প্রচ্ছদ

হেরে যাওয়ায় ‘মুখরক্ষার’ জন্য বিএনপি নানা কথা বলছে : তথ্যমন্ত্রী

২৭ জানুয়ারি ২০২১, ১৪:০৪

যুগের কন্ঠ ২৪ ডট কম
ফাইল ছবি

::যুগের কন্ঠ ডেস্ক::

চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন নির্বাচনে হেরে যাওয়ায় ‘মুখরক্ষার’ জন্য বিএনপি নানা কথা বলছে বলে মন্তব্য করেছেন আওয়ামী লীগের যুগ্ম সম্পাদক ও তথ্যমন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ।

বুধবার সন্ধ্যায় চট্টগ্রামের দেওয়ানজী পুকুর পাড়ে নিজের বাসায় এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, ‘নির্বাচন চলাকালীন সময়ে বিএনপি সংবাদ সম্মেলন করেছে। নির্বাচন শেষ হওয়ার আগ মুহূর্তে আমীর খসরু মাহমুদ সাহেব সংবাদ সম্মেলন করেছেন। রিজভী সাহেব ঢাকায় বসে সংবাদ সম্মেলন করেছেন এবং নানা ধরনের প্রশ্ন তুলেছেন।’

‘আমরা আগে থেকে জানতাম, এ ধরনের প্রশ্ন তোলার জন্যই, তারা নির্বাচনে অংশগ্রহণ করেছেন। তারা সব নির্বাচনে এ ধরনের গৎবাঁধা প্রশ্ন উপস্থাপন করেন।’

৯৪ সালের পর থেকে চট্টগ্রাম সিটির কোন ভোটে বিএনপি জিতেনি দাবি করে তথ্যমন্ত্রী বলেন, ‘মনজুর আলম সাহেব একবার বিএনপির পক্ষ হয়ে নির্বাচন করেছিলেন, আসলে মনজুর আলম সাহেব তো আওয়ামী লীগের মানুষ। বিএনপির কাছে হায়ারে খেলতে গিয়েছিলেন তিনি। সেই নির্বাচনে আওয়ামী লীগের অনেক লোক তার পক্ষে কাজ করেছেন, যেহেতু তিনি দীর্ঘদিন ধরে আওয়ামী লীগ করেছেন। সেই কারণে তিনি জয়লাভ করেছেন।’

ড. হাছান মাহমুদ বলেন, ‘যা খবর পাচ্ছি, এই নির্বাচনে আমরা বিপুল ভোটে জয়লাভ করতে যাচ্ছি। নির্বাচনে হেরে গেলে সবাই অভিযোগ তুলে, বিএনপির অভ্যাস তো সেরকম। নাচতে না জানলে উঠান বাঁকা। আমীর খসরু ও রিজভী সাহেবের বক্তব্য তেমনই। তারা হেরে যাওয়ার পর মুখরক্ষার জন্য কথাগুলো বলছেন।’

নির্বাচনে বিএনপির সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড চালিয়েছে অভিযোগ করে তথ্যমন্ত্রী বলেন, ‘ইউসেফ স্কুল কেন্দ্রে বিএনপির আক্রমণে আওয়ামী লীগের দুইজন কর্মী আহত হয়েছেন। আমবাগান কেন্দ্রে বিএনপির আক্রমণে আওয়ামী লীগের একজন খুন হয়েছেন। পাথরঘাটা কেন্দ্রে আক্রমণ চালিয়ে ইভিএম ভেঙে দিয়েছে বিএনপি। দেওয়ানবাজার কেন্দ্রে সংখ্যালঘু ভোটারদের ভয়ভীতি প্রদর্শন করেছে বিএনপি। ল্যাবরেটরি স্কুলে আওয়ামী লীগের কর্মী, এজেন্ট নিখোঁজ।’

মন্ত্রীর অভিযোগ, ‘লালখানবাজার কেন্দ্রে নগর আওয়ামী লীগের প্রচার সম্পাদকের ছেলেকে রক্তাক্ত করেছে বিএনপি, সেখানে আরও পাঁচজন আহত হয়েছে। চান্দগাঁও মৌলভী পুকুর পাড় কেন্দ্রে বিএনপির আক্রমণে যুবলীগের কর্মীসহ ৫ জন আহত হয়েছেন। অভিজিৎ নামের একজন আওয়ামী লীগ কর্মী গুলিবিদ্ধ হয়েছে। কাজের আলী স্কুল কেন্দ্রে যুবলীগ কর্মী সোলায়মান বিএনপির আক্রমণে গুরুতর আহত হয়েছেন।’

কেউ সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড চালালে পুলিশ দলমত নির্বিশেষে সবার প্রতি ব্যবস্থা নিয়েছে দাবি করে ড. হাছান মাহমুদ বলেন, ‘লালখানবাজারে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদকসহ দলের অনেককে পুলিশ ধরে নিয়ে গেছে। এমনকি লাটিচার্জও করা হয়েছে আমাদের কর্মীদের উপর। যেখানে বিএনপি হাঙামা করেছে সেখানে ব্যবস্থা নিয়েছে, যেখানে আওয়ামী লীগ হাঙামা করেছে সেখানের ব্যবস্থা নিয়েছে। পুলিশ তো আইনশৃঙ্খলা রক্ষা করবে।’

এমপি, মন্ত্রী হওয়ায় এই নির্বাচনে দলের জন্য কোন ভূমিকা রাখতে পারেননি জানিয়ে ড. হাছান মাহমুদ বলেন, ‘আইনি বাধ্যবাধকতার কারণে দলের গুরুত্বপূর্ণ পদে থাকার পরও নির্বাচনে ভূমিকা রাখতে পারিনি। এর রকম বৈষম্যমূলক বিধান আশেপাশে কোনো দেশে নেই। ভারতের রাজ্য ও কেন্দ্রীয় মন্ত্রীরা তাদের প্রটোকল, সুযোগ-সুবিধা বাদ দিয়ে দলের পক্ষে সব ধরনের নির্বাচনী প্রচার-প্রচারণাসহ অন্যান্য কর্মকাণ্ড করে। ইংল্যান্ডেও পারে। ইউরোপের দেশেও পারে। কিন্তু আমাদের দেশে পারে না। চেয়ে চেয়ে তাকিয়ে থাকা ছাড়া কোনো কাজ আমরা করতে পারি না। এমন অদ্ভুত বিধান… এবং এটি বৈষম্যমূলক বিধান সরকারি দলের জন্য।’

করোনা মহামারীর মধ্যে নির্বাচন ও ইভিএমে অভ্যস্ত না হওয়ায় ভোটার উপস্থিতি অপেক্ষাকৃত কম হয়েছে বলে ৈমনে করেন তথ্যমন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ।

Shares