সাম্প্রদায়িক হামলার প্রতিবাদে সম্প্রীতি সমাবেশে ‘৮০ অধিক সংগঠন’

ঢাবি প্রতিনিধি;
  • প্রকাশিত: ২৫ অক্টোবর ২০২১, ২:৩২ অপরাহ্ণ | আপডেট: ১ মাস আগে

ছবি সংগৃহীত

সারাদেশে সাম্প্রদায়িক সহিংসতার প্রতিবাদ এবং জড়িতদের শাস্তি নিশ্চিত, ক্ষতিপূরণের দাবিতে ‘সম্প্রীতি সমাবেশ’ করেছে ‘সম্প্রীতি বাংলাদেশ’ ব্যানারে বিভিন্ন শ্রেণি ও পেশার মানুষ। সমাবেশের সাথে সংহতি জানিয়ে যোগ দিয়েছেন ৮০টির অধিক সাংস্কৃতিক, পেশাদারি ও ছাত্র সংগঠন।

সোমবার দুপুর তিনটার দিকে রাজধানীর কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে এ সম্প্রতি সমাবেশ করেন তারা। এ সময় সমাবেশের সাথে সংহতি প্রকাশ করেন একাত্তরের ঘাতক দালাল নির্মূল কমিটি, সেক্টর কমান্ডারস ফোরাম, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক সমিতি, প্রজন্ম একাত্তর, উদীচী শিল্পীগোষ্টী, মঠ ও মিশন (ঢাকা, বাংলাদেশ), বঙ্গবন্ধু পরিষদ, জাতীয় কবিতা পরিষদ, ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়ন, জঙ্গিবাদ ও সাম্প্রদায়িকত বিরোধী দক্ষিণ এশীয় সম্মীলন, বাংলাদেশ ইসলামী ঐক্যজোটসহ ৮০টিরও অধিক প্রগতিশীল সংগঠন।

সমাবেশের সাথে সংহতি জানিয়ে আইন শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পাশাপাশি স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদেরও এগিয়ে আসার আহ্বান জানান ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য ড. মো আখতারুজ্জামান। তিনি বলেন, সাম্প্রদায়িক অপশক্তি যখন যেখানে মাথা চাড়া দিয়ে ওঠবে সেখানেই তাৎক্ষণিক প্রতিবাদ জানানো, প্রতিরোধ গড়ে তোলা এখন সময়ের দাবি। সেই দিকেই আমরা অগ্রসর হব। এটি একটি রাজনৈতিক সাম্প্রদায়িকতা। যদি রাজনৈতিক সাম্প্রদায়িকতাই হয় তাহলে রাজনৈতিক দল সমুহ যারা অন্তত অসাম্প্রদায়িক মানবিক চেতনায় বিশ্বাস করেন সেই মানুষগুলো সহমত পোষণ করে একই মঞ্চে আসতে হবে।

চেতনা একাত্তরের সভাপতি আসিফ মনির তন্ময় বলেন, সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বিনষ্টের ঘটনা আর যেন না ঘটে সেজন্য আইন শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে আরও বেশি তৎপর হতে হবে।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক সমিতির সাধারণ সম্পাদক নিজামুল হক ভূইয়া বলেন, স্বাধীনতার সুবর্ণ জয়ন্তীতে এসেও আমাদেরকে সম্প্রিতির বাংলাদেশের জন্য সভা সমাবেশ করতে হচ্ছে এটি আমাদের জন্য দুঃখজনজ এবং লজ্জাজনক।”

নাট্যকার ও সম্প্রীতি বাংলাদেশের আহ্বায়ক পীযূষ বন্দোপাধ্যায় বলেন, সাম্প্রতিককালে মুক্তিযুদ্ধের চেতনা বিরোধী সাম্প্রদায়িক অপশক্তি আমাদের হাজার বছরের সংস্কৃতিকে ধ্বংস করতে ষড়যন্ত্র করেছে, চক্রান্ত করেছে এবং কিছু অপকর্ম ঘটিয়েছে। মুক্তিযুদ্ধের চেতনার সকলে যদি আমরা সম্মিলিতভাবে দাঁড়াই, তাহলে এই দেশ থেকে সাম্প্রদায়িক অপশক্তির বিষদাঁত আমরা ভেঙে দিতে পারব।

পীযূষ বন্দোপাধ্যায় এর সভাপতিত্বে এবং অধ্যাপক মাহবুব আল মাহতাব স্বপ্নীলের সঞ্চালনায় সমাবেশে আরও বক্তব্য রাখেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের সভাপতি সঞ্জিত চন্দ্র দাস, বাংলাদেশ মুক্তযুদ্ধ একাডেমি ট্রাস্টের চেয়ারম্যান আবুল আজাদ, বাংলাদেশ হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদের ঢাকা মহা নগরীর সভাপতি চিত্ত রঞ্জন দাস, স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্রের ভাষা সৈনিক মনোরঞ্জন ঘোষাল,বঙ্গবন্ধু পরিষদের সভাপতি মনিরুজ্জামান নান্টু প্রমূখ।

সমাবেশ থেকে তারা সাত দফা দাবি জানান। তাদের দাবিগুলো হলো

১.সাম্প্রদায়িক ঘটনার সাথে জড়িতদের কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে।

২. অতীতের যেসব সাম্প্রদায়িক ঘটনা ঘটেছে তার দ্রুত বিচার সম্পন্ন করতে হবে।

৩.সাম্প্রদায়িক সম্প্রতি বিনষ্টের ঘটনা আর যেন না ঘটে সেজন্য প্রশাসনকে আরও বেশি তৎপর হতে হবে।

৪.সাম্প্রতিক ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্ত বাড়ি-ঘর এবং উপাসনালয় দ্রুত সংস্কারের ব্যবস্থা করতে হবে।

৫. মুক্তিযুদ্ধ, বঙ্গবন্ধু এবং বাঙালি জাতীয়তাবাদসহ শিক্ষা ব্যবস্থায় মানবিক মূল্যবোধ ও সহনশীলতার বিষয় অন্তর্ভুক্ত করতে হবে।

৬.আবহমান বাংলার সংস্কৃতি চর্চায় তরুণ ও যুব সমাজকে অধিকতর সম্পৃক্ত করতে যথাযথ উদ্যোগ নিতে হবে।

৭.সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে গুজব ও উস্কানি বন্ধে কার্যকর ব্যবস্থা নিতে হবে।

শেয়ার করুন

এই সম্পর্কিত আরও খবর...