আদালতের নির্দেশনা উপেক্ষা করে মেট্রোপলিটন সাংবাদিক ইউনিয়ন খুলনা (রেজি: নং খুলনা-১০৬৭)-এর কার্যক্রম পরিচালনার অভিযোগ উঠেছে। বিষয়টি তদন্তে নেমেছে শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের অধীন শ্রম অধিদপ্তর, খুলনা।
শ্রম অধিদপ্তরের খুলনা কার্যালয় থেকে জারি করা এক চিঠিতে জানানো হয়, ইউনিয়নের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি আতিয়ার পারভেজ, সাধারণ সম্পাদক হাসান আহমেদ মোল্লা ও অন্যান্য সদস্যদের পক্ষ থেকে একটি অভিযোগ দাখিল করা হয়েছে। অভিযোগে বলা হয়, উচ্চ আদালতের স্থগিতাদেশ থাকা সত্ত্বেও কোনো নির্বাচন ছাড়াই নতুন কমিটি গঠন করে কার্যক্রম পরিচালনা করা হচ্ছে।
চিঠিতে উল্লেখ করা হয়, দাখিলকৃত নথিপত্র পর্যালোচনায় দেখা গেছে, ইউনিয়নের নির্বাচন প্রক্রিয়া যথাযথ নিয়মে সম্পন্ন হয়নি এবং নির্বাচনী কার্যক্রম শুরুর আগে শ্রম দপ্তরকে অবহিত করা হয়নি, যা প্রচলিত বিধি-বিধানের পরিপন্থী।
শ্রম দপ্তরের নথি অনুযায়ী, আব্দুর রাজ্জাক রানা নামে এক ব্যক্তি নিজেকে সাধারণ সম্পাদক দাবিদার হিসেবে ১৭ নভেম্বর ২০২৫ তারিখে নির্বাচনের ফলাফল ও সংশ্লিষ্ট কাগজপত্র বিভাগীয় শ্রম দপ্তরে জমা দেন। তবে পর্যালোচনায় দেখা যায়, ওই নির্বাচন বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় সম্পন্ন হয়েছে।
এছাড়া শ্রম আদালত খুলনার শ্রম মামলা নং–৯২/২০১৪ এর ২২ ডিসেম্বর ২০২০ তারিখের রায়ের বিরুদ্ধে রফিউল ইসলাম টুটুল শ্রম আপিল ট্রাইব্যুনাল, ঢাকায় আপিল নং–০৬/২০২১ দায়ের করেন। পরবর্তীতে ২৯ জানুয়ারি ২০২২ তারিখে আপিল ট্রাইব্যুনাল উক্ত রায়ের কার্যকারিতা পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত স্থগিত রাখার আদেশ দেন। ফলে মামলাটি এখনো বিচারাধীন রয়েছে।
শ্রম অধিদপ্তর জানিয়েছে, আপিল মামলার চূড়ান্ত নিষ্পত্তি বা আদালতের স্পষ্ট নির্দেশনা ছাড়া ১৬ নভেম্বর ২০২৫ তারিখে অনুষ্ঠিত বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতার নির্বাচনের বৈধতা প্রশ্নবিদ্ধ। এ বিষয়ে সংশ্লিষ্টদের কাছে বিস্তারিত ব্যাখ্যা চাওয়া হয়েছে।
অভিযোগে আরও বলা হয়, রফিউল ইসলাম টুটুল ও তাঁর সহযোগীরা উচ্চ আদালতের নিষেধাজ্ঞা উপেক্ষা করে কোনো নির্বাচন ছাড়াই নতুন কমিটি ঘোষণা করে কার্যক্রম পরিচালনা করছেন। এছাড়া মোঃ রাশিদুল ইসলাম নামে এক ব্যাক্তি নিজেকে সভাপতি দাবিদার ও আব্দুর রাজ্জাক রানা নামে এক ব্যক্তি নিজেকে সাধারণ সম্পাদক দাবিদার হিসেবে এমইউজের সাংগঠনিক কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছে। যা শ্রম অধিদপ্তরকেবৃদ্ধাঙ্গুলি দেখানোর সামিল।
এদিকে মামলা নিষ্পত্তির আগেই নতুন কমিটি গঠন করে কার্যক্রম পরিচালনা করায় খুলনার সাংবাদিক মহলে ব্যাপক সমালোচনা সৃষ্টি হয়েছে। অনেকেই এটিকে আইনি প্রক্রিয়ার প্রতি অবমাননা এবং সংগঠনের গঠনতন্ত্র লঙ্ঘনের সামিল বলে মন্তব্য করেছেন।
তবে এ বিষয়ে সংশ্লিষ্টদের বক্তব্য জানতে চেষ্টা করা হলে তাৎক্ষণিকভাবে কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি।
