প্রচ্ছদ

ছাত্রলীগের বিতর্কিতদের নাম জানালো বিতর্কিতরা!

০৩ ফেব্রুয়ারি ২০২১, ১১:৪৭

যুগের কন্ঠ ২৪ ডট কম
::ঢাবি প্রতিনিধি::

ছাত্রলীগ থেকে বিতর্কিতদের বাদ দিয়ে সংগঠনকে বিতর্কমুক্ত করার জন্য গত ৩১ জানুয়ারি ৬৮টি শূন্যপদ পূরণ করেছে বাংলাদেশ ছাত্রলীগ। তবে নতুন পদপ্রাপ্তদের বিরুদ্ধেও চাঁদাবাজি, মাদকাসক্ত, বিবাহিত, বয়স উত্তীর্ণসহ আরো অনেক অভিযোগ তুলেছেন অব্যহতিপ্রাপ্তরা।

বুধবার ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাংবাদিক সমিতির কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে নতুন পদপ্রাপ্তদের মধ্যে ১৮ জনের বিরুদ্ধে সংগঠনবিরোধী বিভিন্ন কার্যক্রমে সংশ্লিষ্ট থাকার অভিযোগ তোলেন বাংলাদেশ ছাত্রলীগের অব্যহতিপ্রাপ্ত সাবেক দপ্তর সম্পাদক মো. আহসান হাবিব এবং সাবেক উপ-দপ্তর সম্পাদক মাহমুদ আবদুল্লাহ বিন মুন্সি।

অভিযুক্তরা হলেন, নতুন সহ-সভাপতি পদপ্রাপ্ত সাগর হোসেন সোহাগ, রানা হামিদ, আনন্দ সাহা পার্থ, শুভ্রদেব হালদার, জিয়াসমিন শান্তা, শাহরিয়ার সিদ্দিকী শিশিম, মিজানুর রহমান পিকুল, রাকিবুল হাসান নোবেল ও মো. মহিন উদ্দিন।

এছাড়া দপ্তর সম্পাদক ইন্দ্রনীল দেব শর্মা রনি, বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় বিষয়ক সম্পাদক আল-আমিন রহমান, উপ-তথ্য ও গবেষণা সম্পাদক মো. আব্দুর রশিদ (রাফি), উপ-গ্রন্থনা ও প্রকাশনা সম্পাদক আমান উল্লাহ আমান, উপ-আইন বিষয়ক সম্পাদক শাহেদ খান, উপ-গণশিক্ষা বিষয়ক সম্পাদক ওয়াহিদ খান রাজ, উপ-স্বাস্থ্য ও চিকিৎসা বিষয়ক সম্পাদক রাজেশ বৈশ্য, সহ-সম্পাদক মীর সাব্বির এবং সদস্যপদে সাজিদ আহমেদ দীপ্ত।

নতুন পদপ্রাপ্ত এসব নেতাকর্মীর বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি, মাদকাসক্ত, বিবাহিত, চাকরিজীবী, মামলার আসামি, বয়স উত্তীর্ণ, জাসদের পদধারী, ছাত্রদল করাসহ বেশকিছু অভিযোগ তোলা হয়।

তাদের অভিযোগ, সংগঠন থেকে বিতর্কিত ২১ জনকে অব্যহতি দেয়া হয়। পাশাপাশি আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে আরও ১১ জনের পদ শূন্য ঘোষণা করা হয়। প্রধানমন্ত্রীর নথি জালিয়াতির অপরাধে একজনকে অব্যহতিসহ জয়-লেখকের পদ মিলে মোট ৩৪টি শূন্যপদের সৃষ্টি হয়। তবে ৬৮টি শূন্য পদ তৈরি করা হলো, কোনো প্রক্রিয়ায় তার কোনো ব্যাখ্যাও পাওয়া যায়নি।

লিখিত বক্তব্যে তারা সংগঠনের কাছে বেশকিছু প্রশ্ন ছুঁড়ে দেন। অব্যাহতিপ্রাপ্ত ২১ জনকে কী কারণে অব্যাহতি দেয়া হলো, তা কেনো জানানো হয়নি? কিসের ভিত্তিতে অব্যাহতি প্রাপ্তদের অভিযোগ (দৈবিক) প্রমাণিত হয়েছে? সাংগঠনিক কাঠামো অনুযায়ী অভিযোগে এর ব্যাপারে অভিযুক্তদেরকে কেনো কারণ দর্শানোর নোটিশ দেয়া হয়নি? সাংগঠনিক কাঠামো অনুযায়ী নির্বাহী সংসদ এর কোনো অধিবেশন ছাড়া কিভাবে অব্যাহতি দেয়া হলো? বিগত ১ বছর ২ মাসেও বারবার অব্যাহতির কারণ জানতে চাইলে দায়িত্বশীলরা কেনো বিষয়টি এড়িয়ে গেলেন? সম্প্রসারিত কমিটি না করে ৩০১ সদস্য কমিটির ভেতরেই পদোন্নতি দেয়া হলো কিভাবে? এছাড়াও নানা প্রশ্ন রাখেন তারা।

ছাত্রলীগের সভাপতি আল নাহিয়ান খান জয় এবং সাধারণ সম্পাদক লেখক ভট্টাচার্যের বিরুদ্ধেও কয়েকটি অভিযোগের কথা জানান তারা।

অভিযোগগুলো হলো, তৃণমূলের ইউনিটগুলোর কার্যক্রম গতিশীলতা না রাখা, সম্মেলন না করে প্রেস বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে কমিটি প্রদান, বিভিন্ন ইউনিটের কমিটি করতে গিয়ে আর্থিক লেনদেনের কেলেঙ্কারিতে জড়িয়ে পড়া, মধুর ক্যান্টিন ও পার্টি অফিসে অনিয়মিত হওয়া, কেন্দ্রীয় কমিটির পদধারীদের ফোন না ধরা, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের হলগুলোতে নেতৃত্বের সেশন জট ও উপর মহলের এজেন্ডা বাস্তবায়ন করা।

এ অবস্থায় সাংগঠনিক গতিশীলতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে এবং ছাত্রলীগের ভাবমূর্তি পুনরায় জাগ্রত করতে প্রধানমন্ত্রীর কাছে আবেদন জানান তারা।

সার্বিক বিষয়ে জানতে চাইয়ে বাংলাদেশ ছাত্রলীগের সভাপতি আল নাহিয়ান খান জয় বলেন, ‘তাদের অভিযোগের কোনো ভিত্তি নেই। সংগঠনের নিয়ম মেনেই তাদেরকে অব্যাহতি দেয়া হয়েছে। বিতর্কিত কেউ সংগঠনে পদ পায়নি।’

Shares