গ্রাহকদের কাছ থেকে ৩৯৭ কোটি টাকা হাতিয়েছে কিউকম

অনলাইন ডেস্ক;
  • প্রকাশিত: ৪ অক্টোবর ২০২১, ২:০৯ অপরাহ্ণ | আপডেট: ৩ সপ্তাহ আগে
কিউকম সিইও

ই-কমার্স ব্যবসার নামে গ্রাহকদের কাছ থেকে ৩৯৭ কোটি টাকা হাতিয়ে নেয়ার অভিযোগে কিউকম সিইওকে গ্রেপ্তার করেছে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ (ডিএমপি) এর গোয়েন্দা মতিঝিল বিভাগ।

পুলিশ বলছে, বিভিন্ন অফারের মাধ্যমে কিউকম কম দামে মোটরসাইকেল বিক্রি করার বিজ্ঞাপন দিতো, বাজারে যেই মোটরসাইকেলের দাম ১ লাখ ৬৭ হাজার টাকা, সেই মোটরসাইকেল তারা ১ লাখ ২০ হাজার টাকায় বিক্রি করার বিজ্ঞাপন দিত। এভাবে কিউকম তার গ্রাহকদের ৩৯৭ কোটি টাকা আটকে রেখেছে।

সোমবার দুপুরে রাজধানীর মিন্টু রোডের মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এ কথা জানান ডিএমপির গোয়েন্দা শাখার (ডিবি) প্রধান অতিরিক্ত কমিশনার কে এম হাফিজ আক্তার।।

ডিবির অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার বলেন, নির্দিষ্ট অভিযোগের ভিত্তিতে রোববার রাজধানীর ধানমন্ডি এলাকা থেকে কিউকমের সিইও মো. রিপন মিয়াকে গ্রেপ্তার করে ডিবি মতিঝিল বিভাগ।

পরে তার বিরুদ্ধে ডিএমপির পল্টন থানায় এক ভুক্তভোগী গ্রাহক মামলা করেন। দুই ধারায় মামলাটি হয়। একটি ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের ও অপরটি প্রতারণার। করোনা কালীন ই-কমার্স ব্যবসার দ্রুত প্রসার ঘটে। নাগরিকরাও এতে অভস্ত হয়ে উঠেছেন। তবে বেশ কিছু বড় ই-কমার্স প্রতিষ্ঠান ভালোভাবে তাদের কার্যক্রম পরিচালনা করতে পারেনি। কিউকমও করোনা কালীন তাদের ব্যবসা শুরু করে। কিন্তু বর্তমানে কিউকমের অনেক ক্রেতাই পণ্য অর্ডার করে মালামাল না পেয়ে প্রতারিত হচ্ছে।

কে এম হাফিজ আক্তার বলেন, মো. রিপন মিয়া প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে জানায়, কিউকম প্লাটফর্মে ব্যবহার করে লাখের ও বেশি পণ্য অনলাইনে কেনাবেচা করে আসছিল। তাদের নিজস্ব ব্র্যান্ডিং করার জন্য তারা ব্যপকভাবে মোটরসাইকেল বিক্রি করে।

বিভিন্ন অফারের মাধ্যমে কিউকম কম দামে মোটরসাইকেল বিক্রি করার বিজ্ঞাপন দিয়ে আসছিল। বাজার যেই মোটরসাইকেলের দাম ১ লাখ ৬৭ হাজার টাকা সেই মোটরসাইকেল তারা ১ লাখ ২০ হাজার টাকায় বিক্রি করার বিজ্ঞাপন দিত। প্রচুর সংখ্যক ক্রেতা অর্ডার করে মোটরসাইকেল না পেয়ে তারা হতাশায় ভুগে।

এক্ষেত্রে মো. রিপন মিয়া আরও জানায়, সে মোটরসাইকেল ডেলিভারি না দিয়ে ১ লাখ ২০ থেকে ৩০ হাজার টাকা চেক দিয়ে দিতো গ্রাহকদের।

