প্রচ্ছদ

এমপি-ওসির অডিও ফাঁস: নিরাপত্তা চেয়ে আইনজীবীর জিডি

৩১ জানুয়ারি ২০২১, ১৪:৫৯

যুগের কন্ঠ ২৪ ডট কম
সংসদ সদস্য শাহীন চাকলাদার
::যশোর প্রতিনিধি::

যশোর-৬ আসনের সংসদ সদস্য শাহীন চাকলাদার কর্তৃক ‘থানায় বোমা মেরে মিথ্যা মামলায় জড়ানোর চক্রান্তের’ খবরে নিরাপত্তা চেয়ে সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেছেন পরিবেশবাদী আইনজীবী শেখ সাইফুল্লাহ।

শনিবার (৩০ জানুয়ারি) কেশবপুর থানায় তিনি এ সাধারণ ডায়েরি করেন। যার নম্বর-১০৬৪। ডিউটি অফিসার এএসআই মোমিন সাধারণ ডায়েরিটি নথিভুক্ত করেছেন।

সাধারণ ডায়েরিতে উল্লেখ করা হয়েছে, শেখ আব্দুল জলিলের ছেলে শেখ সাইফুল্লাহ কেশবপুর উপজেলার সাতবাড়ীয়া গ্রামের অধিবাসী। ২৯ জানুয়ারি অনলাইন সংবাদপত্রের মাধ্যমে তিনি জানতে পারেন, স্থানীয় সংসদ সদস্য শাহীন চাকলাদার কেশবপুর থানার ওসিকে তার বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা দায়ের করার জন্য মোবাইল ফোনে চাপ প্রয়োগ করছেন।

‘সাতবাড়ীয়া গ্রামের লাইসেন্স ও পরিবেশের ছাড়পত্রহীন ‘সুপার ব্রিকস’ নামে একটি ইটভাটার পরিবেশ দূষণের ঘটনায় এলাকাবাসী আন্দোলন করেন। এলাকাবাসী বিভিন্ন দপ্তরে অভিযোগ জানিয়ে ব্যর্থ হয়ে বাংলাদেশ পরিবেশ আইনবীদ সমিতি ‘বেলা’তে আইনি সহায়তা চান। এলাকাবাসীর আবেদনের প্রেক্ষিতে বেলা হাইকোর্টে একটি জনস্বার্থমূলক মামলা করেন। হাইকোর্ট শুনানি শেষে ইটভাটাটি অপসারণের নির্দেশ দেন। হাইকোর্টের আদেশ অনুসারে পরিবেশ অধিদপ্তর যশোর ও কেশবপুর থানা যৌথ অভিযান চালিয়ে গত ২০ ডিসেম্বর ইটভাটাটি অপসারণ করে।’

সাধারণ ডায়েরিতে আরও উল্লেখ করা হয়, ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাবাসীর সাথে শেখ সাইফুল্লাহও বেলাকে তথ্য সহায়তা দেন। যে কারণে সংসদ সদস্য শাহীন চাকলাদার তার ওপর ক্ষিপ্ত। সংবাদটি পড়ার পর থেকে শেখ সাইফুল্লাহ জান-মালের নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন। যে কারণে নিরাপত্তা চেয়ে তিনি এ সাধারণ ডায়েরি করছেন বলে উল্লেখ করেন।

এ বিষয়ে আইনজীবী শেখ সাইফুল্লাহ বলেছেন, সংবাদটি পড়ে আমি আতঙ্কিত হয়ে পড়েছি। সরকারদলীয় একজন সংসদ সদস্যের এমন বক্তব্যে আমি জীবনের নিরপত্তা নিয়ে দুশ্চিন্তায় আছি। যে কারণে বেলার উর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সাথে কথা বলে সাধারণ ডায়েরি করেছি।

কেশবপুর থানার ডিউটি অফিসার এএসআই মোমিন সাধারণ ডায়েরিটি নথিভুক্ত করার বিষয়টি নিশ্চত করেছেন।

