প্রচ্ছদ

ভেজাল খাদ্য বিক্রেতাদের দমনের নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর

১৮ ফেব্রুয়ারি ২০২১, ১৩:১৮

যুগের কন্ঠ ২৪ ডট কম
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।
::নিজস্ব প্রতিবেদক::

ভেজাল খাদ্য বিক্রেতাদের কঠোরভাবে দমনের নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তিনি বলেছেন, একদিকে যেমন তাদেরকে বোঝানো, তাদের ভেতরে সচেতনতা সৃষ্টি, অপরদিকে কঠোর হাতে এটাকে দমন করতে হবে। দুই দিকেই ব্যবস্থা নেয়া একান্তভাবেই দরকার।

বৃহস্পতিবার (১৮ ফেব্রুয়ারি) জাতীয় নিরাপদ খাদ্য দিবস-২০২১ উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে তিনি এ প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন। রাজধানীর হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টালে এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করে বাংলাদেশ নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষ। প্রধানমন্ত্রী গণভবন থেকে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে অনুষ্ঠানে যুক্ত হন।

দেশের মানুষ যেন নিরাপদ খাদ্যের পাশাপাশি পুষ্টিকর খাদ্য পায়, সেই প্রত্যাশা ব্যক্ত করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, যারা খাদ্যগ্রহণ করবেন তাদেরকে সুষম খাদ্যগ্রহণের জন্য সচেতন করা একান্ত প্রয়োজন। ভেজালের ব্যাপারে আমি বলব, যে বা যারা ব্যবসা করতে চায় বা ব্যবসা করছে, দুই পয়সা বেশি কামাই করার জন্য তারা এই ভেজাল দিয়ে থাকে বা এই গন্ধ খাবার সেগুলোকে আবার ব্যবহার করে থাকে। এ ব্যাপারেও সচেতনতা সৃষ্টি করতে হবে। ঠিক আছে আপনাদের যা খরচ হবে সেই অনুযায়ী দাম নেন, কিন্তু এভাবে ভেজাল দিয়ে মানুষের ক্ষতি করবেন না।

কর্মকর্তাদের উদ্দেশে তিনি বলেন, আমি ধন্যবাদ জানাব, ইতিমধ্যে আপনারা ঢাকা শহরে বিভিন্ন হোটেল এবং রেস্তোরাঁগুলো..সেগুলোতে গ্রেডিং স্টিকার দিয়ে দিচ্ছেন এবং মনিটরিংয়ের ব্যবস্থা নিচ্ছেন। এটা অত্যন্ত ভালো কাজ। এ কাজটা শুধু রাজধানীতে করলে হবে না। এটা সারা বাংলাদেশে করা দরকার। সেদিকে আপনারা যথাযথ ব্যবস্থা নিতে পারেন। এই ব্যাপারে নজরদারি বাড়ানোর জন্য আপনারা যে পদক্ষেপই নেবেন এই ব্যাপারে যা সহযোগিতা করা দরকার করব।

এজন্য অর্থের প্রয়োজন হলে সেটা অর্থমন্ত্রী ব্যবস্থা করবেন জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী এ সময় অর্থমন্ত্রীকে ক্যামেরায় দেখানোর অনুরোধ করেন।

তিনি বলেন, আমি যা বলে যাচ্ছি অর্থমন্ত্রীকে সাথে রেখেই বলে যাচ্ছি। অর্থমন্ত্রীও আছেন। আমি মনে করি যে, মানুষের নিরাপদ খাদ্য নিশ্চিত করবার জন্য যা প্রয়োজন সেটা আমরা করতে পারব। যদিও আমি জানি করোনার কারণে আমাদের যথেষ্ট সমস্যা মোকাবেলা করতে হচ্ছে, কিন্তু তারপরও আমরা এই ব্যবস্থাটা নেব।

জাতির পিতাকে হত্যার পর যারা অবৈধভাবে রাষ্ট্রীয় ক্ষমতা দখল করেছিল তারা খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণ দেশ চায়নি উল্লেখ করে শেখ হাসিনা বলেন, অবৈধভাবে সরকার গঠনের পর যারা ক্ষমতায় ছিলেন তাদের উদ্দেশ্য ছিল নিজেদের কিছু লোক যেন খাদ্য আমদানি করে নিজেরা ব্যবসা করতে পারে।

