প্রচ্ছদ

অনুমতি ছাড়া ‘নেত্রী’র টাইপোগ্রাফি ব্যবহার

০৯ ফেব্রুয়ারি ২০২১, ১৩:২১

যুগের কন্ঠ ২৪ ডট কম
ফেসবুক থেকে সংগৃহীত
::বিনোদন ডেস্ক::

রোববার রাজধানীর পাঁচ তারকা হোটেলে অনুষ্ঠিত হয়েছে অনন্ত জলিলের নতুন সিনেমা ‘নেত্রী দ্য লিডার’র মিট দ্য প্রেস। সেখানে দেখানো ছবির পোস্টারটি অনুমিত ছাড়াই ব্যবহৃত করা হয়েছে বলে অভিযোগ তুলেছে পান্থ হোসেন নামের এক ফ্রিল্যান্সার।

সে নিজেকে এই টাইপোগ্রাফির ক্রিয়েটর দাবি করে সোশ্যাল মিডিয়া ফেসবুকে একটি স্ট্যাটাস দিয়েছে। সঙ্গে জুড়ে দিয়েছে কতগুলো স্ক্রিনশট। এছাড়াও বিষয়টি নিয়ে তদন্তে অভিনেতা অনন্ত জলিলের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন এই ফ্রিল্যান্সার।

পান্থ হোসেনের আপলোড করা ফেসবুক পোস্টটি নিচে দেয়া হলো-

মুনসুন ফিল্মস যেটা অনন্ত জলিলের প্রোডাকশন হাউজ নামে পরিচিত। সেখানকার একটা ডিজাইনার সার্কুলার দেখে আমি প্রায় বছর খানেক আগে সিভি এ্যাপ্লাই করেছিলাম। হয়তো সর্ট লিস্টেডও হয়েছিলাম। সেই সুবাদে কিছুদিন আগে ওনাদের মুনসুন ফিল্মস থেকে আমাকে ই-মেইল করা হয়; যেখানে বলা হয় তাদের নতুন মুভি ‘নেত্রী দ্য লিডারের’ জন্য টাইপোগ্রাফি আর ‘দিন দ্য ডে’র জন্য হলিউড স্ট্যান্ডার্ড পোস্টার পাঠাতে এবং সঙ্গে অবশ্যই পিএসডি লেয়ার ফাইল পাঠাতে হবে।

অনন্ত জলিল নাকি এটা নিজে রিভিউ করবে এবং যদি ডিজাইন সিলেক্ট হয় তাহলে তার সোশ্যাল ডিজিটাল প্লাটফর্মের ডিজাইন কাজের জন্য ইন্টারভিউয়ে ডাকা হবে- এটাও ইমেইলে উল্লেখ ছিলো।

ফ্রিল্যান্সার ডিজাইনার হিসেবে আমি কাজ শুরু করি। দু’দিন পর উনাদের কলসেন্টার থেকে ফোনও আসে যে প্রতিযোগিতার সময় আরো দু’দিন বাড়ানো হয়েছে এবং টানা ৪ দিন কাজ করে আমি জেপিজি ফাইল জমা দিই। ইন্টারভিউয়’র আগেই পিএসডি চাওয়াটা আমার কাছে অযৌক্তিক মনে হয়েছে তাই আমি মেইলে জমা দিই Hi Res JPG এবং মেনশন করে দিই, আমার কাজ সিলেক্ট হলে পিএসডি জমা দেয়া হবে।

আমার উদ্দেশ্য ছিলো যেন চাইলে পরে বিলবোর্ড হিসেবে কাজগুলো ব্যবহার করতে পারে তাই শুরু থেকেই কাজটা ওভাবে করি। আমার পিএসডি ফাইলগুলোতে প্রায় ১৫০ লেয়ারের বেশি কাজ করা হয়েছে। একেকটা পোস্টার ২ জিবির উপরে ছিলো। হিউজ হাই-রেজুলেশন এবং টু মাচ ডিটেইলস।

গত ফেব্রুয়ারির ৫ তারিখে অনন্ত জলিল স্যারের অফিসিয়াল পেজে দেখতে পাই আমার বানানো ‘নেত্রী’ টাইপোগ্রাফি দিয়ে প্রেস কনফারেন্সের পোস্টার করা হয়েছে এবং ৭ তারিখে প্রেস কনফারেন্সের আয়োজন করা হয়েছে। আমার ‘নেত্রী’ টাইপোগ্রাফির জেপিজি থেকে কপি করে ব্যবহার করা হয়েছে টাইপোগ্রাফিটা এবং এ কাজটা এত বড় একজন মানুষের প্রোডাকশন হাউজ থেকে করা হয়েছে মানতে পারছিলাম না। সঙ্গে সঙ্গে ইমেইলে থাকা নাম্বারটায় ফোন করি মাহমুদ হাসান নামের একজনকে (ট্রু কলারে নাজিম নাম শো করছিলো)। এই মাহমুদ হাসান নামের ভদ্রলোককে আমি সবকিছু খুলে বললাম। তিনি আমার সবকিছু শোনার পর এমন ভাব করলেন তিনি কিছুই জানেন না। সবকিছু নাকি উনার স্যারের (অনন্ত জলিল) কাজ, স্যারই ব্যাপারটা ডিল করছেন।

আমি জানালাম, এই যে আমার সাথে কোন রকম যোগাযোগ না করেই আমার কাজ ব্যবহার করা হচ্ছে এবং টাইপোগ্রাফি যে সিলেক্ট হলো ও কনটেস্ট উইন করলাম কি না সকল কিছু যেন আমাকে জানানো হয়। কিন্তু আমার সঙ্গে উনারা আর যোগাযোগ করেনি।

আজ যখন ফোন করলাম মাহমুদ হাসান লোকটাকে তখন সে রিসিভ করে আমার ভয়েজ শোনার সঙ্গে সঙ্গেই ফোনটা কেটে তার মোবাইল অফ করে দেয়। স্টিল উনি মোবাইল অফ রেখেছেন। আমার কেন যেন মনে হচ্ছে ব্যাপারটা অনন্ত জলিল স্যারের অগোচরে হচ্ছে, উনি হয়তো জানেই না ‘নেত্রী’ যে টাইপোগ্রাফি তিনি পছন্দ করেছেন তার নতুন মুভির জন্য সেটা আমার বানানো, মাঝখানে এমন কেউ আছে যে আমার ডিজাইনটা কপি করে অনন্ত জলিল স্যারের কাছে তার নিজের ক্রিয়েশন হিসেবে প্রেজেন্ট করেছে। আমার কাছে ইমেইলে পাওয়া মাহমুদ নামের লোকটার নাম্বার ছাড়া আর কোন কন্ট্রাক নম্বর নেই তাদের।

প্রসঙ্গত,‘দিন দ্য ডে’ বাংলাদেশ ইরান যৌথভাবে প্রযোজনা করলেও পরের ছবি ‘নেত্রী দ্য লিডার’-এ বাংলাদেশের সাথে যৌথ প্রযোজনা করবে তুর্কিস্তান। তবে এবারের সিনেমায় মুখ্য চরিত্রে অনন্ত নিজে থাকছেন না। থাকছেন তার স্ত্রী বর্ষা। আর বাংলাদেশি অংশের নির্মাণের দায়িত্বে থাকছেন অনন্ত নিজেই।

ফেসবুক স্ট্যাটাসটি দেখতে ক্লিক করুন

Shares