ঢাকা ০৯:০৯ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৩ জুলাই ২০২৪, ৮ শ্রাবণ ১৪৩১ বঙ্গাব্দ

শিক্ষকদের সর্বাত্মক কর্মবিরতি: জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে অচল অবস্থা

নিজস্ব প্রতিবেদক
  • আপডেট : ০৮:১৪:৫৫ অপরাহ্ন, সোমাবার, ১ জুলাই ২০২৪
  • / 38
সর্বাত্মক কর্মবিরতিতে অচল হয়ে পড়েছে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়। এ কর্মসূচির অংশ হিসেবে সশরীরে এবং সান্ধ্যকালীন ক্নাস বন্ধ রাখা হয়েছে। এছাড়া মিডটার্ম, ফাইনাল, মৌখিক ও ভর্তি পরীক্ষাসহ কোনো ধরনের পরীক্ষাই নেয়া হচ্ছে না।

সর্বজনীন পেনশনে ‘প্রত্যয়’ স্কিমকে ‘বৈষ্যম্যমূলক’ আখ্যা দিয়ে তা প্রহ্যারেরর দাবিতে সর্বাত্মক কর্মবিরতি পালন করেছেন জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক এবং কর্মকর্তা-কর্মচারীরা।

কর্মবিরতির প্রথম দিন সোমবার দুপুরে শিক্ষকরা ক্যাম্পাসের শহীদ মিনার প্রাঙ্গণে অবস্থান নেন।

শিক্ষক সমিতির সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক মাশরিক হাসান বলেন, দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত আমাদের সর্বাত্মক কর্মবিরতি চলমান থাকবে। বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক সমিতি ফেডারেশন সিদ্ধান্ত নেবে- এ কর্মসূচির সাথে নতুন কোনো কর্মসূচি যুক্ত হবে কি না।

বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকরা নতুন পেনশন কর্মসূচি ‘প্রত্যয়’ প্রত্যাহার করে স্বতন্ত্র বেতন স্কেলের দাবিতে রোববার পূর্ণ দিবস কর্মবিরতি পালন করেন। একই দাবিতে বিশ্ববিদ্যালয়ের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা অর্ধ দিবস কর্মবিরতি পালন করেন। বিকেলে শিক্ষক সমিতি এবং কর্মকর্তা-কর্মচারীরা সাতটি কর্মসূচির ঘোষণা করেন।

কর্মসূচিগুলো হলো: জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের সকল বিভাগের/ইন্সটিউটের ক্লাস সমূহ বন্ধ থাকবে। অনলাইন, সান্ধ্যকালীন, শুক্রবার ও শনিবারের প্রফেশনাল কোর্সের ক্লাস ও অন্যান্য কার্যক্রম বন্ধ থাকবে। মিডটার্ম, ফাইনাল, মৌখিক ও ভর্তি পরীক্ষাসহ কোন পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবেনা। বিভাগীয় অফিস, সেমিনার, কম্পিউটার ল্যাব ও গবেষণাগার বন্ধ থাকবে। অ্যাকাডেমিক কমিটি, পরিকল্পনা কমিটি, প্রশ্নপত্র সমন্বয় ও অন্যান্য সভা অনুষ্ঠিত হবে না। ভর্তি পরীক্ষাসহ ডিন অফিসের সকল কার্যক্রম বন্ধ থাকবে। কোন সেমিনার, কনফারেন্স ও ওয়ার্কশপ অনুষ্ঠিত হবে না। দায়িত্বপ্রাপ্ত কোনো শিক্ষক প্রশাসনিক কোনো দায়িত্ব পালন করবেন না।

জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে সর্বাত্মক কর্মবিরতি চলছে। ছবি: সংগৃহীত

শিক্ষকদের সর্বাত্মক কর্মবিরতিতে বিপাকে পড়েছে শিক্ষার্থীরা। ক্লাস-পরীক্ষা বন্ধ করে আন্দোলন ডাকার কারণে শিক্ষার্থীরা সেশনজটের আশঙ্কা করছেন।