‘কিন্তু আমি এটা স্পষ্ট বলতে চাই, আওয়ামী লীগ সরকার ব্যবসা করতে আসেনি। জনগণের সেবা করতে এসেছি, সেবক হিসেবে এসেছি। কাজেই নিজেদের আত্মমর্যাদাশীল জাতি হিসেবে আমরা গড়ে তুলতে চাই। কারও কাছে হাত পেতে আমরা চলতে চাই না। সেজন্য যেহেতু জাতির পিতা বলেছিলেন আমাদের মাটি আছে, মানুষ আছে। সেই মাটি, মানুষকে সম্বল করেই কিন্ত আমরা দেশের উন্নয়নের পথে এগিয়ে যাচ্ছি।’

তিনি বলেন, আওয়ামী লীগ ১৯৯৬ সালে ক্ষমতায় এসে পাঁচ বছর পর ২০০১ সালে ক্ষমতা হস্তান্তরের সময় ২৬ লাখ মেট্রিক টন খাদ্য গুদামে রেখে যায়। কিন্তু আবার ৮ বছর পর যখন সরকারে আসে, তখন ২৪ লাখ মেট্রিক টন খাদ্য ঘাটতি ছিল।

‘এটা হচ্ছে একটি দল বা ব্যক্তি বিশেষ, তারা যে ক্ষমতায় থাকে তাদের নীতির প্রশ্ন। আমাদের নীতিটা হচ্ছে সবসময় আমরা দেশের মানুষের খাদ্য চাহিদা… নিজেরা উৎপাদন করব…সেই সাথে সাথে পুষ্টি নিশ্চিত করার দিকেও আমরা বিশেষভাবে গুরুত্ব দিচ্ছি।’

প্রধানমন্ত্রী বলেন, নিজের খাদ্যের জন্য অন্যের কাছে হাত পেতে চলতে চাই না। নিজের খাবার নিজে উৎপাদন করবো। সারা বিশ্বে মাথা উঁচু করে বাঁচবো।

এ সময় প্রধানমন্ত্রী সকলকে নিজের খাদ্য নিজে উৎপাদনের তাগিদ দিয়ে বলেন, একটু জমিও যদি থাকে, তাতে নিজের ঘরের জন্য যা প্রয়োজনীয় সেটা চাষ করুন। তাহলে খাদ্য ঘাটতি কমবে। সকলের চেষ্টায় খাদ্যের উৎপাদন আরো বাড়াতে হবে।

সুষম খাবারের বিষয়ে নজর দেওয়ার নির্দেশ দিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, এখন মানুষের সামর্থ্য বেড়েছে। মানুষ এখন ভাতের পাশাপাশি কিছু আমিষও কেনে। এজন্য সুষম খাবারের দিকে নজর দিতে হবে। এর জন্য প্রচার বাড়াতে হবে। জনগণকে জানাতে হবে যে শিশুরা কী খাবে, বৃদ্ধরা কী খাবে আর একজন গর্ভধারিণী মা কখন কী খাবে।

কেন্দ্রীয় ফুড টেস্টিং ল্যাবরেটরির পাশাপাশি প্রতিটি জেলায় ফুড টেস্টিং ল্যাব তৈরির তাগিদ দিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, সারাদেশে একশ ইকোনমিক জোন করছি। সেখানে অনেকে খাদ্য প্রক্রিয়াকরণ করবে, রফতানি করবে। তাদের সার্টিফিকেট লাগবে। সেজন্য প্রতি বিভাগে অন্তত একটা ল্যাব প্রয়োজন। গ্রাম থেকেও যেন খাদ্য পরীক্ষার ব্যবস্থা থাকে।

নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষের হোটেল-রেস্তোরাঁ গ্রেডিং সিস্টেমের প্রশংসা করে শেখ হাসিনা বলেন, এটা খুব ভালো উদ্যোগ। এমন গ্রেডিং সারাদেশে চালু করুন। খাদ্য নিরাপদ করতে যা যা প্রয়োজন ব্যবস্থা নিন। প্রয়োজনে যথার্থ অর্থ এ খাতে বরাদ্দ দেয়া হবে।

করোনাভাইরাস মহামারির মধ্যে জনগণের জীবন-জীবিকা চালু রাখা ও অর্থনীতিকে গতিশীল রাখতে সরকারের নেয়া বিভিন্ন প্রচেষ্টার কথা তুলে ধরেন সরকার প্রধান।

এ সময় হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টাল প্রান্তে কৃষিমন্ত্রী আব্দুর রাজ্জাক, খাদ্যমন্ত্রী সাধন চন্দ্র মজুমদার, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রী শ ম রেজাউল করিম, খাদ্য মন্ত্রণালয়ের সচিব মোছাম্মৎ নাজমানারা খানুমসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

Shares