ঢাকা ০৯:৩৩ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৫ জুলাই ২০২৪, ৩১ আষাঢ় ১৪৩১ বঙ্গাব্দ

প্রতারণার ফাঁদ পেতে ৫০ কোটি টাকা আত্মসাত

প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট : ০১:৩৪:১৪ অপরাহ্ন, বুধবার, ২ জুন ২০২১
  • / 276

সংগৃহীত ছবি

::নিজস্ব প্রতিবেদক::

প্রতারণার মাধ্যমে ৫০ কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগে মশিউর রহমানসহ আমানত আউটসোর্সিং জিব সার্ভিস অ্যান্ড সাপ্লায়ার্স কোম্পানির অফিসে অভিযান চালিয়ে ৩ জনকে গ্রেপ্তার করে সিআইডি।

বুধবার মালিবাগে সিআইডির প্রধান কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলনে সিআইডির অতিরিক্ত ডিআইজি শেখ ওমর ফারুক বলেন, ভুক্তভোগীদের অভিযোগের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে মঙ্গলবার রাতে রাজধানীর মিরপুর-১ এলাকার একটি প্রতিষ্ঠান থেকে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়।

গ্রেপ্তাররা হলো- প্রতারক চক্রের প্রধান ও আমানত আউটসোর্সিং জিব সার্ভিস অ্যান্ড সাপ্লায়ার্স কোম্পানির এমডি জহিরুল ইসলান, রিলেশনশিপ অফিসার সজিব ও এমডি জহিরুলের একান্ত সহকারী রাকিবুল বারী।

শেখ ওমর ফারুক বলেন, এ চক্রটি ১০নং শাহ আলী প্লাজার ৯ম তলায় চাকচিক্যময় অফিস সাজিয়ে চাকরির নামে প্রতারণা করে আসছিল। গ্রেপ্তারের পর তাদের কাছ থেকে চাকরি প্রার্থীদের ছবিসহ বিভিন্ন কাগজপত্র উদ্ধার করা হয়েছে। এ চক্রের প্রধান মশিউর রহমান বিরুদ্ধে এখন পর্যন্ত ৯২টি মামলা থাকার তথ্য পেয়েছে পুলিশ।

সিআইডির অতিরিক্ত ডিআইজি বলেন, এদের এক প্রতারণার শিকার মোহাম্মদ লোকমান হোসেন। এসএসসি পর্যন্ত পড়াশোনা করে, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে চাকরির বিজ্ঞাপন দেখে যোগাযোগ করেন মিরপুর-১ এর আমানত আউটসোর্সিং জিব সার্ভিস অ্যান্ড সাপ্লায়ার্স কোম্পানির অফিসে।

প্রতারণার শিকার মোহাম্মদ লোকমানের বরাত দিয়ে সিআইডি জানায়, পড়াশোনা আর নিজের সক্ষমতায় পিছিয়ে থাকলেও এখানে আসার পর স্বপ্নটা বড় হয়ে যায় লোকমানের। এই অফিস থেকে তাকে সহজেই সরকারি অফিসে অফিস সহকারী পদে চাকরির ব্যবস্থা করে দেয়ার কথা বলা হয়। কিন্তু চাকরি পেতে হলে তাকে কয়েকটি ধাপ পার হতে হবে। প্রথমে ১ হাজার টাকা দিয়ে নিজের নাম এন্ট্রি করতে হবে। এরপর অফিস থেকে ফোন করে লোকমানকে জানানো হয়, তার জন্য চাকরি রেডি। কিন্তু চাকরি পেতে হলে তাকে ৩ লাখ টাকা জমা দিতে হবে।

৩ লাখ টাকা দেয়ার সামর্থ্য না থাকলেও স্বজনদের কাছ থেকে ধার-দেনা করে ৩ লাখ টাকা তুলে দেন প্রতারক চক্রের প্রধান জহিরুল ইসলামের হাতে। চাকরির খোঁজে বারবার তিনি ওই অফিসে যান। কিন্তু চাকরি আর জহিরুল কারোরই দেখা পান না তরুণ লোকমান। ৪ মাস ঘোরার পরে লোকমান বুঝতে পারেন প্রতারিত হয়েছেন। এরপরই মামলা করেন কাফরুল থানায়।

সিআইডি জানায়, এদেরকে গ্রেপ্তারের পর লোকমানের মতো আরো কয়েকজন তরুণের দেখা মেলে। যাদের সবার বয়স ১৬ থেকে ১৭ বছর। তাদের সবাই মিরপুরের বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থী। তারা প্রতারক জহিরুলের অফিসে চাকরির খোঁজে এসে প্রতারিত হয়েছে। ৪ হাজার থেকে ৩ লাখ পর্যন্ত টাকা দিয়ে প্রতারিত হয়েছে।

শেখ ওমর ফারুক আরো বলেন, এ চক্রটি দীর্ঘদিন ধরে রেলওয়ে, ব্যাংক, বিমান, কাস্টমস, পদ্মা সেতু, জাহাজ কোম্পানিসহ বিভিন্ন সরকারি ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে চাকারির প্রলোভন দেখিয়ে নিরীহ লোকজনের কাছ থেকে কয়েক কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়েছে।

তিনি জানান, প্রতারণার মাধ্যমে ৫০ কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগে মশিউর রহমানসহ ৬ জনের বিরুদ্ধে কাফরুল থানায় মামলা হয়েছে। আসামিদের জিজ্ঞাসাবাদে আরও অনেক তথ্য বেরিয়ে আসবে।

সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন সিআইডি বিশেষ পুলিশ সুপার মো. খালিদুল হক হাওলাদার, মোহাম্মদ সাইদুর রহমান খান, সিআইডির মিডিয়া উইংয়ের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. আজাদ রহমান।

