প্রচ্ছদ

শিক্ষা আইন-২০২০: যাদের ক্ষমতা কমাচ্ছে সরকার

২০ ফেব্রুয়ারি ২০২১, ১১:৩৯

যুগের কন্ঠ ২৪ ডট কম
ফাইল ছবি
::শিক্ষা ডেস্ক::

বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের আর্থিক দুর্নীতি, শিক্ষকদের হয়রানিসহ বিভিন্ন অনিয়ম প্রতিরোধে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান পরিচালনা কমিটির ক্ষমতার হ্রাস টানছে সরকার। শিক্ষা আইন প্রণয়নের পর গেজেট আকারে প্রকাশ হলে আইনের আওতায় নির্দিষ্ট বিধির মাধ্যমে কমিটির এখতিয়ার নির্ধারণ করা হবে। নতুন আইনে কর্মপরিধির বাইরে চেয়ারম্যান বা কমিটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের দৈনন্দিন প্রশাসনে হস্তক্ষেপ বা পাঠদানে এখতিয়ার প্রয়োগ করতে পারবে না।

মঙ্গলবার (১৬ ফেব্রুয়ারি) শিক্ষা আইন-২০২১ এর চূড়ান্ত খসড়ায় এসব বিধান যুক্ত করা হয়েছে।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনি গণমাধ্যমকে বলেন, ‘বিধিমালা-নীতিমালা করে আইন বাস্তবায়ন করা হবে। আইন অনুযায়ী বিধিমালা নীতিমালা প্রণয়ন করা হবে। শিক্ষা বোর্ডের আইন সংশোধন করা হবে।’

এর আগে কমিটি নিয়ন্ত্রণ করতো শিক্ষাবোর্ড। শিক্ষা বোর্ডের আইনে বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের পরিচালনা কমিটি ভেঙে দেয়ার এখতিয়ার ছিল। প্রতিষ্ঠান প্রধানসহ কোনো শিক্ষকের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে পরিচালনা কমিটিকে নির্দেশনা দেয়ার ক্ষমতা ছিল শিক্ষা বোর্ডের। এছাড়া কোনো শিক্ষকের চাকরিচ্যুতির পূর্ণাঙ্গ ক্ষমতা ছিল কমিটির হাতে। বিধি অনুযায়ী কমিটি এখতিয়ার বহির্ভূত কাজে বা প্রতিষ্ঠানের প্রশাসনিক কাজে হস্তক্ষেপ করতো।

এসব পরিস্থিতিতে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের কমিটি গঠন, কমিটির কর্মপরিধি বা এখতিয়ার নিশ্চিত করার বিধান শিক্ষা আইনের চূড়ান্ত খসড়ায় যুক্ত করা হয়।

ব্যবস্থাপনা বা পরিচালনা কমিটি গঠন নিয়ে আইনের চূড়ান্ত খসড়ায় বলা হয়, সকল ধারার বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে স্তর অনুযায়ী বাধ্যতামূলকভাবে ব্যবস্থাপনা কমিটি, পরিচালনা কমিটি গঠন করতে হবে। ব্যবস্থাপনা কমিটি, পরিচালনা কমিটি শিক্ষক-অভিভাবক পরিষদের গঠন, মেয়াদ কার্যপরিধি ও অন্যান্য শর্ত বিধি দ্বারা নিয়ন্ত্রিত হবে।

কমিটির এখতিয়ারের সীমাবদ্ধতার বিষয়ে আইনের খসড়ায় বলা হয়, বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের জন্য গঠিত ব্যবস্থাপনা, পরিচালনা কমিটি বা কমিটির চেয়ারম্যান বা সভাপতি নির্ধারিত এখতিয়ার বা কর্মপরিধির বাইরে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের দৈনন্দিন প্রশাসনে বা পাঠদানে হস্তক্ষেপ বা এখতিয়ার প্রয়োগ করতে পারবে না। ফলে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের প্রশাসনে কোনো অনিয়ম বা পাঠদানে বাধাগ্রস্ত হলে কমিটি সার্বিকভাবে বা কমিটির চেয়ারম্যান বা সভাপতি দায়ী থাকবেন এবং নির্ধারিত কর্তৃপক্ষ ওই কমিটি বাতিল করতে বা কমিটির চেয়ারম্যান বা সভাপতিকে অপসারণ করতে পারবে।

জানতে চাইলে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের সচিব মো. মাহবুব হোসেন গণমাধ্যমকে বলেন, আমরা অব্যবস্থাপনা দূর করে ডিসিপ্লিন আনার চেষ্টা করছি। বিভিন্ন ক্ষেত্রে রুলস অ্যান্ড রেগুলেশনে কিছু বিষয় সুনির্দিষ্ট করা নেই। সেই বিষয়গুলোকে সুনির্দিষ্ট করা হয়েছে আইনের খসড়ায়। এতে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত হবে।’

Shares