পুলিশ সদস্যদেরও ছাড় নয় : ডিএমপি কমিশনার

শনিবার, ৮ সেপ্টেম্বর, ২০১৮ ১:১৪:৩৩ অপরাহ্ণ
0
94

নিজস্ব প্রতিবেদক:

কখনো ভুল করেও যদি কোনো পুলিশ সদস্য ট্রাফিক আইন অমান্য করে, তাহলে তার বিরুদ্ধেও কঠিন ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) কমিশনার আছাদুজ্জামান মিয়া।

 

শনিবার রাজধানীর শাহবাগ মোড়ে, ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের ট্রাফিক বিভাগ আয়োজিত ‘ট্রাফিক সচেতনতা’ নিয়ে আলোচনা অনুষ্ঠানে এ কথা বলেন তিনি।

আছাদুজ্জামান মিয়া বলেন, ‘গাড়ির মালিক পক্ষ ট্রাফিক আইন অমান্য করে, চালক আইন অমান্য করে, পথচারীরা অমান্য করে, শুধু তাই নয় আইন প্রয়োগকারী সংস্থার সদস্যরাও ট্রাফিক আইন অমান্য করে। তাহলে সড়কের শৃঙ্খলা ফিরবে কীভাবে? আমি বলব আইন প্রয়োগকারী সংস্থার সদস্য অর্থাৎ কোনো পুলিশ সদস্য যদি ট্রাফিক আইন ভঙ্গ করে তাহলে তাকেও এক চুল পরিমাণ ছাড় দেওয়া হবে না। তার বিরুদ্ধেও কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

পুলিশ কমিশনার বলেন, ‘অনেক পুলিশ সদস্যই ট্রাফিক আইন ভঙ্গ করেছে, আমরা ইতোমধ্যে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিয়েছি, ভবিষ্যতে আরও কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

আলোচনা সভায় প্রধান অতিথি ছিলেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. আখতারুজ্জামান। তিনি বলেন, ‘সড়কের শৃঙ্খলা ফেরানোর জন্য সবার আগে নিজেদের সচেতন হতে হবে। শুধু ট্রাফিক আইন প্রয়োগ করলেই হবে না, পথচারীদের চলাচলের জন্য সুব্যবস্থা করনসহ নানা ধরনের অবকাঠামোগত উন্নয়ন করতে হবে। তাহলে সড়কে শৃঙ্খলা ফিরবে। তাছাড়া মাত্র ৪ হাজার ট্রাফিক সদস্য দিয়ে এর চেয়ে বেশি কিছু করাও সম্ভব নয়।’

আলোচনায় আরও উপস্থিত ছিলেন নিরাপদ সড়ক চাই এর চেয়ারম্যান ইলিয়াস কাঞ্চন। তিনি বলেন, ‘আমরা প্রথম থেকেই বলে আসছি, স্কুল কলেজের পাঠ্য বইয়ে ট্রাফিক সচেতনতার বিষয় যোগ করতে, তৃতীয় শ্রেণি পর্যন্ত সেটা হলেও, বড় ক্লাসগুলোতে তা হচ্ছে না। যদি তা করা হত, তাহলে আরও কিছু তরুণ ছেলে মেয়েদের সচেতন করা যেত।’ ইলিয়াস কাঞ্চন বলেন, ‘আমি মনে করি সচেতন হবার কোনো বিকল্প নেই। সবাইকে ৩ মাস করে সময় দেওয়া হোক, স্কুল, কলেজ, গার্মেন্টস, যে যার যার অবস্থান থেকে ট্রাফিক আইন সম্পর্কে সচেতন হবেন। যদি ৯ মাসে আমরা স্বাধীনতা অর্জন করতে পারি, তাহলে ৩ মাসে ট্রাফিক সচেতন কেন হতে পারব না।’

মহানগর পুলিশ কমিশনার আছাদুজ্জামান মিয়ার সভাপতিত্বে ট্রাফিক আইন সচেতনতামূলক এই আলোচনা সভায় উপস্থিত ছিলেন কলামিস্ট সৈয়দ আবুল মকসুদ, ক্রিকেটার ইমরুল কায়েস, অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার মীর রেজাউল ইসলামসহ বাস চালক মালিকরা।