প্রচ্ছদ

টায়ার পুড়িয়ে জ্বালানি তেল, হুমকিতে জনস্বাস্থ্য

২৩ ফেব্রুয়ারি ২০২১, ১২:০০

যুগের কন্ঠ ২৪ ডট কম
::দিনাজপুর প্রতিনিধি::

দিনাজপুরের হাকিমপুরে টায়ার পুড়িয়ে তৈরি হচ্ছে জ্বালানি তেল। এতে একদিকে যেমন বিপন্ন হচ্ছে পরিবেশ। অন্যদিকে মরছে পশুপাখি, গাছপালা ও মাছ। স্থানীয়দের অভিযোগের পরও প্রশাসনকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে অজ্ঞাত শক্তিতে চলছে এই টায়ার পোড়ানো কারখানা।

সরেজমিনে গিয়ে জানা যায়, হাকিমপুর (হিলি) পৌরসভার ৯ নং ওয়ার্ডের ছাতনী চারমাথা থেকে রাঙ্গামাটিয়া সড়কের পাশের একটি টায়ার পোড়ানো কারখানা গড়ে উঠেছে। সেখানে দেদারছে পোড়ানো হচ্ছে টায়ার। সেই টায়ার পুড়তে জ্বালানি হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছে কাঠ। এতে উজাড় হচ্ছে বন।

টায়ার পোড়ানো যে কি পরিমাণ পরিবেশ ও মানুষের জন্য ক্ষতিকর তা মানুষের চোখ ফাঁকি দিতে দিনে টায়ার না পুড়িয়ে রাতেই কারখানাটিতে টায়ার পোড়ানো হচ্ছে।

এলাকাবাসীর অভিযোগ, টায়ার পোড়ানো এই কারাখানার বিষাক্ত ধোঁয়ায় পরিবেশ মারাত্মকভাবে দুষিত হচ্ছে। ফলে গাছ পালা দিন দিন মারা যাচ্ছে। এ ছাড়াও টায়ার পোড়ানোর উদ্ভট গন্ধের কারণে এলাকাবাসীর বসবাস প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়েছে।

                                                                              রাঙ্গামাটিয়া সড়কের পাশে টায়ার পোড়ানো কারখানা

ফলে নিরুপায় হয়ে গত বছরের ৩ ডিসেম্বর মাসে শতাধিক ভুক্তভোগী স্বাক্ষরিত হাকিমপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) বরাবর লিখিত অভিযোগ করেন। অভিযোগের তিন মাস অতিবাহিত হলেও কোনো ব্যবস্থা না নেয়ায় চাপা ক্ষোভ বিরাজ করছে ভুক্তভোগীদের মাঝে।

তরিকুল ইসলাম নামে এক ভুক্তভোগী জানান, ওই কারখানার পাশে আমার এক একর জমি রয়েছে। টায়ার পোড়ানোর কারণে আমার জমিতে উৎপাদিত ধানের চালে এক ধরণের দুর্গন্ধ হয়। আর সেই চালের ভাত খাওয়া যায় না। বাধ্য হয়ে ধানগুলো বিক্রি করে বাজার থেকে চাল কিনতে হয়।

অভিযোগকারী হাসন্দর জামান জানান, টায়ার পোড়ানোর কারণে এলাকার ফলগাছগুলোতে ফল ধরছে না।

মশিউর রহমান নামের অভিযোগকারী জানান, কারখানাটির বর্জ্য পাশের তুলশিঙ্গা নদীতে যাওয়ায় নাদীর মাছ ও অন্যান্য জলজ প্রাণী মারা যাচ্ছে।

মুক্তিযোদ্ধা শামসুল আলম জানান, কারখানাটির পাশে আমার জমি রয়েছে। ওখানে টায়ার পোড়ানোর কারণে এক ধরণে দুর্গন্ধ সৃষ্টি হয়। ফলে আমার জমিতে কোনো কৃষি শ্রমিক কাজ করতে চায় না। বাধ্য হয়ে অল্প টাকায় জমি বর্গা দিয়েছি।

এ বিষয়ে কারখানাটির মালিক দিপক কুমারের সাথে কথা বললে তিনি কোনো বক্তব্য না দিয়ে জানান, আপনার কি সমস্যা সেটা বলেন, সমাধান করা হবে।

হাকিমপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) মোহাম্মদ নুর-এ আলম বলেন, অভিযোগ প্রেক্ষিতে কারখানাটিতে অভিযান চালিয়ে ১০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে। যেহেতু তাদের পরিবেশ অধিদপ্তরের ছাড়পত্রের মেয়াদ উত্তীর্ণ হয়েছে তাই পরিবেশ অধিদপ্তরের ছাড়পত্র ছাড়া কারখানাটি বন্ধ রাখার নির্দেশ দেয়া হয়েছে।

পূর্বের সংবাদ পড়তে

February 2021
M T W T F S S
1234567
891011121314
15161718192021
22232425262728
Shares