আওয়ামীলীগের ত্যাগী ও বঞ্চিত নেতা কর্মীদের দাবী দলীয় মনোনয়ন দেয়া হোক কর্মীবান্ধব ও স্বচ্ছ ইমেজের কাউকে

শুক্রবার, ৭ সেপ্টেম্বর, ২০১৮ ২:৪৯:১৭ পূর্বাহ্ণ
0
262

 

পিরোজপুর প্রতিনিধি ঃ দল ক্ষমতায় টানা ১০ বছর। টানা দুই মেয়াদে ক্ষমতায় থাকার সুবাদে ভাগ্য পরিবর্তিত হয়েছে অনেকেরই। এতদিনে দলের নাম ভাঙ্গিয়ে আঙ্গুল ফুলে কলাগাছ হয়েছেন যারা ,তাদের অধিকাংশই আওয়ামীলীগের র্দুদিনে সম্পৃক্ত ছিল না দলের কোন কর্মকান্ডে। এমনকি ৫ জানুয়ারীর সময় গা ঢাকা দিয়েছিল এ সব সুযোগ সন্ধানীরা। নির্বাচনের পরে আবার তারাই ফিরে এসে দলীয় সাইনবোর্ডে চালিয়েছে অপকর্ম। আর এদের কারনে সব সময় কোনঠাসা ছিল দলের সর্বচ্চ নিবেদিত ত্যাগী নেতাকর্মীরা। এ চিত্র পিরোজপুর জেলা সদরের । আগামী নির্বাচনে এ সদর আসনে দলীয় মনোনয়ন কোন কর্মীবান্ধব ও স্বচ্ছ ইমেজের নেতাকে দেয়ার জোর দাবী তুলেছেন ত্যাগী ও বঞ্চিত দলের এ সব নেতাকর্মীরা।

জানা যায়, পিরোজপুর সদর, নাজিরপুর ও নেছারাবাদ এ তিন উপজেলা নিয়ে পিরোজপুর – ১ আসন। এ আসনের বর্তমান এমপি একেএমএ আউয়াল জেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি। গত দুই মেয়াদে তিনি এ আসনের এমপি। পুরো সময় জেলার রাজনীতি ছিল তার একক নিয়ন্ত্রনে। এক সময়ের কর্মী বান্ধব নেতা হিসেবে পরিচিত থাকলেও এমপি নির্বাচিত হবার পর থেকে বদলে যান তিনি,এমন অভিযোগ দলের কর্মীদের। এক সময়ে যে সব কর্মীরা ছিল এ নেতার অনুসারী,তারাই এখন চাপা ক্ষোভ নিয়ে এ সব অভিযোগ তুলেছেন । দলের নিবেদিত কর্মী হিসেবে জেলায় পরিচিত নেতা কর্মীরা জানান, গত দুই মেয়াদে দল ক্ষমতায় থাকা অবস্থায় জেলার রাজনীতিতে যারা এককভাবে প্রতিষ্ঠিত হয়েছেন একটি নিদিষ্ট চক্র। এ চক্রটি আওয়ামীলীগ বিরোধীদলে থাকা অবস্থায় কোন কর্মকান্ডে ছিল না, এমনটি এদের অধিকাংশ স্বাধীনতা বিরোধী পরিবারের সমস্য। এরাই বর্তমানে এমপিকে একটি বলয়ের মধ্যে রেখে নিজেদের আখের ঘুচিয়েছে। এদের কারনে দলের ত্যাগী নেতা কর্মীরা পুরো সময় ছিল কোনঠাসা। এ সব কারনে আগামী নির্বাচনে দলের মনোনয়ন একজন কর্মীবান্ধব ও নিলোর্ভ ইমেজ আছে এমন যে কাউকে দেবার দাবী তাদের। নির্বাচনের আগ মুহুর্তে এ দাবী নিয়ে দলের মধ্যে কোনঠাসা নেতা কর্মীদের বড় একটি অংশ আবার দলীয় কর্মকান্ডে সরব হয়েছেন।