প্রসঙ্গত, সম্প্রতি একটি অডিও বার্তা ছড়িয়ে পড়ে। সেখানে কেশবপুর থানায় বোমা মেরে শেখ সাইফুল্লাহকে ফাঁসাতে ওসিকে পরামর্শ দিতে শোনা যায় যশোর-৬ আসনের সংসদ সদস্য ও জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক শাহীন চাকলাদারকে। এ বিষয়ে কয়েকটি গণমাধ্যমে খবরও প্রকাশিত হয়। হাইকোর্টের নির্দেশকেও বুড়ো আঙ্গুল দেখানোর কথা শোনা যায় ওই অডিও বার্তায়।

ওই অডিও বার্তায় এমপি শাহীন চাকলাদার ও ওসি মো. জসিম উদ্দিনের কথোপকথন:

ওসি: আসসালামু আলাইকুম স্যার।

শাহীন চাকলাদার: সাতবাড়িয়ার সাইফুল্লাহ কিডা, চেনো?

ওসি: সাতবাড়িয়া, সাইফুল্লাহ আছে, স্যার ওই ইটভাটার একটা বিষয় নিয়ে সাইফুল্লাহ, ‘বেলা’য় যেয়ে মামলা-টামলা করে আর কী। বাজে একটা ছেলে স্যার।

শাহীন চাকলাদার: আপনি এখন রাত্তিরে থানায় বোম মারেন একটা। মারায়ে ওর নামে মামলা করতে হইবে। পারবেন? আপনি থাকলে এগুলো করতে অইবে। না অইলে কোনো জায়গায় করবেন? আমি যা বলছি, লাস্ট কথা ইডাই। যদি পারেন ওই এলাকা ঠাণ্ডা রাখতি, আমি বন ও পরিবেশ বিষয়ক স্থায়ী কমিটির সদস্য। ওখানে কারও বাপের ক্ষমতা নেই। সে (সাইফুল্লাহ) বারবার যেয়ে কেন করে, আপনি কী করেন?

ওসি: ও তো স্যার হাইকোর্টের কাগজ নিয়া আসে বারবার।

শাহীন চাকলাদার: আরে কোথার হাইকোর্ট-ফাইকোর্ট। কোর্ট- ফোর্ট যা বলুক, বলুইগ্যা। আমাদের খেলা নাই? খেলা নাই?

ওসি: হাইকোর্টে স্যার…

শাহীন চাকলাদার: ওসি হলি, ওসি কিন্তু ডায়নামিক হইতে অয়। আজকে বাঘারপাড়ার ওসি আসছিল আমার কাছে। ওরে আবার চৌগাছায় দিয়ে দিচ্ছি। ও ওসি…চেনেন? বাঘারপাড়া ওসিকে চেনেন?

ওসি: চিনি না আবার স্যার? মামুন সাহেবরে?

শাহীন চাকলাদার: কথা বইলেন তার সঙ্গে। তাকে নিয়ে আসতেছি চৌগাছায়। আপনে ওকে যে কোনোভাবে, যে কোনো লোক দিয়ে, কাইলকে যে কোনো দুর্ঘটনা ঘটায়ে কালকে কাজটা করেন, ওকে?

ওসি: স্যার, দেখি স্যার। কী হয়েছে স্যার? ও কি ডিস্টার্ব করতেছে আবার?

শাহীন চাকলাদার: ও কী ডিস্টার্ব করবে? আচ্ছা, বন ও পরিবেশ অফিসে আমি আছি। কার বাপের ক্ষমতা আছে এখানে আসবে! আমি বলছি কী, একটা আপনি খেলা খেলে ওকে ভেতরে নিয়ে আসেন। কথা বুঝেন নাই?

ওসি: স্যার, স্যার। দেখবোনে স্যার।

শাহীন চাকলাদার: কেমন অফিসার আপনি, আল্লাই জানে। কাজ দিলি কাজ পারেন না।

ওসি: হা হা হা হা স্যার। সব কাজই তো করি, স্যার।

শাহীন চাকলাদার: সব কাজ করেন, না? তালিপরে যে কোনো ভাটায় যেয়ে, দরকার হলি পুলিশের লোক দিয়ে সিভিলে বোম ফাটায় দিয়ে চলে আসুক। বলতে হবি যে, হামলা করেছে ডাকাতি করার জন্য। এটা ছিল অমুক। একটা বানাই দিলে অয়া গেল।

Shares