তিনি আরও বলেন, বর্তমানে আমরা জানি যে বাংলাদেশ ব্যাংক জুন মাস থেকে এস্ক্রো সিস্টেম (Escrow System) চালু করে। এর অধীনে তৃতীয় পক্ষের মাধ্যমে পেমেন্ট গেটওয়ে সিস্টেম চালু করে। তৃতীয় পক্ষ হিসেবে ফোস্টার (Foster) নামে একটি কোম্পানিকে এ দায়িত্ব দিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। এই নিয়ম অনুযায়ী গ্রাহকের পেমেন্টটি ফোস্টারের কাছে থাকবে, পণ্য ডেলিভারি পর পেমেন্ট প্রতিষ্ঠানের কাছে পাঠাবে ফোস্টার। কিউকমের পণ্য ডেলিভারি না দিয়ে চেক প্রদানের বিষয়টি ফোস্টারের নজরে আসে। পরে ফোস্টার কিউকমের সকল পেমেন্ট আটকিয়ে দেয়। ফোস্টার এখন পর্যন্ত কিউকমের ৩৯৭ কোটি টাকার মোটরসাইকেলের পেমেন্ট আটকিয়ে দিয়েছে বলে রিপন মিয়া আমাদের কাছে দাবি করে। এছাড়া তার কাছে গ্রাহকদের পণ্য ডেলিভারির ২৫০ কোটি টাকা আটকিয়ে আছে।

মামলাটি তদন্ত চলছে এবং অধিকতর জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আদালতে পাঠিয়ে রিমান্ড আবেদন করা হবে বলেও জানান তিনি।

রিপন মিয়ার ব্যাংক এ কত টাকা আছে এবং গ্রাহকদের এইটা কিভাবে সে ফেরত দিবে ডিবিকে রিপন মিয়া জানিয়েছে কি না জানতে চাইলে তিনি বলেন, প্রাথমিকভাবে সে আমাদের কাছে বলে গ্রাহকদের টাকা ফিরিয়ে দিতে পারবে এবং এই সমস্যা থেকে বের হয়ে যেতে পারবে।

আরেক প্রশ্নের জবাবে এ কে এম হাফিজ আক্তার বলেন, ই-কমার্স প্রতিষ্ঠানগুলো বড় ধরনের মূল্যছাড় দিয়ে এই কাজগুলো করছে। অর্থাৎ এগ্রেসিভ মার্কেটিং পলেসি নিয়ে তারা প্রতারণার কাজগুলো করছে। জনগণের স্বার্থে আমরা ই-কমার্স সাইটগুলোকে ধরছি। হাতেগোনা ৪-৫ টি প্রতিষ্ঠানগ অনিয়ম করছে, আমরা তাদের ধরছি। আমরা আশা করছি যথাযথ পদক্ষেপ নিলে ই-কমার্সের সুফল পাবে নাগরিকরা। তবে মামলা হলেই আমরা তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে পারি, এছাড়া নয়।

কিউকমের ৩৯৭ কোটি টাকা ফোস্টারের কাছে আছে। সেক্ষেত্রে গ্রাহকরা টাকা ফেরত পাওয়ার সম্ভাবনা আছে কিনা জানতে চাইলে তিনি বলেন, যেহেতু এইটা শুধুমাত্র মোটরসাইকেলের টাকা। মোটরসাইকেলের ডেলিভারি যারা দিয়েছেন তারা টাকা পাওয়ার সম্ভাবনা আছে।

অন্য কোনো এমএলএম কোম্পানির সঙ্গে মো. রিপন মিয়ার সংশ্লিষ্টতা আছে কিনা জানতে চাইলে তিনি বলেন, আমরা গতকাল তাকে গ্রেপ্তার করেছি। এ বিষয়ে আমরা তদন্ত করছি। তদন্ত শেষে আমরা বিস্তারিত জানাতে পারব।

চেক যাদের দিয়েছে তারা কি টাকা হাতে পেয়েছে কিনা জানতে চাইলে তিনি বলেন, কিছু লোক টাকা তুলতে পেরেছেন বলে আমরা জানতে পেরেছি।

শেয়ার করুন

এই সম্পর্কিত আরও খবর...