প্রচ্ছদ

প্রেমিক সেজে আদিবাসী শিক্ষার্থীকে ধর্ষণ

০১ ফেব্রুয়ারি ২০২১, ০৯:৪০

যুগের কন্ঠ ২৪ ডট কম
::যুগের কন্ঠ ডেস্ক::

দিনাজপুরের ঘোড়াঘাটে প্রেমিকের ছদ্মবেশে ফোনে কথা বলে রাতের আধারে ডেকে নিয়ে এক আদিবাসী কিশোরীকে গণধর্ষণের ঘটনা ঘটেছে। এই ঘটনায় থানায় অভিযোগ দায়েরের পর ৩ জনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

সোমবার সকালে উপজেলার বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালিয়ে তাদেরকে গ্রেপ্তার করা হয়।

গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন, ঘোড়াঘাট উপজেলার ঘুুঘুরা (ভোতরা পাড়া) গ্রামের মৃত লাল মিয়ার ছেলে নাইট গার্ড এবং ছদ্মবেশী প্রেমিক লাবু মিয়া (২৮), একই গ্রামের আহাম্মদ আলীর ছেলে রাজমিস্ত্রি আশরাফুল ইসলাম (৩৫) এবং পৌর এলাকার বাউপুকুর গ্রামের বেল্লাল হোসেনের ছেলে রাজমিস্ত্রি ওমর ফারুক (২১)।

মামলা এজাহার সূত্রে জানা যায়, ঘোড়াঘাট পৌর এলাকার বাউপুকুর গ্রামের মৃত চুরকা হাসদার দশম শ্রেণীতে পড়ুয়া (১৭) সাথে রাজু নামের এক ছেলের প্রেমের সম্পর্ক গড়ে উঠে।দুইজনের মাঝে ফোনে কথোপকথনের বিষয়টি জানতে পারে লাবু নামে এক যুবক। রাজু কৌশলে ওই মেয়েটির ফোন নাম্বার সংগ্রহ করে বারবার রাজু পরিচয়ে মেয়েটির সঙ্গে মোবাইল ফোনে কথা বলে। শনিবার (৩০ জানুয়ারি) রাত তিনটার সময় কিশোরী সখিনার বাড়ির পাশে আব্দুর রহমানের লিচু বাগানে তাকে দেখা করতে ডাকে। বাগানে গিয়ে সে প্রেমিক রাজুর পরিবর্তে অন্য এক যুবককে দেখে চিৎকার করে এবং দৌড়ে বাড়িতে পালানোর চেষ্টা করলে লাবুর সঙ্গে বাগানে আগে থেকেই অবস্থান নেয়া দুই সহযোগী ওমর ফারুক এবং আশরাফুল (১৭) আটকে মুখ চেপে ধরে। পরে লিচুর বাগানেই পালাক্রমে ওই তিনজন কিশোরীকে গণধর্ষণ করে বাগানে ফেলে রেখে চলে যায়।

সখিনা হাসদার মা রানী সরেন জানান, সকালে ঘুম থেকে উঠে ঘরে মেয়েকে দেখতে না পেয়ে অনেক খোঁজাখুঁজির এক পর্যায়ে বাড়ির পাশের লিচুর বাগানে রক্তাক্ত অবস্থায় পড়ে থাকা মেয়েকে উদ্ধার করে বাড়িতে নিয়ে আসে। পরে মেয়ের মুখে পুরো ঘটনা শুনে সে মেয়েকে নিয়ে থানায় যায় এবং মামলা দায়ের করে।

বিষয়টি নিশ্চিত করে ঘোড়াঘাট থানার অফিসার ইনর্চাজ আজিম উদ্দিন, রোববার (৩১ জানুয়ারি) রাতে ভিকটিমকে নিয়ে তার মা থানায় এসে তিনজনের বিরুদ্ধে ধর্ষণের অভিযোগ এনে মামলা দায়ের করেন। পরে উপজেলার বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালিয়ে ওই তিন যুবককে গ্রেপ্তার করা হয়। গ্রেপ্তারকৃতদের বিরুদ্ধে ঘোড়াঘাট থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে গণধর্ষণের অভিযোগের মামলায় সোমবার সকালে দিনাজপুরের আদালতে পাঠানো হয়েছে।

তিনি আরো বলেন, ভিকটিমকের ডিএনএ টেস্ট করানোর জন্য দিনাজপুর মেডিকেলে নিয়ে যাওয়া হয়েছে।

Shares