প্রচ্ছদ

ফের শাহবাগে ধর্ষণবিরোধী গণসমাবেশের ডাক

০৯ ফেব্রুয়ারি ২০২১, ১৩:১৪

যুগের কন্ঠ ২৪ ডট কম
ফাইল ফটো
::ঢাবি প্রতিনিধি::

সারাদেশে নারীর প্রতি সহিংসতার সঙ্গে জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তিসহ ৯ দফা দাবিতে ঢাকার শাহবাগে ধর্ষণবিরোধী গণসমাবেশের ডাক দিয়েছে ‘ধর্ষণ ও বিচারহীনতার বিরুদ্ধে বাংলাদেশ’ নামে সংগঠনটি।

আগামী শুক্রবার (১২ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে এ গণসমাবেশের আয়োজন করবে তারা।

মঙ্গলবার ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মধুর কেন্টিনে এক সংবাদ সম্মেলন থেকে একথা জানিয়েছেন প্রগতিশীল ছাত্র, নারী, যুব, সাংস্কৃতিক সংগঠন ও বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ সমন্বয়ে গড়ে ওঠা ‘ধর্ষণ ও বিচারহীনতার বিরুদ্ধে বাংলাদেশ’।

সংবাদ সম্মেলনের লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন সমাজতান্ত্রিক ছাত্র ফন্ট কেন্দ্রীয় কমিটির সাধারণ সম্পাদক নাসির উদ্দিন প্রিন্স।

সংবাদ সম্মেলনে তারা এই প্রতিরোধ কর্মসূচিতে অংশ নিয়ে ধর্ষণ-নিপীড়নের বিরুদ্ধে গণজাগরণ সৃষ্টি করার আহ্বান জানান।

শাহবাগে ধর্ষণবিরোধী গণসমাবেশের ডাক

সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন, বাংলাদেশ ছাত্র ফেডারেশনের সভাপতি গোলাম মোস্তফা, নারীমুক্তির কেন্দ্রের সভাপতি সীমা দত্ত, চরণ সাংস্কৃতিক কেন্দ্রের সংগঠক শোভন রহমান, পাহাড়ি ছাত্র পরিষদের সাংগঠনিক সম্পাদক অমল ত্রিপুরা, বাংলাদেশ ছাত্র ইউনিয়নের সভাপতি মো. ফয়েজ উল্লাহ প্রমুখ।

এর আগে গত বছরের ৯ অক্টোবর রাজধানীর শাহবাগে ‘ধর্ষণ ও বিচারহীনতার বিরুদ্ধে বাংলাদেশ’ লেখা ব্যানারে মহাসমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। মহাসমাবেশ থেকে তারা ৯ দফা দাবি উপস্থাপন করে সাংস্কৃতিক সমাবেশ, নারী সমাবেশ, সাইকেল র‍্যালিসহ নানা কর্মসূচি পালন শেষে ১৬-১৭ অক্টোবর ঢাকা থেকে নোয়াখালী পর্যন্ত লংমার্চ করেন।

সংবাদ সম্মেলনে সংগঠনটি তাদের ৯ দফা দাবি উপস্থাপন করেন। দাবিগুলো হুবহু তুলে ধরা হলো:

১। সারাদেশে অব্যাহতভাবে ধর্ষণ ও নারীর প্রতি সহিংসতার সাথে যুক্তদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে। ধর্ষণ, নিপীড়ন বন্ধ ও বিচারে ব্যর্থ স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে অবিলম্বে অপসারণ করতে হবে।

২। পাহাড়-সমতলে আদিবাসী নারীদের ওপর সামরিক-বেসামরিক সকল প্রকার যৌন ও সামাজিক নিপীড়ন বন্ধ করতে হবে।

৩। হাইকোর্টের নির্দেশানুযায়ী শিক্ষা প্রতিষ্ঠানসহ সরকারি, বেসরকারি সকল প্রতিষ্ঠানে নারী নির্যাতন বিরোধী সেল কার্যকর করতে হবে। সিডো সনদের পূর্ণ বাস্তবায়ন করতে হবে। নারীর প্রতি বৈষম্যমূলক সকল আইন ও প্রথা বিলোপ করতে হবে।

৪। ধর্ষণ মামলার ক্ষেত্রে সাক্ষ্য আইন ১৮৭২-১৫৫ (৪) ধারাকে বিলোপ করতে হবে এবং মামলার ডিএনএ আইনকে সাক্ষ্য প্রমাণের ক্ষেত্রে কার্যকর করতে হবে।

৫। অপরাধ বিজ্ঞান ও জেন্ডার বিশেষজ্ঞদের নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইবুনালে অন্তর্ভুক্ত করতে হবে। ট্রাইবুনালের সংখ্যা বাড়িয়ে অনিষ্পন্ন সকল মামলা দ্রুত নিষ্পন্ন করতে হবে।

৬। তদন্তকালীন সময়ে ভিকটিমকে মানসিক নিপীড়ন-হয়রানি বন্ধ করতে হবে। ভিকটিমের আইনগত ও সামাজিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে।

৭। ধর্মীয়সহ সকল ধরণের সভা-সমাবেশে নারী বিরোধী বক্তব্য শাস্তিযোগ্য অপরাধ হিসেবে গণ্য করতে হবে। সাহিত্য, নাটক, সিনেমা, বিজ্ঞাপনে নারীকে পণ্য হিসেবে উপস্থাপন বন্ধ করতে হবে। পর্নোগ্রাফি বন্ধে বিটিআরসি’র কার্যকর ভূমিকা পালন করতে হবে। মাদকব্যবসার হোতাদের গ্রেপ্তার করতে হবে, মাদকাসক্তি বন্ধে কার্যকর উদ্যোগ নিতে হবে। সুস্থ ধারার সাংস্কৃতিক চর্চায় সরকারি পৃষ্ঠপোষকতা করতে হবে।

৮। পাঠ্যপুস্তকে নারীর প্রতি অবমাননা ও বৈষম্যমূলক যে কোন প্রবন্ধ, নিবন্ধ, পরিচ্ছদ, ছবি, নির্দেশনা ও শব্দ চয়ন পরিহার করতে হবে।

৯। গ্রামীন সালিশের মাধ্যমে ধর্ষণের অভিযোগ ধামাচাপা দেয়ার চেষ্টাকে অপরাধ হিসেবে গণ্য করতে হবে।

Shares