নিয়োগের সুযোগ-সুবিধা নিয়ে দক্ষিণ আফ্রিকার ডারবান চেম্বার অব কমার্সের সাথে এফবিসিসিআই-এর আলোচনা

মঙ্গলবার, ২৯ সেপ্টেম্বর, ২০২০ ১২:৪৪:২৭ অপরাহ্ণ
0
91
::নিজস্ব প্রতিবেদক::
বাংলাদেশ ও দক্ষিণ আফ্রিকার মধ্যকার বাণিজ্য ও বিনিয়োগের সম্ভাব্য সুযোগ-সুবিধা নিয়ে আলোচনা করার লক্ষ্যে ফেডারেশন অব বাংলাদেশ চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিজ (এফবিসিসিআই) আজ (সোমবার ২৮ সেপ্টেম্বর) ডারবান চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিজের (ডিসিসিআই) সাথে ‘বাইল্যাটের্যাল ট্রেড অ্যান্ড ইনভেস্টমেন্ট অপরচুনিটিজ ইন দ্য অনগোয়িং গ্লোব্যাল প্যানডেমিক’ শীর্ষক একটি ক্লাউড সম্মেলনে অংশ নিয়েছে।
সম্মেলনে এফবিসিসিআই-এর সভাপতি শেখ ফজলে ফাহিম; সহ সভাপতি সিদ্দিকুর রহমান, ডিসিসিআই-এর সভাপতি নাইজেল ওয়ার্ড এবং ডিসিসিআই-এর সিইও পলেসা ফিলি মহামারী-পরবর্তী বিশ্বের উভয় দেশের অর্থনীতির উন্নয়নে সহযোগিতার বিষয় নিয়ে আলোচনা করেছেন।
সহযোগিতার জন্য ডারবান চেম্বারকে ধন্যবাদ জানিয়ে এফবিসিসিআই সভাপতি বলেন, “এ বছর জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের শততম জন্মশতবার্ষিকী। আজকের আয়োজনটি তাঁর নিরলস প্রচেষ্টার কথা স্মরণ করিয়ে দেয় এবং এটি বিশ্বব্যাপী ৫১ টি দেশে ১২৯ টি অংশীদারী সংস্থার সাথে আমাদের আন্তর্জাতিক সম্পৃক্ততারই একটি অংশ।
২০১৯-২০ অর্থবছরে দুই দেশের মধ্যকার ২৪ মিলিয়ন মার্কিন ডলারের দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্যের বিষয়টি উল্লেখপূর্বক তিনি ফার্মা, আইসিটি, এফএমসিজি, হোম অ্যাপ্লায়েন্সেস এবং ব্যাংকিং ও শিপিংয়ে উন্নয়ন ত্বরান্বিত করার ক্ষেত্রে দু’দেশের শীর্ষস্থানীয় বাণিজ্যিক সংস্থা একসাথে কাজ করে বাণিজ্য অগ্রগতি অর্জন করতে পারে-এমন সম্ভাবনার কথা তুলে ধরেন।
সরকারের উদ্যোগের পাশাপাশি পরিপূরক হিসাবে এফবিসিসিআইয়ের এ্যাডভোকেসি তার অবিচ্ছিন্ন অংশগুলো তুলে ধরে তিনি বলেন, “আমরা যখন স্বাভাবিকতার দিকে ঘুরে দাঁড়াচ্ছি, তখন আমাদের অর্থনীতির বিষয়ে আমরা আত্মবিশ্বাসী। কেননা জিডিপিতে প্রবৃদ্ধি, রেমিট্যান্স প্রবৃদ্ধি এবং বৈদেশিক রিজার্ভ প্রবৃদ্ধি নিয়ে আমাদের অর্থনীতি শক্তিশালীভাবে ঘুরে দাঁড়িয়েছে।
এফবিসিসিআই তার সক্রিয় এডভোকেসি এবং স্থানীয় ও আন্তর্জাতিক স্টেকহোল্ডারদের পরামর্শ গ্রহণের মাধ্যমে বিস্তৃত পরিসরে আর্থিক ও অ-আর্থিক ব্যবস্থা সহ আর্থ-সামাজিক এজেন্ডা নিয়ে আগামী তিন বছরের জন্য আমরা একটি শক্তিশালী রোডম্যাপ প্রণয়নে সক্ষম হয়েছে।”
