প্রচ্ছদ

টিকাদান পরিকল্পনায় পরিবর্তন

০৪ ফেব্রুয়ারি ২০২১, ১২:৩৮

যুগের কন্ঠ ২৪ ডট কম

::যুগের কন্ঠ ডেস্ক::

বাংলাদেশে করোনাভাইরাসের গণ টিকাদান পরিকল্পনায় কিছু পরিবর্তন আনা হয়েছে বলে জানিয়েছেন স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. এবিএম খুরশীদ আলম।

বৃহস্পতিবার গণমাধ্যমকে খুরশীদ আলম বলেন, গতকাল প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে মুখ্য সচিবের সভাপতিত্বে টিকা বিতরণ সম্পর্কিত একটি বৈঠক হয়েছে। বৈঠক থেকে এ সিদ্ধান্তের কথা জানানোর পর পরিকল্পনায় এ পরিবর্তন আনা হয়েছে।

৭ ফেব্রুয়ারি সারাদেশে টিকাদান শুরু করে প্রথম মাসে ৬০ লাখ মানুষকে টিকা দেয়ার প্রস্তুতি নেয়া হচ্ছিলো। এখন তার বদলে এ মাসে ৩৫ লাখ মানুষকে টিকা দেয়ার সিদ্ধান্ত হয়েছে বলে জানান স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক।

অধ্যাপক ডা. এবিএম খুরশীদ আলম আরো বলেন, পরিকল্পনায় পরিবর্তন আনার ক্ষেত্রে বৈশ্বিক সরবরাহ পরিস্থিতিও বিবেচনায় নেয়া হয়েছে। আমরা চিন্তা করেছি, যদি কোনো কারণে সাপ্লাই চেইন অব্যাহত রাখতে না পারি, তাহলে টোটাল ব্যবস্থাপনা ভেস্তে যাবে। সেজন্য আমরা হাতে থাকা টিকা অর্ধেক করে পুরোপুরি কমপ্লিট ডোজ দেয়ার ব্যবস্থা করছি।

খুরশীদ আলম জানান, অক্সফোর্ড-অ্যাস্ট্রাজেনেকার টিকা প্রথম ডোজ দেয়ার চার থেকে বারো সপ্তাহের মধ্যে দ্বিতীয় ডোজ দেয়া যায়। সিদ্ধান্ত হয়েছে, ৩৫ লাখ মানুষকে প্রথম ডোজ দেয়ার পর দ্রুত দ্বিতীয় ডোজ দিয়ে দেয়া হবে। ৭০ লাখ টিকার অর্ধেক দিয়ে বাকি অর্ধেক রেখে এক মাস পর দেব। এতে অন্তত ৩৫ লাখ লোককে আমরা কমপ্লিট ভ্যাকসিনেশনে আনব। একটা নির্দিষ্ট জনগোষ্ঠীকে আমরা সুরক্ষিত করে দিই। প্রথম ডোজ দিলাম, কিন্তু দ্বিতীয় ডোজ যদি পেতে দেরি হয়, তাহলে পুরো বিষয়টি নষ্ট হয়ে যাবে। এর মধ্যে যদি আমাদের দ্বিতীয় লট চলে আসে, তাহলে আগের পরিকল্পনায় চলে যাব।

টিকা পাওয়া নিয়ে কোনো অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে কি না জানতে চাইলে ডা. খুরশীদ আলম বলেন, টিকা নিয়ে সারা বিশ্বে ‘অত্যন্ত ক্রুশিয়াল পলিটিক্স’ চলছে। ইউরোপের কয়েকটি দেশে অ্যাস্ট্রাজেনেকার বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে। সবারই টিকা দরকার। দেশের চাহিদা যদি না মেটাতে পারে, তাহলে সরকার তো অনুমতি দেবে না রপ্তানির। আমরা এটা আশঙ্কা করছি। যদিও বেক্সিমকো আমাদের এখন পর্যন্ত বলছে সঠিক সময়েই তারা টিকা দেবে। তারপরও আমরা সার্বিক পরিস্থিতি বিবেচনা করছি।

নিবন্ধনের অগ্রগতি জানতে চাইলে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক বলেন, প্রথম ধাপের টিকা দেয়ার জন্য নির্ধারিত সংখ্যায় নিবন্ধন ‘হয়ে যাবে’। প্রথম ধাপের টিকার নিবন্ধন আমাদের ডেটাবেইজে এন্ট্রি করা হিসাব অনুযায়ী হয়ে যাবে। এটা নিয়ে আপাতত আমাদের মাথাব্যথা নেই। আমাদের চিন্তা পরের লটে যারা টিকা দেবেন। আমরা যেমন চিন্তা করেছিলাম, তেমন নিবন্ধন হচ্ছে না, বাট নট ব্যাড, আমি বলব। আমাদের অফিসগুলো, ব্যাংক, পুলিশ, আনসার, আর্মি এখনও নিবন্ধন করেনি। তারা করলে আশা করছি হয়ে যাবে।

প্রতি মাসে ৩ কোটি মানুষকে টিকা দেয়ার সক্ষমতা স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের আছে বলেও জানান এবিএম খুরশীদ আলম।

Shares