সাহেদের সাথে ‘খাতির’ কীভাবে— আদালতকে জানালেন আজাদ

নিজস্ব প্রতিবেদক;
  • প্রকাশিত: ৭ অক্টোবর ২০২১, ১:২০ অপরাহ্ণ | আপডেট: ২ সপ্তাহ আগে
ছবি সংগৃহীত

রিজেন্ট হাসপাতালের চেয়ারম্যান মোহাম্মদ সাহেদ ওরফে সাহেদ করিম একজন ‘প্রতারক’ তা জানতেন না বলে আদালতে দাবি করেছেন স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সাবেক মহাপরিচালক (ডিজি) আবুল কালাম আজাদ।

বৃহস্পতিবার রিজেন্ট কেলেঙ্কারির মামলায় জামিন আবেদনের শুনানিকালে বিচারকের কাছে এমনটাই দাবি করেন তিনি।

শুনানিকালে ঢাকা মহানগরের জ্যেষ্ঠ বিশেষ জজ কেএম ইমরুল কায়েশ স্বাস্থ্যের সাবেক মহাপরিচালকের কাছে জানতে চান, জালিয়াতি-প্রতারণায় আলোচিত সাহেদের সঙ্গে কিভাবে এতো খাতির হয়েছিল।

জবাবে আবুল কালাম আজাদ বলেন, চুক্তি (রিজেন্টের সাথে চুক্তি) স্বাক্ষর হওয়ার দিন সাহেদের সাথে আমার প্রথম দেখা হয়েছিল। স্বাক্ষর অনুষ্ঠানে মন্ত্রী মহোদয় উপস্থিত ছিলেন। আরো বড় বড় কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। তখন থেকে সাহেদের সাথে আমার পরিচয়।

বিচারককে তিনি আরও বলেন, সারা পৃথিবীতে করোনার যে অবস্থা, সেই অবস্থায় সচিব মহোদয়ের নির্দেশে, মানুষের জীবন বাঁচাতে চুক্তি করতে হয়েছিল। স্বাস্থ্যমন্ত্রী ও সচিব মহোদয়ের সামনে চুক্তি স্বাক্ষর করা হয়েছিল।

স্বাস্থের সাবেক ডিজি’র দাবি, সাহেদ যে একজন প্রতারক, সেটা তার জানা ছিল না। আর স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের নির্দেশে রিজেন্ট হাসপাতালের মাধ্যমে দৈনিক ৫০টি করেনা টেস্ট করার নির্দেশ দেয়া হয়।

তিনি বলেন, প্রতিষ্ঠানটি করোনা পরীক্ষায় করার জন্য টাকা নিচ্ছে এমন অভিযোগ পরে জানতে পারি। এরপর আমি সাথে সাথে বললাম, দুটি শাখা (রিজেন্ট হাসপাতালের) বন্ধ হয়ে যাবে।

বিচারককে তিনি আরও বলেন, আমি আগে থেকে জানতাম না সাহেদ একজন প্রতারক ছিলেন। স্যার, আমার ডায়াবেটিস রয়েছে। আমার জীবন তুচ্ছ করে মানুষের জন্য কাজ করেছি। আমি কোনো অপরাধ করিনি, আর ভবিষতেও করব না।

রিজেন্ট কেলেঙ্কারির মামলায় এদিন আত্মসমর্পণ করে জামিন আবেদন করেন আবুল কালাম আজাদ। আবেদনের শুনানি শেষে ডা. মোহাম্মদ আবুল কালাম আজাদকে ২ নভেম্বর পর্যন্ত অন্তর্বর্তীকালীন জামিন দেন বিচারক।

এর আগে গত ৩০ সেপ্টেম্বর ঢাকার মহানগর দায়রা জজ আদালতে মামলার অভিযোগপত্র দাখিল করেন তদন্তকারী কর্মকর্তা।

অভিযোগপত্রে আসামিদের বিরুদ্ধে লাইসেন্স নবায়নবিহীন বন্ধ রিজেন্ট হাসপাতালকে করোনা হাসপাতালে রূপান্তর, সমঝোতা স্মারক সম্পাদন এবং নমুনা পরীক্ষা বাবদ ও করোনা চিকিৎসায় খরচ বাবদ তিন কোটি ৩৪ লাখ টাকা আত্মসাতের অভিযোগ আনা হয়।

২০২০ সালের ২৩ সেপ্টেম্বর দায়ের করা মামলায় সাহেদ ও স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের চার কর্মকর্তাসহ পাঁচজনকে আসামি করা হলেও স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সাবেক মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. মোহাম্মদ আবুল কালাম আজাদের নাম আসামির তালিকায় ছিল না। পরে অভিযোগপত্রে সাবেক মহাপরিচালকের নাম অন্তর্ভুক্ত করা হয়।

শেয়ার করুন

এই সম্পর্কিত আরও খবর...