বাড়তি ভাড়ায় যাত্রী কম, মাস্কে অনীহা

যুগের কন্ঠ ডেস্ক
  • আপডেট টাইম : শুক্রবার, ২৮ মে, ২০২১
::নিজস্ব প্রতিবেদক::

মহামারি করোনাভাইরাসের দ্বিতীয় ঢেউ নিয়ন্ত্রণে রাখতে সরকার নানামুখী পদক্ষেপ নিয়েছে। সংক্রমণ যাতে না ছড়াতে পারে সে জন্য গণপরিবহনে অর্ধেক যাত্রী নিয়ে চলাচলের নির্দেশনা রয়েছে সরকারের। মানতে বলা হয়েছে স্বাস্থ্যবিধি। এর বিপরীতে বাড়ানো হয়েছে ভাড়া।

তবে অনেকেই মানছেন না স্বাস্থ্যবিধি। যাত্রীদের মধ্যে মাস্ক পরা কিংবা স্বাস্থ্যবিধি মানার ক্ষেত্রে এখনো রয়েছে ঢিলেঢালা ভাব। আবার কোনো বাস অর্ধেক যাত্রী, কোনো বাস নির্দেশনা না মেনে সিট পূর্ণ করেই যাত্রী তুলেছে।

শুক্রবার সরেজমিন দেখা গেছে, রাজধানী থেকে ছেড়ে যাওয়া দূরপাল্লার বাসে ৬০ শতাংশ বাড়তি ভাড়া নেয়া হচ্ছে। সকালে গাবতলী বাস টার্মিনাল থেকে বগুড়া, রংপুর, দিনাজপুর, ঠাকুরগাঁও ও পঞ্চগড়সহ বিভিন্ন জেলার উদ্দেশে বাস ছেড়ে যায়। তবে সেগুলোতে যাত্রী ছিলো কম।

দিনাজপুর যেতে শ্যামলী বাসের টিকিট কেটেছেন তানজিলা আক্তার। তিনি বলেন, আগে একই বাসে ৬০০ টাকায় গাবতলী থেকে দিনাজপুর যেতাম। আজ ১০০০ টাকা নিয়েছে।

দিনাজপুরগামী ননএসি বাসের জনপ্রতি ভাড়া ৬০০ টাকার পরিবর্তে ১০০০ টাকা করে নিচ্ছে হানিফ পরিবহনও। রংপুরগামী রাহবার বাসের যাত্রী রবিউল ইসলাম বলেন, ৪০০ টাকার ভাড়া ৮০০ টাকা নিয়েছে।

ঠাকুরগাঁওয়ের উদ্দেশে ছেড়ে যাচ্ছিল কেয়া পরিবহন। বাসের যাত্রী অনামিকা সাহা সুবর্ণা বলেন, বাসে যাত্রী ছিল অর্ধেক। আগে জনপ্রতি ৬৫০ টাকা ভাড়া ছিল। আজ ভাড়া নেয়া হয়েছে ১১০০ টাকা।

বাসটিতে ছোট্ট সন্তান কোলে নিয়ে বসেছিলেন মিতা। রংপুরে যাবেন তিনি। মাস্ক না পরার বিষয়ে জানতে চাইলে ক্ষুব্ধ মিতা বলেন, গরমে জান বাঁচে না। তার ওপর বাচ্চা কোলে। গরমে রাস্তায় পড়ে থাকলে কে দেখবে? আপনারা তখন তো আর লিখবেন না।

নাসিম নামের আরেক যাত্রী বলেন, মাস্ক কিনতে মনে নাই।

একই চিত্র ছিলো দিনাজপুরগামী শ্যামলী পরিবহনেও। বাসটির যাত্রী রোকসানা বলেন, সারাদিন মাস্ক পরে ছিলাম। এখন মাথাব্যথা করছে। তাই খুলে রেখেছি।’ অথচ রোকসানা নিজে পেশায় একজন নার্স।

বাসটির চালকের সহকারী শাহাবুদ্দিন আহমেদ বলেন, করোনার কারণে যাত্রী কমে গেছে। ভাড়া ৬০ শতাংশ বাড়িয়েও লোকসান গুনতে হচ্ছে। আগে বৃহস্পতিবার-শুক্রবার অনেক যাত্রী যেত। আজ অনেক কম। আগে দুই সিটে দুইজন গেলে পাইতাম ৪০০ টাকা। এখন দুই সিটে একজনে পাচ্ছি ৩২০ টাকা।

হানিফ পরিবহনের গাবতলী কাউন্টারের ম্যানেজার আবুল কাশেম বলেন, যাত্রী কম। ভাড়া বাড়ায় মানুষ বাড়তি টাকা দিতে চাচ্ছে না।

এ ব্যাপারে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের এসআই রহমান বলেন, আমরা মাস্ক পরা, স্বাস্থ্যবিধি মানার কথা বলে দিচ্ছি। যারা মানছে না তাদের সচেতন করতে মাস্ক দিচ্ছি।

নিউজটি শেয়ার করুন..

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এ জাতীয় আরো খবর..