বাবর ও পিন্টুর খালাস চাইলেন আইনজীবী

শুক্রবার, ৭ সেপ্টেম্বর, ২০১৮ ১২:০৯:০৭ অপরাহ্ণ
0
191
নিজস্ব প্রতিবেদক:

আইনগত বিষয়ের ওপর যুক্তি উপস্থাপন শেষে ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলা মামলায় সাবেক স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী লুৎফুজ্জামান বাবর ও সাবেক উপমস্ত্রী আবদুস সালাম পিন্টুর বেকসুর খালাস চেয়েছেন তাদের আইনজীবী।

বুধবার কারাগারে থাকা বিএনপির এই দুই নেতার পক্ষে আইনজীবী এসএম শাহজাহান এক ঘণ্টা ৩৫ মিনিট দেশের প্রচলিত আইন ও দেশ-বিদেশের উচ্চ আদালতের সিদ্ধান্তের আলোকে যুক্তি উপস্থাপন শেষে এ খালাস প্রার্থনা করেন।

এর আগে আজ বেলা ১২টা ১৫ মিনিটে পুরান ঢাকার নাজিম উদ্দিন রোডে মামলার অস্থায়ী ট্রাইব্যুনালে এ আইনজীবী যুক্তি উপস্থাপন শুরু করেন।

ঢাকার ১ নম্বর দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালে বিচারক শাহেদ নূর উদ্দিন বেলা ২টা ৩০ মিনিট পর্যন্ত যুক্তি গ্রহণের পর আগামী ১০, ১১ ও ১২ সেপ্টেম্বর পরবর্তী যুক্তি উপস্থাপনের দিন ধার্য করেন।

আজ যুক্তি উপস্থাপনে আইনজীবী শাহজাহান দেশের প্রচলিত আইন ও দেশ-বিদেশের উচ্চ আদালতের বিভিন্ন সিদ্ধান্ত তুলে ধরে বলেন, কোনো আসামির স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দির ভিত্তিতে তাকে দণ্ড দেয়া যায়। তবে সাক্ষ্য আইনের ৩০ ধারা অনুযায়ী, সহআসামিকে ওই স্বীকারোক্তির ভিত্তিতে দণ্ড দেয়া যাবে না যতক্ষণ পর্যন্ত অন্য সাক্ষী ওই স্বীকারোক্তি সমর্থন করবে।

আইনজীবী বলেন, যেহেতু মুফতি হান্নানের স্বীকারোক্তি অন্য কোনো আসামির স্বীকারোক্তি বা কোনো সাক্ষীর সাক্ষ্য দ্বারা সমর্থিত হয়নি। বাবর সাহেব পিন্টুর বাসায় এবং হওয়া ভবনে ষড়যন্ত্রমূলক মিটিংয়ে গিয়েছেন বা পিন্টুর বাসায় ষড়যন্ত্রমূলক মিটিং হয়েছিল-এ সম্পর্কে অন্য কোনো সাক্ষী বা আসামি হান্নানের বক্তব্য সমর্থন করে অন্য কেউ সাক্ষ্য দিয়েছেন-এমন কোনো সাক্ষী রাষ্ট্রপক্ষ দেখাতে পারেনি। তাই সাবেক স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী লুৎফুজ্জামান বাবর ও সাবেক উপমস্ত্রী আবদুস সালাম পিন্টুকে দণ্ডিত করতে মুফতি হান্নানের স্বীকারোক্তি ব্যবহার করে দণ্ডবিধির ১২০ (বি) ধারায় তাদের দণ্ডিত করার সুযোগ নেই।

এই আইনজীবী আরো বলেন, আমার দণ্ডবিধির ৩৪ ও ১০৯ ধারাও তাদের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হবে না। তাই যদি মনে করা হয়, উপমন্ত্রী পিন্টু মাওলানা তাউদ্দিনের ভাই এবং বাবর স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী ছিলেন, তাই তাদের অভিযুক্ত করতে হবে তবে আমার কিছু বলার নেই। ন্যায় বিচার প্রসিকিউশন যেমন চায়, আসামিপক্ষও চায়। আমি আদালতে ওই নারকীয় হামলাকে সমর্থন করতে আসি নাই।

আইনজীবী এসএম শাহজাহান বলেন, এই ঘটনার বিচার আমিও চাই। আমি দেশের প্রচলিত আইন ও দেশ-বিদেশের উচ্চ আদালতের বিভিন্ন সিদ্ধান্ত তুলে ধরেছি। আমি তাদের (পিন্টু ও বাবর) জীবনের ১২টি বছর ফিরিয়ে দিতে বলব না। তারা নির্দেশ, আমি তাদের খালাস চাই। এখন আপনার (বিচারক) ন্যায় বিচারের প্রতিক্ষায় রইলাম।

