সেলিম ওসমানের কঠোরতায় রাসেল গার্মেন্টস চালু

যুগের কন্ঠ ডেস্ক
  • আপডেট টাইম : মঙ্গলবার, ১ জুন, ২০২১
  • ৩১

::নারায়ণগঞ্জ প্রতিনিধি::

সেলিম ওসমানের কঠোরতায় রাসেল গার্মেন্টস চালু: ছিল না শ্রমিক নেতা, নেই বিশৃঙ্খলাও প্রচুর বৃষ্টি; সড়কে কাদা-পানি, নেই গাড়িও। এত সমস্যার মধ্যেও কেউ ছাতা, কেউ আবার পলি গায়ে জড়িয়ে আসছেন কর্মস্থলে। অন্য দিনের মতই  (১ জুন) সকাল ৮টায় শ্রমিক অসন্তোষ সৃষ্টি হওয়া ফতুল্লার রাসেল গার্মেন্টসে এমন চিত্র দেখা যায়।

বাংলাদেশ নিটওয়্যার ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যান্ড এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশন (বিকেএমইএ)র সভাপতি একেএম সেলিম ওসমানের কঠোর নির্দেশে গার্মেন্টসের সামনে ছিল না কোন শ্রমিক নেতা, সাথে ছিল না কোন বিশৃঙ্খলাও। সাধারণ শ্রমিকরা বলছেন, ‘মালিক খুব ভালো, ভুল বুঝাবুঝির কারণে এমন পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে।’

শ্রম আইনের কোথাও হাজিরা বোনাস প্রদানের নিয়ম নেই; তারপরেও কারখানার শ্রমিকদের প্রতি সহানুভূতিশীল এবং শ্রমিকদের সার্বিক কল্যান, সন্তুষ্টি বিধান ও তাদের উৎপাদনশীল মানসিকতার উত্তরোত্তর উন্নতির লক্ষ্যে হাজিরা বোনাস প্রদান করে আসছিল রাসেল গার্মেন্টস কর্তৃপক্ষ। কিন্তু সম্প্রতি করোনা ভাইরাসের কারণে তৈরি পোশাক ব্যবসার পরিস্থিতি ভালো না হওয়ায় কিছু দিনের জন্য হাজিরা বোনাস প্রদান স্থগিত করা হয়।

গত ২৩ মে হাজিরা বোনাসের দাবিতে ফতুল্লার ওই গার্মেন্টসটিতে হামলা ও কর্মকর্তাদের মারধর করেন শ্রমিকরা। ওই দিনই শ্রম আইনের ১৩ ধারা অনুযায়ী, কারখানাটি বন্ধ করা হয়। ২৭ মে কর্মকর্তাদের উপর হামলায় জড়িত থাকা ৩৫ শ্রমিকের নাম উল্লেখ করে মামলাও করা হয়েছিল।

কিন্তু ২৯ মে শ্রমিক নেতা, মালিক, শিল্প পুলিশ ও ফতুল্লা থানা পুলিশের প্রতিনিধিদের উপস্থিতিতে বিকেএমইএ’র সভাপতি সেলিম ওসমান সকল দাবী মেনে নিয়ে কারখানা চালু করা ও ৩৫ শ্রমিককে পুর্নবাসনের ব্যবস্থার নির্দেশ দিয়েছেন। পরদিন ৩০ মে গার্মেন্টসটি খোলার কথা থাকলেও অভিযুক্ত ৩৫ শ্রমিককে পুনর্বহালের দাবি তুলে কাজে যোগ দেয়নি। পরে সেলিম ওসমান কারখানাটি শ্রমিক নেতাদের কারখানায় হস্তক্ষেপ করতে নিষেধ করেছেন।

কারখানাটিতে প্রায় ৮‘শত শ্রমিক কাজ করেন। সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, একে একে ৭১০ জন শ্রমিকই হাজির হয়েছেন। কেউ কেউ আবার অসুস্থ্য থাকার পরেও এসে কর্তৃপক্ষের কাছে ছুটি নিয়ে বাড়ি ফিরেছেন। তবে, কর্মকর্তাদের মারধরের সাথে জড়িত কাউকে কারখানায় প্রবেশ করতে দেওয়া হয়নি।

এ ব্যাপারে বিকেএমইএ’র সভাপতি একেএম সেলিম ওসমান বলেন, ‘এখানে মালিক কিংবা শ্রমিকের কোন অপরাধ নেই। বহিরাগত কিছু লোকজন। তারা কোথাও কাজ করে না। কিন্তু নিজেদেরকে শ্রমিক নেতা দাবি করে শ্রমিকদের রক্ত, ঘাম ঝড়িয়ে অর্জিত টাকা করা নিজের পকেটে ভরে। তাদের কারণেই এই ধরণের ঘটনা গুলো ঘটে। এই ফ্যাক্টরী ও বন্দরের টোটাল ফ্যাশেনে একই ঘটনা ঘটেছে। আমি শিল্প পুলিশকে অনুরোধ রাখবো, উনারা যেন একটি টিম গঠন করে কারখানা গুলো নজরদারীতে রাখে। তাহলে আমি আশাবাদী, নারায়ণগঞ্জে কোন অপৃতিকর ঘটনা ঘটবে না। আমি আজকে নাম বললাম না, ভবিষ্যতে আমি নাম বলবো ও নিজেই তাদের নামে মামলা করবো।’

গার্মেন্টস চালুর পর ১ জুন দুপুরে প্রতিষ্ঠানটির এমডি আক্কাস উদ্দিন মোল্লা বলেন, ‘আল্লাহর কাছে প্রথমেই শুক্রিয়া আদায় করি, আল্লাহর রহমতে ও বিকেএমইএ’র সভাপতি একেএম সেলিম ওসমান সাহেবের সহযোগীতা, নির্দেশনা ও পরামর্শে আজ আমরা সুন্দর মতো কারখানা চালু করতে পেরেছি। আমি আমাদের শ্রমিক ভাইদের প্রতি কৃতজ্ঞ, সেই সাথে বিকেএমইএ’র কর্তকর্তাবৃন্দ ও শিল্প পুলিশকে সহযোগীতা করার জন্য ধন্যবাদ জানাচ্ছি।’

এ সময় উপস্থিত ছিলেন বিকেএমইএ’র সভাপতি একেএম সেলিম ওসমান, রাসেল গার্মেন্টসের এমডি আক্কাস উদ্দিন মোল্লা, পরিচালক বিকাশ চন্দ্র সাহা, বিকেএমইএ’র যুগ্ম সচিব রঞ্জন রায়, যুগ্ম সচিব মো. গিয়াসউদ্দিন ও নারায়ণগঞ্জ শিল্প পুলিশের কর্মকর্তারা।

 

নিউজটি শেয়ার করুন..

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এ জাতীয় আরো খবর..