সমাজকল্যাণ এবং নারী ও শিশু মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা শারমীন এস মুরশিদ বলেছেন, প্রতিবছর ধারাবাহিকভাবে ডিএনএ পরীক্ষার সংখ্যা বৃদ্ধি পাওয়ায় নারী ও শিশু মন্ত্রণালয়ের ফরেনসিক ডিএনএ ল্যাবরেটরীকে একটি আধুনিক ও আন্তর্জাতিক মানসম্পন্ন ল্যাবে রূপান্তর করা জরুরি। একই সঙ্গে দেশের সকল বিভাগীয় ডিএনএ স্ক্রিনিং ল্যাবরেটরীকে দ্রুত স্বয়ংসম্পূর্ণ ডিএনএ প্রোফাইলিং ল্যাবে উন্নীত করতে হবে।
তিনি আজ সোমবার বাংলাদেশ শিশু একাডেমির সভাকক্ষে নারী ও শিশু মন্ত্রণালয়ের ফরেনসিক ডিএনএ ল্যাবরেটরী উপদেষ্টা পরিষদের প্রথম সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন।
অনুষ্ঠানে নারী ও শিশু মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব মমতাজ আহমেদ এনডিসি-এর সভাপতিত্বে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়, জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়, আইন মন্ত্রণালয় ও স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের যুগ্মসচিব পদমর্যাদার কর্মকর্তাবৃন্দ, ঢাকা মেডিকেল কলেজ বিশ্ববিদ্যালয়ের ফরেনসিক বিভাগের অধ্যাপক, সিআইডি প্রতিনিধি এবং নারী ও শিশু মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা পরিষদ কমিটির ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
উপদেষ্টা বলেন, নারী ও শিশু মন্ত্রণালয়ের ফরেনসিক ডিএনএ ল্যাবরেটরীর যন্ত্রপাতি ১৫ বছরেরও বেশি পুরোনো হওয়ায় এর কার্যকারিতা উল্লেখযোগ্যভাবে হ্রাস পেয়েছে। নমুনা বিশ্লেষণের গুণগত মান, বিশুদ্ধতা ও নির্ভুলতা নিশ্চিত করতে নিয়মিত মেশিন ভ্যালিডেশন, ল্যাব কার্যক্রমের নিয়মিত অডিট এবং আন্তর্জাতিক মানদণ্ড অনুযায়ী এসওপি প্রণয়ন করা আবশ্যক। এ লক্ষ্যে প্রতি বছর ইন্টারনাল অডিট এবং দুই বছর অন্তর এক্সটার্নাল অডিট নিশ্চিত করার জন্য একটি পূর্ণাঙ্গ অডিট ম্যানুয়েল প্রণয়নের ওপর তিনি গুরুত্বারোপ করেন।
তিনি আরও বলেন, দেশের সকল ফরেনসিক ডিএনএ পরীক্ষার রিপোর্ট নারী ও শিশু মন্ত্রণালয়ের ডিএনএ ল্যাবরেটরী ব্যবস্থাপনা অধিদপ্তরের আওতায় একটি সমন্বিত ডাটাবেজে সংরক্ষণ করতে হবে, যাতে মামলার তথ্য ব্যবস্থাপনা ও বিচারিক প্রক্রিয়া আরও স্বচ্ছ ও কার্যকর হয়।
উপদেষ্টা উল্লেখ করেন, নারী ও শিশু নির্যাতন প্রতিরোধ ও সেবা কার্যক্রম জোরদার করার লক্ষ্যে ২০০৬ সালে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে দেশের প্রথম আন্তর্জাতিক মানের ন্যাশনাল ফরেনসিক ডিএনএ প্রোফাইলিং ল্যাবরেটরী প্রতিষ্ঠা করা হয়। পরবর্তীতে এ সেবা দেশব্যাপী বিস্তৃত করার লক্ষ্যে চট্টগ্রাম, রাজশাহী, রংপুর, খুলনা, সিলেট, বরিশাল, ফরিদপুর ও ময়মনসিংহ—এই আটটি মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ডিএনএ স্ক্রিনিং ল্যাবরেটরী স্থাপন করা হয়েছে।
তিনি জানান, ২০০৬ সাল থেকে আগস্ট ২০২৫ পর্যন্ত ন্যাশনাল ফরেনসিক ডিএনএ প্রোফাইলিং ল্যাবরেটরী মোট ১১,৫০১টি মামলার ৩৭,৫৯২টি ডিএনএ নমুনা বিশ্লেষণ করে ৬,৩৩৩টি মামলার রিপোর্ট প্রদান করেছে, যা ডিএনএ ল্যাবরেটরী ব্যবস্থাপনা অধিদপ্তরের একটি উল্লেখযোগ্য অর্জন।
ডিএনএ ল্যাবরেটরী ব্যবস্থাপনা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক (অতিরিক্ত দায়িত্ব) শবনম মোস্তারী বলেন, সিআইডি হেডকোয়ার্টারের ফরেনসিক ডিএনএ ল্যাবরেটরী প্রায়শই অধিদপ্তরের আওতাধীন বিভাগীয় ডিএনএ স্ক্রিনিং ল্যাবের মাধ্যমে মামলার নমুনা সংগ্রহ করে নিজস্ব ল্যাবে রিপোর্ট প্রস্তুত করলেও সে সংক্রান্ত তথ্য ডিএনএ অধিদপ্তর বা ন্যাশনাল ফরেনসিক ডিএনএ প্রোফাইলিং ল্যাবরেটরীর কাছে প্রদান করে না। এ কারণে একটি সমন্বিত ডাটাবেজের আওতায় সকল নমুনার তথ্য সংরক্ষণ করা অত্যন্ত জরুরি বলে তিনি উল্লেখ করেন।