আজ দুপুর ১টা ৫০ মিনিটে এ আইনজীবী যুক্তি উপস্থাপন শেষ করার পর আইনজীবী নজরুল ইসলাম ফ্যাক্টের ওপর আসামি বাবরের পক্ষে ফ্যাক্টের ওপর আট কর্মদিবস করা যুক্তি উপস্থাপনের লিখিত যুক্তিতর্ক সাপোর্টিং ডকুমেন্টসহ দাখিল করেন।

এরপর আসামিপক্ষের যুক্তি উপস্থাপন শেষ হওয়ার পর রাষ্ট্রপক্ষে প্রসিকিউটর মোশারফ হোসেন কাজল আইন ও উচ্চ আদালতের সিদ্ধান্তের ওপর যুক্তি উপস্থাপন শুরু করে বলেন, আসামিপক্ষ ৬১ জন সাক্ষীর পর অধিকতর তদন্ত নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। তারা এ বিষয়ে যেসব সিদ্ধান্ত দিয়েছেন তা গ্রহণযোগ্য নয়। কারণ তাদের সিদ্ধান্ত আর এ মামলা ফ্যাক্ট এক নয়।

উচ্চ আদালতের একটি সিদ্ধান্ত উপস্থাপন করে রাষ্ট্রপক্ষে প্রসিকিউটর মোশারফ হোসেন কাজল বলেন, রায়ের পূর্বে যেকোনো পর্যায়েই আদালত একটি মামলা ফৌজদারী কার্যবিধির ১৭৩ (৩)বি ধারা মতে অধিকতর তদন্তে পাঠাতে পারেন। এখনে অধিকতর তদন্তের আবেদনও যথাযথভাবে করা হয়েছিল।

মোশারফ হোসেন কাজল বলেন, দুটি মোটিভে সেদিন গ্রেনেড হামলা করা হয়েছিল। এক শেখ হাসিনাসহ আওয়ামী লীগের সকল নেতাকে হত্যা করা। দুই বাংলাদেশকে পাকিস্তান বানানো। এভাবে নিরস্ত্র জনগণের ওপর সমরাস্ত্র দিয়ে হামলা করা ইতিহাসে বিরল। আদালত সময় দিলে আগামী ধার্য তারিখে ‘ল’ পয়েন্টের যুক্তি উপস্থাপন করব।

আজ যুক্তি উপস্থাপন শেষ হওয়ার পর বিচারক শাহেদ নুর উদ্দিন বলেন, আপনারা ‘ল’ পয়েন্টে যুক্তি উপস্থাপন করে আদালতের সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষেত্রে সহায়ক করছেন। আশা করি, সামনের দিনগুলোতেও করবেন।

আজ যুক্তি উপস্থাপন শেষ হওয়ার পর রাষ্ট্রপক্ষের প্রসিকিউটর সৈয়দ রেজাউর রহমান বলেন, আসামি পক্ষের যুক্তি উপস্থাপন শেষ হয়েছে। তবে তাদের যুক্তিতে আমরা একমত নই। আমরাও যুক্তি খণ্ডন করতে শুরু করেছি।

মামলাটিতে ‘ল’ পয়েন্টের রাষ্ট্রপক্ষের যুক্তি উপস্থাপন শেষ হলেই ট্রাইব্যুনাল রায় ঘোষণার দিন ঠিক হবে।

রাষ্ট্রপক্ষ মামলাটিতে ২৫ কার্যদিবস ফ্যাক্টের ওপর যুক্তি উপস্থাপন করেন, যা গত ১ জানুয়ারি তা শেষ হয়। রাষ্ট্রপক্ষে যুক্তি উপস্থাপনে বিএনপির সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান তারেক রহমানসহ ৩৮ আসামির মৃত্যুদণ্ড এবং ১১ সরকারী কর্মকর্তার সাত বছর কারাদণ্ড দাবি করেন। এরপর আসামি পক্ষ ফ্যাক্টের ওপর যুক্তি ৮৭ কার্যদিবস উপস্থাপন শুরু করেন, যা গত ২৯ আগস্ট শেষ হয়। এরপর গত ৪ ও ৫ কার্যদিবস ‘ল’ পয়েন্টে আসামি পক্ষ যুক্তি উপস্থাপন করলেন।

২০০৪ সালের ২১ আগস্ট আওয়ামী কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনের জনসভায় সন্ত্রাসীরা ভয়াবহ গ্রেনেড হামলা চালায়। হামলায় আওয়ামী লীগের মহিলাবিষয়ক সম্পাদিকা ও প্রয়াত প্রেসিডেন্ট জিল্লুর রহমানের স্ত্রী আইভি রহমানসহ ২৪ জন নির্মমভাবে নিহত হন। আওয়ামী লীগ সভানেত্রী শেখ হাসিনা অল্পের জন্য প্রানে বেঁচে যান। আহত হন শতাধিত নেতাকর্মী। এ ঘটনায় মতিঝিল থানার উপপরিদর্শক ফারুক হোসেন, আওয়ামী লীগ নেতা আবদুল জলিল ও সাবের হোসেন চৌধুরী বাদী হয়ে মতিঝিল থানায় তিনটি এজাহার দায়ের করেন।