প্রচ্ছদ

বগুড়ায় মোটর মালিক গ্রুপের সংঘর্ষ, পুলিশসহ আহত ১০

০৯ ফেব্রুয়ারি ২০২১, ১৩:০৯

যুগের কন্ঠ ২৪ ডট কম
::বগুড়া প্রতিনিধি::

বগুড়া জেলা মোটর মালিক গ্রুপের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে দুই পক্ষের সংঘর্ষে ডিএসবির কনস্টেবল ও সাংবাদিকসহ আহত হয়েছেন ১০ জন।

মঙ্গলবার বেলা ১টায় শহরের চারমাথা টার্মিনাল এলাকায় এ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এ সময় মোটর মালিক গ্রুপের সাধারণ সম্পাদক ও পৌর প্যানেল মেয়র মো. আমিনুল ইসলামের অফিসসহ কয়েকটি মোটরসাইকেলে অগ্নিসংযোগ করা হয়েছে।

কনস্টেবল রমজান আলী ঘটনাস্থলে তথ্য সংগ্রহ করছিলেন। এ সময় তাকেও ছুরিকাঘাত করা হয়েছে। বর্তমানে তিনিসহ অন্য আহতরা বগুড়ার শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ (শজিমেক) হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

সংঘর্ষের পর চারমাথা এলাকায় থমথমে অবস্থা বিরাজ করছে। বিপুল সংখ্যক পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।

জানা যায়, বগুড়া জেলা মোটর মালিক গ্রুপের সভাপতি আমিনুলের নিয়ন্ত্রণে থাকা মোটর মালিক গ্রুপের অফিস দখলের ঘোষণা দিয়ে প্রস্তুতি নিচ্ছেন মোহন গ্রুপ- এমন সংবাদ পেয়ে আমিনুল গ্রুপের লোকজন চারমাথা টার্মিনাল এলাকায় সমবেত হয়। তারা যে কোনো মূল্যে মোহন গ্রুপকে প্রতিহত করার জন্য মাইকে ঘোষণা দিয়ে পরিবহন শ্রমিকদের প্রত্যেক হাতে লাঠি নিয়ে অবস্থান নেয়।

বগুড়া মোটর মালিক গ্রুপের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে দুই পক্ষের সংঘর্ষ

সংবাদ পেয়ে সদর সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার ফয়সাল মাহমুদ ও সদর থানার ওসি হুমায়ুন কবীরের নেতৃত্বে পুলিশ চারমাথা টার্মিনাল এলাকায় অবস্থান নেয়। পুলিশ আমিনুলকে সমঝোতায় প্রস্তাব দিলে আমিনুল গ্রুপ তা প্রত্যাখ্যান করে এবং মোহন গ্রুপকে প্রতিহত করবে বলে পুলিশকে জানিয়ে দেয়।

পুলিশের সামনেই লাঠি মিছিল শুরু করে আমিনল গ্রুপের লোকজন এ সময় মোহন গ্রুপের প্রায় দুই হাজার লোকজন সান্তাহার সড়ক দিয়ে এলজিইডির সামনে অবস্থান নেয়। পুলিশ মাঝামাঝি অবস্থান নিলে মোহন গ্রুপের লোকজন লাঠিশোটা নিয়ে পুলিশের ব্যারিকেট ভেঙে আমিনুল গ্রুপের লোকজনকে ধাওয়া দিলে তারা পালিয়ে যায়। পরে মোহন গ্রুপের লোকজন চারমাথা টার্মিনাল এলাকা দখলে নিয়ে ব্যাপক ভাঙচুর শুরু করে। আমিনুলের নিয়ন্ত্রণে থাকা মোটর মালিক গ্রুপের অফিস ও তার ব্যক্তিগত অফিসে থাকা মোটরসাইকেল ভাঙচুর করে আগুন লাগিয়ে দেয়া হয়।

তাণ্ডব চলাকালীন সময়ে ভাঙচুরের ছবি ভিডিও ধারণ করতে গেলে জিটিভির ক্যামেরাপার্সন রাজু আহম্মেদকে বেধড়ক মারপিট করা হয়। পরে লাঠিচার্জ ও শর্টগানের গুলি ছুড়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে পুলিশ।

গত ৭ জানুয়ারি দুপুরে বগুড়া মোটর মালিক গ্রুপের নিয়ন্ত্রণ নিতে গিয়ে অবরোধের মুখে ফিরে আসে বগুড়ার অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেটের নেতৃত্বে একটি টিম। বগুড়া মোটর মালিক গ্রুপের নেতৃত্ব নিয়ে বিরোধের কারণে বাণিজ্য মন্ত্রণালয় থেকে বগুড়ার অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেটকে প্রশাসক নিয়োগ দিয়ে দায়িত্ব গ্রহণের ১২০ দিনের মধ্যে নির্বাচনে দিতে বলা হয়। কিন্তু মালিক পক্ষ থেকে এ নিয়ে হাইকোর্টে মামলা চলমান রয়েছে। এক পর্যায় হাইকোর্টের নির্দেশে গত ৬ ডিসেম্বর অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট প্রশাসকের দায়িত্ব গ্রহণ করেন।

পরবর্তীতে অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট পুলিশ নিয়ে চারমাথা এলাকায় মোটর মালিক গ্রুপের অফিস নিয়ন্ত্রণ নেয়ার চেষ্টা করেন। এতে মোটর মালিক গ্রুপের সাবেক নেতৃবৃন্দ অফিসের চাবি না দিয়ে বগুড়া-ঢাকা, বগুড়া-রংপুর মহাসড়ক ও বগুড়া-নওগাঁ আঞ্চলিক সড়কে বাস দিয়ে অবরোধ সৃষ্টি করেন। ফলে মহাসড়কে যানবাহন চলাচল বন্ধ হয়ে যানজট সৃষ্টি হয়। পরে প্রশাসনের আশ্বাসে এক ঘণ্টা পরে অবরোধ তুলে নেয় পরিবহন নেতারা।

বগুড়ার পুলিশ সুপার আলী আশরাফ ভূঞা বিষয়টি নিশ্চিত করে এ প্রতিবেদককে বলেন, একটি গ্রুপ জেলা মোটর মালিক গ্রুপের অফিস দখল করতে আসছে- এমন সংবাদ পেয়ে ফোর্স পাঠানো হয়। সংঘর্ষের সময় জেলা পুলিশের বিশেষ শাখার কনস্টেবল মো. রমজান আলী ছুরিকাহাত হন। সংঘর্ষের ঘটনায় পুলিশ ৯ জনকে আটক করা হয়েছে। পরিস্থিতি পুলিশের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে।

Shares