আগামী নির্বাচনে আওয়ামীলীগের মনোনয়ন প্রত্যাশী বেশ কয়েকজন নেতা আছে সামনের সারিতে। তবে এ সব নেতাদের মধ্যে দুটি ভাগ লক্ষনীয়। এক ভাগে রয়েছে সার্বক্ষনিক জেলায় অবস্থান করে মাঠের রাজনীতিতে অবস্থান করা। অপরদিকে রয়েছে ঢাকায় বসবাস করে কেন্দ্রীয় রাজনীতিতে শক্ত অবস্থান তৈরি হওয়া নেতা। মূলত পিরোজপুর সদর আসনে আওয়ামীলীগের মনোনয়ন প্রতিযোগীতায় লড়াই চলছে এ দুই শ্রেনীর নেতাদের মধ্যে। আগামী নির্বাচনে এ দুই পক্ষের মধ্যে শেষ পর্যন্ত মনোনয়নের আলোচনায় শীর্ষে আছেন দুই জন। এরা হলেন পিরোজপুর পৌরসভার তিনবারের নির্বাচিত মেয়র হাবিবুর রহমান মালেক ও আওয়ামীলীগের কেন্দ্রীয় আইন সম্পাদক এ্যাডভোকেট শ ম রেজাউল করিম । এছাড়াও বেশ কয়েকজন প্রার্থী মাঠে থাকলেও মূলত এ দুইজনই প্রধান প্রতিযোগী বলে মনে করছে দলীয় নেতা কর্মীরা।

দলীয় সুত্রে জানা যায়, জেলা আওয়ামীলীগের সহ সভাপতি ও পৌর মেয়র হাবিবুর রহমান মালেক প্রার্থী হিসেবে শক্ত অবস্থানে আছে শুধু মাত্র দলীয় নেতা কর্মীদের সমর্থন ও ব্যক্তি ইমেজের উপর ভর করে। তিনি গত ১৫ বছর একনাগারে পৌর মেয়র থাকার সুবাদে তার তৈরি হয়েছে ব্যক্তি অবস্থান । পাশাপাশি তার নিলোর্ভ ইমেজ পাশে টেনেছে দলের বঞ্চিত ত্যাগী নেতাকর্মীদের। হাবিবুর রহমান মালেক বর্তমান এমপি একেএমএ আউয়ালে ভাই। কিন্তু তিনি নিজেই গত দুবছর তার ভাই এমপির নানা কর্মকান্ডের বিরোধিতা করে আসছেন। আর এ কারনে দলের নিবেদিত বঞ্চিত নেতা কর্মীদের কাছে পৌছেছেন জনপ্রিয়তার শীর্ষে। অপরদিকে এ্যাডভোকেট শ ম রেজাউল করিমের বাড়ি জেলার নাজিরপুর উপজেলায়। তিনি দৈর্ঘ্য দুই যুগ বসবাস করেন ঢাকায়। দৈর্ঘ্য এ সময় দলীয় রাজনীতিতে ঢাকায় তারা অবস্থান তৈরি হয়েছে। এরপরে আওয়ামীলীগের কেন্দ্রীয় আইন সম্পাদক হবার পরে সে অবস্থান আরো শক্ত হয়। তবে জেলার রাজনীতিতে দীর্ঘ্যদিন অনুপস্থিত থাকায় তার রয়েছে তৃনমূল নেতা কর্মীদের সাথে যোগাযোগ বিচ্ছিন্নতা। আর এ দূর্বলতা তার প্রধান অন্তরায় হয়ে দেখা দিয়েছে শেষ মুহুর্তে।

জেলার রাজনীতিতে প্রায় একযুগ ধরে দলের মধ্যে একক নিয়ন্ত্রন ছিল একেএমএ আউয়ালের। তবে বছর দুই আগে তার ভাই পৌর মেয়র হাবিবুর রহমান মালেকের সাথে তার বিরোধ শুরু হয়। এমপির নানা বিষয়ে প্রতিবাদ শুরু করে হাবিবুর রহমান মালেক। এমনকি ভাইকে দূনীতিবাজ বলে নানা সভা সমাবেশে প্রতিক্রিয়া জানাতে শুরু করে। আর এতে তার সাথে যোগ দেয় আওয়ামীলীগের বড় একটি অংশ। যারা দীর্ঘ্যদিন মুখ খুলতে পারেনি। এক পর্যায় এ বিরোধ রূপ নেয় আওয়ামীলীগের দলীয় কোন্দলে। জেলা আওয়ামীলীগের সাধারন সম্পাদক এ্যাডভোকেট হাকিম হাওলাদারসহ আওয়ামীলীগের বড় একটি অংশ নিয়ে হাবিবুর রহমান মালেকের নেতৃত্ত্বে তৈরি হয় আউয়াল বিরোধী বলয়। আর এতে যোগ হয় দীর্ঘ্য দিন ধরে একেএমএ আউয়ালের একক আধিপত্যের কারনে দলের মধ্যে কোনঠাসা অবস্থায় থাকা নেতাকর্মীরা। এসব নেতা কর্মীরা হাবিবুর রহমান মালেকের ব্যক্তিগত স্বচ্ছ ইমেজ ও কর্মীবান্ধবতাকে বিবেচনায় রেখে নেতা হিসেবে তাকেই প্রধান্য দিয়ে রাজনীতি করছে বলে জানান।