প্রচ্ছদ

টিকা নিয়ে ভীতি একেবারেই নেই

০৯ ফেব্রুয়ারি ২০২১, ১২:১৩

যুগের কন্ঠ ২৪ ডট কম
ঢাকা মেডিকেল কলেজের টিকাকেন্দ্র পরিদর্শনে স্বাস্থ্য সচিব মো. আব্দুল মান্নান।
::নিজস্ব প্রতিবেদক::

টিকা নিয়ে প্রয়োগের ভয়ভীতি যতটুকু ছিল, এখন তা একেবারেই নেই বলে দাবি করেছেন স্বাস্থ্য সচিব মো. আব্দুল মান্নান। মঙ্গলবার ঢাকা মেডিকেল কলেজের (ঢামেক) টিকাকেন্দ্র পরিদর্শনে এসে সাংবাদিকদের এ কথা বলেন স্বাস্থ্য সচিব।

করোনাভাইরাসের গণ টিকাদান শুরুর পর তৃতীয় দিনের মত টিকা দেওয়া চলছে সারা দেশে। মঙ্গলবার ঢাকা মেডিকেলের টিকাকেন্দ্রে আগের দুদিনের চেয়ে ভিড় বেশি দেখা গেছে। তাদের মধ্যে বয়ষ্ক নাগরিকরাও রয়েছেন।

স্বাস্থ্য সচিব বলেন, আপনারা (সাংবাদিক) নিজেরাই দেখছেন, আমার বলার কিছু নাই। এখানে লাইন ধরে মানুষ আসছে, টিকা দেয়ার কোনো ঝামেলা নাই। উৎসবমুখর পরিবেশে স্বপ্রণোদিতভাবে টিকা নিচ্ছে। টিকা নেয়ার পর কোনো অসুবিধা হচ্ছে না বলে জানিয়েছেন টিকা গ্রহীতারা।

টিকা নিতে আরো মানুষ আসবে। যত দিন যাবে তত উৎসবমুখর হয়ে উঠবে টিকাদান কার্যক্রম- এ আশাবাদ ব্যক্ত করে আব্দুল মান্নান বলেন, ফেব্রুয়ারি মাসের শেষে কোভ্যাক্সের ১ লাখ ৩১ হাজার টিকা আসবে। যা বিনামূল্যে পাওয়া যাবে।

গতকাল পর্যন্ত ৭৮ হাজার মানুষ টিকা নিয়েছে এবং ছয় লাখের বেশি মানুষ টিকা নিতে নিবন্ধন করেছেন জানিয়ে তিনি আরো বলেন, আমরা চাইছি মানুষ নিরাপদে এবং আনন্দের সঙ্গে টিকা নেবে। ভিড় করার দরকার নেই। আমাদের সমস্ত সাপোর্ট এখানে দেয়া আছে।

সবাইকে নিবন্ধন করে টিকা নিতে আসার আহ্বান জানিয়ে মান্নান বলেন, স্পটেও রেজিস্ট্রেশন করছি, কিন্তু কোনটা করছি? বয়ষ্ক মানুষ চলে এসেছেন, উনার রেজিস্ট্রেশন করে দিচ্ছি।

সবাইকে আশ্বস্ত করে সচিব বলেন, অস্থিরতার কোনো কারণ নেই। পর্যাপ্ত ভ্যাকসিন আছে। বিভিন্ন সোর্স থেকে আমরা আরো ভ্যাকসিন পাচ্ছি।

বাংলাদেশে দেয়া হচ্ছে ভারতের সেরাম ইনস্টিটিউটে তৈরি অক্সফোর্ড-অ্যাস্ট্রাজেনেকার করোনাভাইরাসের টিকা। সবাইকে এ টিকার দুটি ডোজ নিতে হবে। সরকারের কেনা এ ভ্যাকসিনের তিন কোটি ডোজের মধ্যে প্রথম ৫০ লাখ ডোজ গত মাসে হাতে আসার পর প্রধানমন্ত্রী টিকাদান কর্মসূচির উদ্বোধন করেন। এছাড়া ভারতের উপহার হিসেবে আরো ২০ লাখ ডোজ অক্সফোর্ডের টিকা পেয়েছে বাংলাদেশ।

স্বাস্থ্য সচিব জানান, বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা ও গ্যাভির নেতৃত্বাধীন প্ল্যাটফর্ম কোভ্যাক্স থেকেও বাংলাদেশ অক্সফোর্ডের টিকা পাবে। এছাড়া ফাইজারের কিছু টিকাও আসবে। আর সেরাম ইনস্টিটিউট থেকে প্রতি মাসে যে ৫০ লাখ ডোজ পাওয়ার কথা, তার ফেব্রুয়ারির চালান আসার তারিখ চূড়ান্ত না হলেও সময়মতই তা পাওয়া যাবে।

আব্দুল মান্নান বলেন, সব মিলিয়ে দেশে টিকা নিয়ে কোনো সঙ্কট ‘হবে না’ বলেই সরকার আশা করছে। যতদিন জনগণ টিকা নিতে চাইবে, টিকার মূল্য যাই হোক, মাননীয় প্রধানমন্ত্রী সবাইকে সুরক্ষা দিতে মানসিকভাবে ও আর্থিকভাবে প্রস্তুতি নিয়েছেন।

যে টিকা বাংলাদেশে দেয়া হচ্ছে, তার প্রতিটি ভায়ালে থাকে ১০টি ডোজ। অর্থাৎ, প্রতিটি ভায়াল খোলার পর দশজনকে টিকা দেওয়া যায়। এ ক্ষেত্রে কোনো অপচয় হওয়ার সুযোগ থাকছে কি না- সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক অধ্যাপক এবিএম খুরশীদ আলম বলেন, যে কোনো ক্ষেত্রে ১০ শতাংশ ‘ওয়াস্টেজ’ ধরেই হিসাবে করা হয়। তারপরও আমরা বলেছি দশের গুণিতক লোক না আসা পর্যন্ত ভায়াল না খুলতে। তবে আমরা হিসাব করে দেখেছি, অপচয় দশ শতাংশ এখনো হয়নি।

ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মো. নাজমুল হক জানান, এ কেন্দ্রে সোমবার ৫০০ জনকে প্রথম ডোজ দেয়া হয়েছিল। মঙ্গলবার দুপুরের আগেই সেই সংখ্যা ছাড়িয়ে গেছে।

Shares