প্রচ্ছদ

যে কারণে ফের সেনা নিয়ন্ত্রণে মিয়ানমার

০১ ফেব্রুয়ারি ২০২১, ০৯:৩৭

যুগের কন্ঠ ২৪ ডট কম
::আন্তর্জাতিক ডেস্ক::

মিয়ানমারে ক্ষমতাসীন দল ন্যাশনাল লিগ ফর ডেমোক্র্যাসির (এনএলডি) প্রধান অং সান সু চি ও প্রেসিডেন্টসহ বেশ কয়েকজন মন্ত্রীকে আটকের পর ফের দেশটির নিয়ন্ত্রণ নিয়েছে সেনাবাহিনী।

মিয়ানমারের গত বছরের সাধারণ নির্বাচনে করা প্রতারণার প্রতিক্রিয়ায় সরকারের জ্যেষ্ঠ নেতাদের আটক করেছে বলে দেশটির সেনাবাহিনী জানিয়েছে।

বার্তা সংস্থা রয়টার্স ও বিবিসি অনলাইন তাদের এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে, সোমবার ভোরে রাজধানীর নেপিদোতে অভিযান চালিয়ে মিয়ানমারের নেত্রী ও স্টেট কাউন্সেলর অং সান সু চি ও তার ক্ষমতাসীন দল ন্যাশনাল লিগ ফর ডেমোক্রেসির (এনএলডি) কয়েকজন জ্যেষ্ঠ নেতাকে আকস্মিকভাবে গ্রেপ্তার করে সেনাবাহিনী।

এর কয়েক ঘণ্টার পর সামরিক বাহিনীর নিয়ন্ত্রিত টেলিভিশনে এক বছরের জন্য দেশে জরুরি অবস্থা জারির ঘোষণা দেওয়া হয়।

টেলিভিশনে ওই ঘোষণায় বলা হয়, গত নির্বাচনে ‘জালিয়াতির’ ঘটনায় সরকারের জ্যেষ্ঠ নেতাদের আটক করা হয়েছে। জরুরি অবস্থা জারি করে মিয়ানমারের ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে সশস্ত্র বাহিনীর প্রধান সেনাবাহিনীর সিনিয়র জেনারেল মিং অং হ্লাইংয়ের হাতে।

গত কয়েক দিন ধরেই মিয়ানমারে বেসামরিক সরকার ও ক্ষমতাধর সেনাবাহিনীর মধ্যে টান টান উত্তেজনা চলছিল। সেনাবাহিনী আগে থেকেই অভিযোগ করছিল, গত নির্বাচনে জালিয়াতি করে ক্ষমতায় এসেছে এনএলডি।

এনএলডির মুখপাত্র মিয়ো নিয়ান্ত বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে টেলিফোনে জানান, অং সান সু চি ও তার দলের জ্যেষ্ঠ নেতাদের পাশাপাশি প্রেসিডেন্ট উইন মিন্তকেও গ্রেপ্তার করে নিয়ে যাওয়া হয়েছে।

তিনি বলেন, ‘আমি জনগণকে তাড়াহুড়ো করে কোনো প্রতিক্রিয়া না দেখাতে বলছি ও তারা যেন আইন মেনে চলেন।’

নিজেও গ্রেপ্তার হওয়ার আশঙ্কায় রয়েছেন বলে জানান তিনি। কিছুক্ষণ পর তার সঙ্গে আবার যোগাযোগ করার চেষ্টা করা হলে তাকে আর পাওয়া যায়নি।

২০১১ সালে গণতান্ত্রিক সংস্কার শুরুর আগ পর্যন্ত অর্ধশতক মিয়ানমার সেনাবাহিনীর শাসনেই ছিল। সে সময় দীর্ঘ ১৫ বছর গৃহবন্দি করে রাখা হয় সু চিকে।

গৃহবন্দি থাকা অবস্থায় গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার অহিংস লড়াইয়ের জন্য ১৯৯১ সালে শান্তিতে নোবেল পুরস্কার পান তিনি। এরপর তার দল এনএলডি জনপ্রিয়তার শীর্ষে উঠে আসে ২০১০ সালে মুক্তি পান সু চি।

২০১২ সালের উপ-নির্বাচনে ৪৫টি আসনের মধ্যে ৪৩টিতে জয়ী হয়ে সংসদে প্রধান বিরোধী দল হয় সু চির দল। এরপর ২০১৫ সালের নির্বাচনে এনএলডি নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেয়ে সরকার গঠন করে।

সেই সরকারের মেয়াদ শেষে গত বছরের ৮ নভেম্বরের জাতীয় নির্বাচনে সু চির দল এনএলডি বড় জয় পায়। পার্লামেন্টে সংখ্যাগরিষ্ঠতার জন্য যেখানে ৩২২টি আসনই যথেষ্ট, সেখানে এনএলডি পেয়েছে ৩৪৬টি আসন।

কিন্তু সেনাবাহিনী সমর্থিত দল ইউনিয়ন সলিডারিটি অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট পার্টি (ইউএসডিপি) ভোটে প্রতারণার অভিযোগ তুলে ফলাফল মেনে নিতে অস্বীকৃতি জানায় এবং নতুন করে নির্বাচন আয়োজনের দাবি তোলে। তারপর থেকেই দেশটিতে ফের সামরিক অভ্যুত্থানের শঙ্কা করা হচ্ছিল।

Shares