আইপি সুরক্ষা সহ আমাদের আরওআই প্রযুক্তির মতো অর্থনীতির রূপকারের কারণে বিনিয়োগকারীদের কাছে অন্যান্য সমমানের বাজারগুলোর তুলনায় বাংলাদেশ আকর্ষণীয় গন্তব্য হয়ে উঠেছে। প্রযুক্তি এবং জ্ঞান স্থানান্তরের মাধ্যমে দক্ষিণ আফ্রিকার বিনিয়োগকারীরা বাংলাদেশের উত্পাদন প্রতিযোগিতামূলক বাজারে এগিয়ে রাখা সহ, ডোমেস্টিক কনজিউমার বেস, আঞ্চলিক বাজারে প্রবেশ, বিনাশুল্কে ভারত, ইউরোপিয়ান ইউনিয়ন, কানাডা, অস্ট্রেলিয়াতে বাণিজ্য সুবিধা এবং এশিয়া প্যাসিফিক ট্রেড অ্যাগ্রিমেন্ট সুবিধা সহ আরও অনেক সুযোগ-সুবিধা গ্রহণ করতে পারে।
তিনি আরও বলেন, “যৌথ উদ্যোগের উদ্দীপনাকে কাজে লাগিয়ে আমরা খনন, ইলেক্ট্রনিক্স, অটোমোবাইল ও মোটরবাইক শিল্পের উপাদান উত্পাদন, কৃষি, ফিশারি ও সমুদ্র অর্থনীতি সহযোগিতা, শিপিংয়ে সেবা সহযোগিতা, পর্যটন, উচ্চশিক্ষা এবং অর্থ খাতে দ্বিপক্ষীয় ভ্যালু চেইন উদ্যোগ নিয়ে কাজ করতে আগ্রহী।”
দ্বি-মুখী বিনিয়োগ এবং বাজারে প্রবেশ সুবিধার গুরুত্ব উল্লেখ করে ডিসিসিআই সভাপতি বলেন, “ডারবান চেম্বার তার সদস্যদের এফবিসিসিআই-এর সদস্যদের সাথে সংযুক্ত করে কাজ করতে সক্ষম এবং আগ্রহী। সাফল্য অর্জন করা সম্ভব এমন সব প্রকল্পগুলোতে উভয় প্রতিষ্ঠানের সদস্যরা আবার নতুন করে সচল করে ভালো কিছু অর্জন করতে পারবে বলে আমি বিশ্বাস করি।”
আগ্রহের কয়েকটি ক্ষেত্রের কথা বিশেষভাবে উল্লেখ করে ডিসিসিআই-এর প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা বলেন, “আমাদের সদস্যদের জন্য আন্তর্জাতিক ব্যবসাকে সুবিধাজনক করে তোলা ডারবান চেম্বারের অন্যতম মূল লক্ষ্য এবং বাংলাদেশে আমাদের সদস্যদের জন্য দারুণ কিছু ব্যবসায়িক সহযোগিতা এগিয়ে আসার সম্ভাবনা দেখতে পেয়ে আমরা আনন্দিত।’’
তিনি আরও বলেন, ডিসিসিআই এবং এফবিসিসিআই-এর কারিগরি বাণিজ্য ও বিনিয়োগ দলগুলোর জন্য আমাদের সহযোগিতাকে আরও দৃঢ় করতে কার্যকর ও জোরালো চুক্তি খুবই গুরুত্বপূর্ণ।
ক্লাউড সম্মেলনে অংশগ্রহণকারীদের ধন্যবাদ জানিয়ে এফবিসিসিআই-এর সহসভাপতি সিদ্দিকুর রহমান বলেন, “অর্থনীতি পুনরুদ্ধারে ঘুরে দাঁড়ানোর এই সময়ে আমাদের অর্থনৈতিক সম্পর্ক জোরদার করার লক্ষ্যে আমরা আমাদের দক্ষিণ-আফ্রিকার অংশীদার এবং ডিসিসিআইয়ের সাথে নিবিড়ভাবে কাজ করবো এমনটাই আশা করছি।”
এফবিসিসিআই সভাপতি শিপবিল্ডিং, অটোমোবাইল শিল্প, রাসায়নিক এবং সমুদ্র অর্থনীতিতে একসাথে কাজ করার লক্ষ্যে কীভাবে উভয়পক্ষের যুক্ত হওয়া যেতে পারে সে বিষয়ে ডিসিসিআইকে আবারও আশ্বস্ত করেন