প্রচ্ছদ

বিকল এক্স-রে মেশিন, চিকিৎসক অভাবে বন্ধ অপারেশন

১৩ ফেব্রুয়ারি ২০২১, ১৩:৫২

যুগের কন্ঠ ২৪ ডট কম
হাকিমপুর স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স
::হিলি প্রতিনিধি::

হিলি স্থলবন্দর ও উপজেলার লক্ষাধিক মানুষের চিকিৎসা সেবার একমাত্র ভরসা হাকিমপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স। স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সটিতে চিকিৎসক থাকলে, নেই বেশিরভাগ পরীক্ষা-নিরীক্ষার যন্ত্রপাতি, ভোগান্তিতে পড়তে হয় চিকিৎসা নিতে আসা সাধারণ মানুষদের। এদিকে অত্যাধুনিক ওটি (অপারেশন থিয়েটার) থাকলেও কনসালটেন্ট ও এনেসথেসিয়া চিকিৎসকের অভাবে হয় না অপারেশন কার্যক্রম। অপারেশন থিয়েটার চালুসহ সব ধরনের স্বাস্থ্য পরীক্ষা ব্যবস্থা করার দাবি স্থানীয়দের।

যন্ত্রপাতিসহ কনসালটেন্ট ও এনেসথেসিয়া চিকিৎসকের জন্য চাহিদা ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে কাছে পাঠানো হয়েছে বলে জানান উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের কর্মকর্তা।

হাকিমপুর স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স সূত্রে জানা যায়, একমাত্র এক্সরে মেশিন সেটিও নষ্ট হয়ে রয়েছে। এছাড়াও আল্ট্রাসোনোগ্রাম মেশিন নেই, ডেন্টাল চিকিৎসক থাকলেও নেই ডেন্টাল চেয়ার। কনসালটেন্ট-এর ৬টি পদই ফাঁকা রয়েছে। ওটি আছে কিন্তু এনথেসিয়া চিকিৎসকের অভাবে অপারেশন হয় না। সেবিকার ২০টি পদ থাকলেও কর্মরত আছেন ১৭ জন। আর চতুর্থ শ্রেণির জনবল সঙ্কট চরমে।

দিনাজপুর জেলা শহর থেকে প্রায় ৯০ কিলোমিটার দক্ষিণে অবস্থিত হিলি-হাকিমপুর উপজেলা। সীমান্তবর্তী ও গুরুত্বপূর্ণ স্থলবন্দর হওয়ায় এখানকার মানুষের উন্নত চিকিৎসার জন্য সরকার ২০১৩ সালের ২২ অক্টোবর ৫ কোটি টাকা ব্যয়ে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সকে ৩১ শয্যা থেকে ৫০ শয্যায় উন্নীত করে। তবে শয্যা বাড়লেও নেই পরীক্ষা ব্যবস্থা, একটি মাত্র এক্সরে মেশিন থাকলেও সেটি আবার নষ্ট। এক্সরে মেশিন ও ডেন্টাল চেয়ার নষ্ট, আল্ট্রাসোনোগ্রাম মেশিন না থাকায় পার্শ্ববর্তী উপজেলা কিংবা জেলার ক্লিনিক থেকে এসব পরীক্ষা করতে হয়।

উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা নিতে আসা কয়েকজন নারী অভিযোগ করে বলেন, এই হাসপাতালে ডাক্তাররা আমাদের দেখে শুধু প্রেসক্রিপশন করে দেয় আর হাসপাতাল থেকে কয়েকটা ঔষধ দেয়। কিন্তু আমাদের শরীরে কী ধরনের সমস্যা এটার পরীক্ষার জন্য কোনো মেশিন নেই এখানে। হাত-পা কিংবা কোনো কিছু ভেঙ্গে গেলে আমরা এক্সরে করতে পারি না, কোনো কিছু মেশিনই নেই এখানে।আমাদের অনেক সমস্যায় পড়তে হয়।

স্থানীয় বাসিন্দা আব্দুর রহিম বলেন, হিলি একটা গুরুত্বপূর্ণ সীমান্ত এলাকা, এখানে একটি পোর্ট আছে ,ইমিগ্রেশন আছে। কোনো একটা জরুর রোগী নিয়ে আসলে অপারেশন করা যায় না কিংবা কোনো পরীক্ষা করা যায় না। যেতে হয় পাশের উপজেলায় এতে আমাদের বিড়ম্বনায় পড়তে হয়। সরকার যদি এলাকার মানুষের কথা ভেবে খুব দ্রুত এই হাসপাতালে অপারেশন কার্যক্রম চালু করতো তাহলে আমাদের জন্য ভালো হতো।

চিকিৎসা নিতে আসা মহিমা নামের একজন বলেন, আমরা গরীব মানুষ দেখেই তো হাসপাতালে আসি। কিন্তু এসে কি লাভ? এই হাসপাতালে বউ বেটির একটা সিজার করাতে পারি না। আল্ট্রাসোনোগ্রাম করা যায় না, অনেক সমস্যা। আমরা এলাকাবাসী চাই খুব দ্রুত এসব সমস্যার সমাধান করা হোক।

হাকিমপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের কর্মকর্তা ডা. তৌহিদ জানান, আমাদের হাসপাতালে অত্যাধুনিক ওটি (অপারেশন থিয়েটার) আছে কিন্তু কনসালটেন্ট ও এনেসথেসিয়া চিকিৎসক নেই যে কারণে অপারেশন করা সম্ভব হয় না। এক্সরে মেশিন, আল্ট্রাসোনোগ্রাম মেশিন ও ডেন্টাল চেয়ারে জন্য ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে চাহিদা পাঠিয়েছি। আশা করছি দ্রুত পাবো আমরা।

হাকিমপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোহাম্মদ নুর এ আলম বলেন, আমাদের হাকিমপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের এক্সরে মেশিন বিকল এছাড়াও বেশি কিছু সমস্যা আছে। আমরা সবগুলো সমস্যা সমাধানের জন্য ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবহিত করেছি।

Shares