‘প্রশ্নপত্রের মান ঠিক ছিলো, পাশাপাশি সময়ও যথেষ্ট ছিলো’

নিজস্ব প্রতিবেদক;
  • প্রকাশিত: ১৪ নভেম্বর ২০২১, ১১:৫৫ পূর্বাহ্ণ | আপডেট: ৩ সপ্তাহ আগে

ছবি সংগৃহীত

বিশ্বজুড়ে করোনা মহামারির সংক্রমণের কারণে দীর্ঘ ৯ মাস পর সব আশঙ্কা দূর করে আজ অনুষ্ঠিত হলো এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষা। সকাল থেকে গুঁড়ি গুঁড়ি বৃষ্টির মধ্যেই শিক্ষার্থীরা পরীক্ষা কেন্দ্রে প্রবেশ করে। তবে সড়কে জ্যামের কারণে ভোগান্তিতে পড়তে হয়েছে বহু অভিভাবকসহ পরীক্ষার্থীদের। অনেক শিক্ষার্থীকে পরীক্ষা শুরুর নির্ধারিত সময়ের ২০ মিনিট পরেও কেন্দ্রে প্রবেশ করতে দেখা গেছে।

আজ রোববার সকাল ১০টায় শুরু হয়ে পরীক্ষা চলে বেলা সাড়ে ১১টা পর্যন্ত। দেড় ঘণ্টার পরীক্ষায় বিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থীদের লিখিত অংশে ৮টি প্রশ্নের মধ্যে ২টির উত্তর দিতে হয়। অন্যদিকে এমসিকিউ অংশে ২৫টির মধ্যে দিতে হয় ১২টির উত্তর। মানবিক এবং ব্যবসায় শিক্ষা বিভাগের শিক্ষার্থীদের লিখিত অংশে ১১টির মধ্যে ৩টি এবং এমসিকিউ অংশে ৩০টির মধ্যে ১৫টি প্রশ্নের উত্তর দিতে হয়।

শিক্ষার্থীরা বলেন, প্রশ্নপত্রের মান ঠিক ছিলো, পাশাপাশি সময়ও যথেষ্ট ছিলো। তবে পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হওয়া এবং তাতে অংশ নিতে পেরে শিক্ষার্থীদের চোখে মুখে ছিলো আনন্দের ছাপ।

লাবণ্য নামের এক শিক্ষার্থী বলেন, অবশেষে যে পরীক্ষায় অংশ নিতে পেরেছি এটাই ছিলো সব থেকে ভালো লাগার। করোনার কারণে অনেক চিন্তায় ছিলাম পরীক্ষা দিতে পারবো কিনা। কারণ জীবনে একবারই সুযোগ হয় এই পরীক্ষা দেওয়ার। তাই সেটি দিতে না পারলে হয়তো অনেক বড় কিছু জীবন থেকে হারিয়ে ফেলতাম।

কয়েকজন অভিভাবকের সঙ্গে কথা বললে তারা জানান, সকাল থেকে বৃষ্টি আর জ্যামের কারণে পরীক্ষার্থীদের নিয়ে কেন্দ্রে হেঁটে আসতে হয়েছে। এমন কিছু অভিযোগের মাঝেও ছেলে-মেয়েদের মেধা যাচাই করা হচ্ছে এটা অনেক প্রাপ্তি, বলেন তারা। যদিও কেন্দ্রের বাইরে স্বাস্থ্যবিধির ক্ষেত্রে তাদের উদাসীনতা ছিলো।

এদিকে পরীক্ষার প্রথম দিনে মতিঝিল বালক উচ্চ বিদ্যালয় কেন্দ্র পরিদর্শন শেষে শিক্ষামন্ত্রী দিপু মনি বলেন, প্রশ্নপত্র ফাঁসের কোন সুযোগ নেই। তবে একটি অংশ গুজব রটানোর চেষ্টায় আছে। তাদের বিরুদ্ধে আমরা কঠোর অবস্থানে আছি। পাশাপাশি কাউকে এই গুজবে কান না দেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।

শিক্ষামন্ত্রী বলেন, আমরা সার্বক্ষণিক যোগাযোগ রক্ষা করছি। কোথাও কোন অনিয়ম পাওয়া গেলে আমরা সাথে সাথে ব্যবস্থা নেব।

এছাড়া আগামী এক মাসের মধ্যেই পরিক্ষার ফলাফল দেওয়ার চেষ্টা রয়েছে বলেও জানান মন্ত্রী।

এ বছর নয়টি সাধারণসহ মোট ১১টি বোর্ডে পরীক্ষায় অংশ নিয়েছে ২২ লাখ ৪৩ হাজার ৩৫৪ জন শিক্ষার্থী। এর মধ্যে এসএসসিতে ১৮ লাখ ৯৯৮ জন, দাখিলে তিন লাখ এক হাজার ৮৮৭ জন এবং ভোকেশনালে এক লাখ ২৪ হাজার ২২৮ জন। যা গত বছরের তুলনায় পরীক্ষার্থীর দিক থেকে বেড়েছে এক লাখ ৭৯ হাজার ৩৩৪ জন।

বৃদ্ধির গড় হার ৮ দশমিক ৭৬ শতাংশ। এবার মোট প্রতিষ্ঠান বেড়েছে ১৫১টি এবং কেন্দ্র বেড়েছে ১৬৭টি। মোট কেন্দ্র তিন হাজার ৬৭৯টি এবং মোট প্রতিষ্ঠান ২৯ হাজার ৩৫টি।

শেয়ার করুন

এই সম্পর্কিত আরও খবর...