নতুন মাদক ‘আইস’, টার্গেট উচ্চবিত্তের ক্রেতা

বৃহস্পতিবার, ৫ নভেম্বর, ২০২০ ১:৫০:৪০ অপরাহ্ণ
0
26
::নিজস্ব প্রতিবেদক::

নতুন ধরণের একটি মাদকের নাম ‘আইস’। বাংলাদেশে এই মাদকের মূল ডিলার চন্দন রায়। পেশায় তিনি একজন স্বর্ণ ব্যবসায়ী। এ মাদক তিনি তার প্রবাসী আত্মীয় শংকর বিশ্বাসের মাধ্যমে মালয়েশিয়া থেকে বিমানযোগে এনে ঢাকার খুচরা বিক্রেতাদের মাধ্যমে উচ্চবিত্ত শ্রেণির কাছে বিক্রি করেন।

বৃহস্পতিবার দুপুরে ডিএমপি মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মলেন এ তথ্য জানিয়েছেন ঢাকা মহানগর পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (ডিবি) এ কে এম হাফিজ আক্তার।

এর আগে গতকাল বুধবার রাজধানী গেন্ডারিয়া, গুলশান, বনানী ও বসুন্ধরা এলাকায় অভিযান চালিয়ে মালয়েশিয়া থেকে আনা ‘আইস’সহ ৬ জনকে গ্রেপ্তার করে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি) রমনা বিভাগ। এ সময় তাদের কাছ থেকে ৬০০ গ্রাম ‘আইস’ উদ্ধার করা হয়।

গ্রেপ্তারকৃতরা হলো- চন্দন রায়, সিরাজ, অভি, জুয়েল, রুবায়েদ ও ক্যানি।

উদ্ধারকৃত ‘আইস’ নতুন ধরণের মাদক উল্লেখ করে ডিবির অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার বলেন, এর ক্যামিকেল নাম মেথান ফিটামিন। সেবু, ক্রিস্টাল ম্যাথ, ডি ম্যাথসহ এর আরও নাম রয়েছে। এর উৎপত্তিস্থল অস্ট্রেলিয়া, মালয়েশিয়া, সিঙ্গাপুর ও চায়না। ১০ গ্রাম আইস মাদকের দাম ১ লক্ষ টাকা। এটি গ্রহণে হরমোন উত্তেজনা স্বাভাবিক সময়ের চেয়ে হাজারগুন বৃদ্ধি পায়। তিনটি ফরমেশনে এটি গ্রহন করা হয়- ধুমপান আকারে, ইনজেক্ট করে ও ট্যাবলেট হিসেবে।

প্রতিবার এ মাদকদ্রব্য সেবনে ১০ থেকে ১২ হাজার টাকা খরচ হয়। দীর্ঘদিন এটি গ্রহণ করলে হৃদরোগ, অঙ্গপ্রতঙ্গ ড্যামেজ, দাঁত খয়ে যাওয়াসহ ব্রেইন স্ট্রোক হয়।

ডিবি প্রধান বলেন, উচ্চবিত্ত পরিবারের সন্তানদের টার্গেট করে এদেশে মার্কেট ধরতে বিদেশ থেকে এটি আনা হয়েছে। নতুন এ মাদক এনে অভিজাত শ্রেণির মধ্যে পরিচিতি পান চন্দন রায়। আমরা বিষয়গুলো খতিয়ে দেখছি, মাদকের উৎস, আনার প্রক্রিয়া, অর্থায়ন এবং দেশের অন্যান্য চক্রের বিষয়গুলো তদন্তে উঠে আসবে। স্বর্ণ ব্যবসায়ী চন্দন রায়ের বিষয়েও তদন্ত চলছে।

গত বছরের ফেব্রুয়ারিতে বাংলাদেশে প্রথমবারের মতো এ মাদক জব্দ করে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর।