প্রচ্ছদ

হঠাৎ অস্থিরতার পেছনে কারা?

১৮ ফেব্রুয়ারি ২০২১, ১৩:১৭

যুগের কন্ঠ ২৪ ডট কম
ফাইল ছবি
::নিজস্ব প্রতিবেদক::

চলতি বছরের শুরু থেকেই বেশ কিছু ঘটনা নিয়ে দেশজুড়ে নানামুখী আলোচনা চলছে। এরমধ্যে সৈয়দ মুহাম্মদ ইবরাহিমের ‘রহস্যঘেরা’ সভা, প্রধানমন্ত্রীকে নিয়ে আল-জাজিরার ভিত্তিহীন সংবাদ প্রচার এবং জামুকা কর্তৃক জিয়াউর রহমানের ‘বীর উত্তম’ খেতাব বাতিলের প্রস্তাব অন্যতম।

গত ১৬ জানুয়ারি বিএনপি নেতৃত্বাধীন ২০ দলীয় জোটের অন্যতম শরিক দল কল্যাণ পার্টির চেয়ারম্যান মেজর জেনারেল (অব.) সৈয়দ মুহাম্মদ ইবরাহিমের ডাকে ‘রহস্যঘেরা’ একটি দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়। সেখানে ৫০ জন সাবেক সামরিক কর্মকর্তা ও জামায়াতসহ অন্তত ২৫টি রাজনৈতিক দলের নেতা এবং ৪ জন সাবেক সচিবসহ বিভিন্ন পেশাজীবী সংগঠনের নেতারা উপস্থিত ছিলেন।

রাজনৈতিক মহলে গুঞ্জন, সৈয়দ মুহাম্মদ ইবরাহিম ২০ দলীয় জোটের বাইরে নতুন রাজনৈতিক প্ল্যাটফর্ম তৈরি করতে চাচ্ছেন। তার এই নতুন উদ্যোগে জোটের প্রধান দল বিএনপি বেকায়দায় পড়েছে। কারণ এ প্ল্যাটফর্মে বিএনপির শীর্ষ ও মধ্য পর্যায়ের নেতাদের বড় একটি অংশই প্রকাশ্যে-অপ্রকাশ্যেভাবে সম্পৃক্ত রয়েছেন। আলোচানা আছে যে, এর পেছনে মূলশক্তি জামায়াতে ইসলাম। তবে বিএনপির নীতি নির্ধারকরা এটাকে ‘দল ভাঙার তৎপরতা’ ও দুই শীর্ষ নেতাকে মাইনাসের ‘ষড়যন্ত্র’ হিসেবে দেখছেন।

এদিকে কাতারভিত্তিক গণমাধ্যম আল-জাজিরার ‘অল প্রাইম মিনিস্টারস ম্যান’ শিরোনামে একটি অনুসন্ধানী প্রতিবেদন দেশজুড়ে এখন আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু। ওই প্রতিবেদন ঘিরে চলছে আলোচনা-সমালোচনা। যদিও প্রতিবেদনটি এরইমধ্যে গ্রহণযোগ্যতা হারিয়েছে। সরকার ও সেনাবাহিনীর পক্ষ থেকেও প্রতিবেদনটিকে ভিত্তিহীন ও ‘অপপ্রচার’র ব্যাখ্যা দেওয়া হয়েছে। সাধারণ মানুষও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আল-জাজিরার মনগড়া সংবাদ প্রচারে ক্ষোভ প্রকাশ করছেন।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও সেনা প্রধানকে নিয়ে মিথ্যা ও বানোয়াট তথ্য প্রকাশের অভিযোগে ইতোমধ্যে আল জাজিরার এডিটর জেনারেল মোস্তেফা সরওয়াসহ ৪ জনের বিরুদ্ধে মামলার আবেদন করা হয়েছে। এছাড়া টেলিভিশনটির সাম্প্রতিক ভিডিও অনলাইন প্ল্যাটফর্ম থেকে সরাতে বিটিআরসিকে নির্দেশ দিয়েছেন হাইকোর্ট।

এবিষয়ে সেনাবাহিনীর প্রধান জেনারেল আজিজ আহমেদ বলেছেন, সেনাবাহিনীকে নিয়ে নানা ধরনের ‘অপপ্রচার’ চালানো হচ্ছে, যাতে একটি বিভ্রান্তির সৃষ্টি হয়। সেনাবাহিনী এসব অপচেষ্টাকে ঘৃণাভরে প্রত্যাখ্যান করছে।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সরকারের বিরুদ্ধে আল–জাজিরার প্রতিবেদন উদ্দেশ্যমূলক ও অপপ্রচারের নোংরা বহিঃপ্রকাশ বলে মন্তব্য করেছেন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের। তিনি বলেন, এই প্রতিবেদন লন্ডনভিত্তিক অপপ্রচারের অংশ বলে মনে করে দেশের জনগণ।

বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, সরকারকে ক্ষমতা থেকে নামাতে এবং বাংলাদেশের রাজনীতি অস্থিতিশীল করতেই এমন ‘মিথ্যা’ প্রতিবেদন তৈরি করা হয়েছে। এর পেছনে বিদেশে থাকা বিএনপির এক শীর্ষ নেতার মদদ রয়েছে বলেও ধারণা করা হচ্ছে। মূলত সরকার বিরোধী রাজনৈতিক প্রোপাগান্ডার জন্যই এই অনুসন্ধানী প্রতিবেদনটি তৈরি করা হয়েছে।

এদিকে ভিত্তিহীন, অসত্য ও মনগড়া সংবাদ প্রচারের অভিযোগে নানা সময় আল-জাজিরার সম্প্রচার বন্ধ করে বিশ্বের বিভিন্ন দেশ। সৌদি আরব ও সংযুক্ত আরব আমিরাতসহ পারস্য উপসাগরীয় কয়েকটি দেশ কাতারভিত্তিক এ মিডিয়া নেটওয়ার্কের বিরুদ্ধে সন্ত্রাসবাদে মদদ দেওয়ার অভিযোগও তুলেছে। এছাড়া, ভিত্তিহীন সংবাদ প্রচারের অভিযোগে বিভিন্ন সময় আল-জাজিরার সম্প্রচার বন্ধ করে দেয় ভারত, মালয়েশিয়া, আলজেরিয়া, সুদান, লিবিয়া ও কুয়েতসহ বেশ কয়েকটি দেশ।

অন্যদিকে সংবিধান লঙ্ঘন, বঙ্গবন্ধুর আত্মস্বীকৃত খুনিদের দেশত্যাগে সহায়তা এবং তাদের গুরুত্বপূর্ণ পদে পদায়নের কারণে বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা ও সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের ‘বীর উত্তম’ খেতাব বাতিল হচ্ছে। তবে জাতীয় মুক্তিযোদ্ধা কাউন্সিলের (জামুকা) এমন সিদ্ধান্তে প্রতিবাদে দেশজুড়ে বিএনপি নেতা-কর্মীরা ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। এমনকি দলটির পক্ষ থেকে সারাদেশে একাধিকবার বিক্ষোভ কর্মসূচিও পালন করা হচ্ছে।

সম্প্রতি বিক্ষোভ সমাবেশকে কেন্দ্র করে রাজধানীর জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে বিএনপির সাথে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ব্যাপক সংর্ঘের ঘটনা ঘটেছে।

মন্ত্রী আ ক ম মোজাম্মেল হক বলেছেন, বাংলাদেশের প্রতিষ্ঠাতা রাষ্ট্রপতি শেখ মুজিবুর রহমানের হত্যাকাণ্ডের পরিকল্পনায় জড়িত থাকা এবং হত্যাকারীদের আশ্রয়-প্রশ্রয় দেয়াসহ বিভিন্ন অভিযোগে জিয়াউর রহমানের খেতাব বাতিলের সুপারিশ করছে মুক্তিযোদ্ধা কাউন্সিল। তিনি উল্লেখ করেছেন, এখন দালিলিক প্রমাণ সংগ্রহের জন্য একটি কমিটি করা হয়েছে।

রাজনৈতীক বিশ্লেষকরা বলছেন, বিএনপি এখন আন্দোলন করার নতুন ইস্যু পেয়েছে। তারা আগের মতো আবারও দেশকে অস্থিতিশীল করার পথে হাটছে। জিয়াউর রহমানের খেতাবতো এখনই বাতিল হচ্ছে না। শুধু মাত্র প্রস্তাব করা হয়েছে। অথচ বিদেশে বসে এখনই দেশকে অস্থিতিশীল করার পায়তারা চলছে।

জিয়ার খেতাব বাতিলের বিষয়ে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, জাতীয় মুক্তিযোদ্ধা কাউন্সিল খেতাবটি বাতিলের যে সিদ্ধান্ত নিয়েছে এটা সম্পূর্ণভাবে রাজনৈতিক প্রতিহিংসামূলক। এই সিদ্ধান্ত যারা নিয়েছে তাদের কখনোই মুক্তিযুদ্ধের প্রতি শ্রদ্ধাশীল মনে করি না। তারা স্বাধীনতার বিপক্ষে, এবং পুরোপুরিভাবে মুক্তিযোদ্ধাদের বিরুদ্ধে। এই সিদ্ধান্তের মাধ্যমে মুক্তিযুদ্ধের প্রতি কলঙ্ক লেপন করা হলো।

Shares