নিউজটি শেয়ার করুন

ট্যাগস :

প্রতারণার ফাঁদ পেতে ৫০ কোটি টাকা আত্মসাত

আপডেট : ০১:৩৪:১৪ অপরাহ্ন, বুধবার, ২ জুন ২০২১
::নিজস্ব প্রতিবেদক::

প্রতারণার মাধ্যমে ৫০ কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগে মশিউর রহমানসহ আমানত আউটসোর্সিং জিব সার্ভিস অ্যান্ড সাপ্লায়ার্স কোম্পানির অফিসে অভিযান চালিয়ে ৩ জনকে গ্রেপ্তার করে সিআইডি।

বুধবার মালিবাগে সিআইডির প্রধান কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলনে সিআইডির অতিরিক্ত ডিআইজি শেখ ওমর ফারুক বলেন, ভুক্তভোগীদের অভিযোগের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে মঙ্গলবার রাতে রাজধানীর মিরপুর-১ এলাকার একটি প্রতিষ্ঠান থেকে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়।

গ্রেপ্তাররা হলো- প্রতারক চক্রের প্রধান ও আমানত আউটসোর্সিং জিব সার্ভিস অ্যান্ড সাপ্লায়ার্স কোম্পানির এমডি জহিরুল ইসলান, রিলেশনশিপ অফিসার সজিব ও এমডি জহিরুলের একান্ত সহকারী রাকিবুল বারী।

শেখ ওমর ফারুক বলেন, এ চক্রটি ১০নং শাহ আলী প্লাজার ৯ম তলায় চাকচিক্যময় অফিস সাজিয়ে চাকরির নামে প্রতারণা করে আসছিল। গ্রেপ্তারের পর তাদের কাছ থেকে চাকরি প্রার্থীদের ছবিসহ বিভিন্ন কাগজপত্র উদ্ধার করা হয়েছে। এ চক্রের প্রধান মশিউর রহমান বিরুদ্ধে এখন পর্যন্ত ৯২টি মামলা থাকার তথ্য পেয়েছে পুলিশ।

সিআইডির অতিরিক্ত ডিআইজি বলেন, এদের এক প্রতারণার শিকার মোহাম্মদ লোকমান হোসেন। এসএসসি পর্যন্ত পড়াশোনা করে, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে চাকরির বিজ্ঞাপন দেখে যোগাযোগ করেন মিরপুর-১ এর আমানত আউটসোর্সিং জিব সার্ভিস অ্যান্ড সাপ্লায়ার্স কোম্পানির অফিসে।

প্রতারণার শিকার মোহাম্মদ লোকমানের বরাত দিয়ে সিআইডি জানায়, পড়াশোনা আর নিজের সক্ষমতায় পিছিয়ে থাকলেও এখানে আসার পর স্বপ্নটা বড় হয়ে যায় লোকমানের। এই অফিস থেকে তাকে সহজেই সরকারি অফিসে অফিস সহকারী পদে চাকরির ব্যবস্থা করে দেয়ার কথা বলা হয়। কিন্তু চাকরি পেতে হলে তাকে কয়েকটি ধাপ পার হতে হবে। প্রথমে ১ হাজার টাকা দিয়ে নিজের নাম এন্ট্রি করতে হবে। এরপর অফিস থেকে ফোন করে লোকমানকে জানানো হয়, তার জন্য চাকরি রেডি। কিন্তু চাকরি পেতে হলে তাকে ৩ লাখ টাকা জমা দিতে হবে।

৩ লাখ টাকা দেয়ার সামর্থ্য না থাকলেও স্বজনদের কাছ থেকে ধার-দেনা করে ৩ লাখ টাকা তুলে দেন প্রতারক চক্রের প্রধান জহিরুল ইসলামের হাতে। চাকরির খোঁজে বারবার তিনি ওই অফিসে যান। কিন্তু চাকরি আর জহিরুল কারোরই দেখা পান না তরুণ লোকমান। ৪ মাস ঘোরার পরে লোকমান বুঝতে পারেন প্রতারিত হয়েছেন। এরপরই মামলা করেন কাফরুল থানায়।

সিআইডি জানায়, এদেরকে গ্রেপ্তারের পর লোকমানের মতো আরো কয়েকজন তরুণের দেখা মেলে। যাদের সবার বয়স ১৬ থেকে ১৭ বছর। তাদের সবাই মিরপুরের বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থী। তারা প্রতারক জহিরুলের অফিসে চাকরির খোঁজে এসে প্রতারিত হয়েছে। ৪ হাজার থেকে ৩ লাখ পর্যন্ত টাকা দিয়ে প্রতারিত হয়েছে।

শেখ ওমর ফারুক আরো বলেন, এ চক্রটি দীর্ঘদিন ধরে রেলওয়ে, ব্যাংক, বিমান, কাস্টমস, পদ্মা সেতু, জাহাজ কোম্পানিসহ বিভিন্ন সরকারি ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে চাকারির প্রলোভন দেখিয়ে নিরীহ লোকজনের কাছ থেকে কয়েক কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়েছে।

তিনি জানান, প্রতারণার মাধ্যমে ৫০ কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগে মশিউর রহমানসহ ৬ জনের বিরুদ্ধে কাফরুল থানায় মামলা হয়েছে। আসামিদের জিজ্ঞাসাবাদে আরও অনেক তথ্য বেরিয়ে আসবে।

সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন সিআইডি বিশেষ পুলিশ সুপার মো. খালিদুল হক হাওলাদার, মোহাম্মদ সাইদুর রহমান খান, সিআইডির মিডিয়া উইংয়ের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. আজাদ রহমান।