শাহ হত্যা রহস্যের কিনারা মিলবে হয়ত। আর অপরাধীরাও সাজা পাবেন।

কিন্তু দু’দিন পর আবার সব যেন পাল্টে যায়। নিজের স্বীকারোক্তি থেকে সরে এসে ভিন্ন কথা বলেন রুবি। সুর পাল্টে তিনি জানান, তিনি যা বলেছেন, সব ভিত্তিহীন ও মিথ্যা। মানসিক অসুস্থতার দোহাই দিয়ে নিজের সব স্বীকারোক্তিকে অস্বীকার করে নেন রুবি।

ব্যাস, এখানেই যেন ইতি ঘটে গেলো সালমান শাহ হত্যা রহস্য উন্মোচনের শেষ আশাটুকুর। একদিকে প্রশাসনের নিরব ভূমিকা আর অন্যদিকে গণমাধ্যমের চুপসে যাওয়া, বিষয়টাকে যেন ধামাচাপা পড়ে যাচ্ছে। রহস্য উন্মোচনের আশার প্রদীপ খানিকটা জ্বলে উঠেও যেন আবার নিভে যাচ্ছে। অন্যদিকে আদালতে সালমান শাহর হত্যার রহস্য উদঘাটনের মামলার রায় দিনের পর দিন পিছিয়ে দেয়া হচ্ছে। তবে কি সালমান শাহ হত্যার অজানা সত্য আজীবন আড়ালেই থেকে যাবে?