শিক্ষার্থীরা বলছেন, নিজেদের স্বার্থচিন্তার পাশাপাশি আমাদের কথাও ভাবা উচিত শিক্ষকদের। কোভিড মহামারীর কারণে ইতোমধ্যে প্রায় এক বছর পিছিয়ে গেছি। ২০২৩ সালে অনার্স শেষ হওয়ার কথা ছিল, ২০২৪ এ এখন চতুর্থ বর্ষে থাকতে হচ্ছে।

অধিকাংশ বিভাগে সেমিস্টার ফাইনাল জুলাইয়ে শুরু হওয়ার কথা থাকলেও শিক্ষকদের এই আন্দোলনের কারণে পরীক্ষা যথাসময়ে হওয়া নিয়ে শঙ্কিত অনেকে।

৩ জুলাই থেকে অর্থনীতি বিভাগের প্রথম বর্ষের দ্বিতীয় সেমিস্টারের পরীক্ষা শুরু হওয়ার কথা। এখন পরীক্ষা হবে কি হবে না তা নিয়ে উদ্বিগ্ন শিক্ষার্থীরা। তারা বলেন, চেয়ারম্যান স্যার বলেছেন, দাবি আদায় হলে পরীক্ষা হবে, নয়তো হবে না। এটা কেমন কথা? বিশ্ববিদ্যালয় জীবনের শুরুতেই এমন খারাপ অভিজ্ঞতার সম্মুখীন হতে হচ্ছে।

এ ব্যাপারে শিক্ষক সমিতির সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক মাশরিক হাসান বলেন, শিক্ষার্থীদের ক্ষতি পুষিয়ে দেয়ার জন্য একটি মিটিং করা হয়েছে। আমরা সিদ্ধান্ত নিয়েছি, আমাদের দাবি আদায় হয়ে গেলে অতিরিক্ত ক্লাস, অনলাইন ক্লাস নিয়ে ক্ষতিটা পূরণ করবো।

শিক্ষক সমিতির অভিযোগ, এ স্কিম ‘বৈষম্যমূলক’। এতে ১ জুলাই এবং এর পরে নিয়োগ পাওয়া শিক্ষকরা আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হবেন।

নিউজটি শেয়ার করুন

ট্যাগস :

শিক্ষকদের সর্বাত্মক কর্মবিরতি: জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে অচল অবস্থা

আপডেট : ০৮:১৪:৫৫ অপরাহ্ন, সোমাবার, ১ জুলাই ২০২৪
সর্বাত্মক কর্মবিরতিতে অচল হয়ে পড়েছে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়। এ কর্মসূচির অংশ হিসেবে সশরীরে এবং সান্ধ্যকালীন ক্নাস বন্ধ রাখা হয়েছে। এছাড়া মিডটার্ম, ফাইনাল, মৌখিক ও ভর্তি পরীক্ষাসহ কোনো ধরনের পরীক্ষাই নেয়া হচ্ছে না।

সর্বজনীন পেনশনে ‘প্রত্যয়’ স্কিমকে ‘বৈষ্যম্যমূলক’ আখ্যা দিয়ে তা প্রহ্যারেরর দাবিতে সর্বাত্মক কর্মবিরতি পালন করেছেন জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক এবং কর্মকর্তা-কর্মচারীরা।

কর্মবিরতির প্রথম দিন সোমবার দুপুরে শিক্ষকরা ক্যাম্পাসের শহীদ মিনার প্রাঙ্গণে অবস্থান নেন।

শিক্ষক সমিতির সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক মাশরিক হাসান বলেন, দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত আমাদের সর্বাত্মক কর্মবিরতি চলমান থাকবে। বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক সমিতি ফেডারেশন সিদ্ধান্ত নেবে- এ কর্মসূচির সাথে নতুন কোনো কর্মসূচি যুক্ত হবে কি না।

বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকরা নতুন পেনশন কর্মসূচি ‘প্রত্যয়’ প্রত্যাহার করে স্বতন্ত্র বেতন স্কেলের দাবিতে রোববার পূর্ণ দিবস কর্মবিরতি পালন করেন। একই দাবিতে বিশ্ববিদ্যালয়ের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা অর্ধ দিবস কর্মবিরতি পালন করেন। বিকেলে শিক্ষক সমিতি এবং কর্মকর্তা-কর্মচারীরা সাতটি কর্মসূচির ঘোষণা করেন।

কর্মসূচিগুলো হলো: জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের সকল বিভাগের/ইন্সটিউটের ক্লাস সমূহ বন্ধ থাকবে। অনলাইন, সান্ধ্যকালীন, শুক্রবার ও শনিবারের প্রফেশনাল কোর্সের ক্লাস ও অন্যান্য কার্যক্রম বন্ধ থাকবে। মিডটার্ম, ফাইনাল, মৌখিক ও ভর্তি পরীক্ষাসহ কোন পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবেনা। বিভাগীয় অফিস, সেমিনার, কম্পিউটার ল্যাব ও গবেষণাগার বন্ধ থাকবে। অ্যাকাডেমিক কমিটি, পরিকল্পনা কমিটি, প্রশ্নপত্র সমন্বয় ও অন্যান্য সভা অনুষ্ঠিত হবে না। ভর্তি পরীক্ষাসহ ডিন অফিসের সকল কার্যক্রম বন্ধ থাকবে। কোন সেমিনার, কনফারেন্স ও ওয়ার্কশপ অনুষ্ঠিত হবে না। দায়িত্বপ্রাপ্ত কোনো শিক্ষক প্রশাসনিক কোনো দায়িত্ব পালন করবেন না।

জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে সর্বাত্মক কর্মবিরতি চলছে। ছবি: সংগৃহীত

শিক্ষকদের সর্বাত্মক কর্মবিরতিতে বিপাকে পড়েছে শিক্ষার্থীরা। ক্লাস-পরীক্ষা বন্ধ করে আন্দোলন ডাকার কারণে শিক্ষার্থীরা সেশনজটের আশঙ্কা করছেন।

শিক্ষার্থীরা বলছেন, নিজেদের স্বার্থচিন্তার পাশাপাশি আমাদের কথাও ভাবা উচিত শিক্ষকদের। কোভিড মহামারীর কারণে ইতোমধ্যে প্রায় এক বছর পিছিয়ে গেছি। ২০২৩ সালে অনার্স শেষ হওয়ার কথা ছিল, ২০২৪ এ এখন চতুর্থ বর্ষে থাকতে হচ্ছে।

অধিকাংশ বিভাগে সেমিস্টার ফাইনাল জুলাইয়ে শুরু হওয়ার কথা থাকলেও শিক্ষকদের এই আন্দোলনের কারণে পরীক্ষা যথাসময়ে হওয়া নিয়ে শঙ্কিত অনেকে।

৩ জুলাই থেকে অর্থনীতি বিভাগের প্রথম বর্ষের দ্বিতীয় সেমিস্টারের পরীক্ষা শুরু হওয়ার কথা। এখন পরীক্ষা হবে কি হবে না তা নিয়ে উদ্বিগ্ন শিক্ষার্থীরা। তারা বলেন, চেয়ারম্যান স্যার বলেছেন, দাবি আদায় হলে পরীক্ষা হবে, নয়তো হবে না। এটা কেমন কথা? বিশ্ববিদ্যালয় জীবনের শুরুতেই এমন খারাপ অভিজ্ঞতার সম্মুখীন হতে হচ্ছে।

এ ব্যাপারে শিক্ষক সমিতির সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক মাশরিক হাসান বলেন, শিক্ষার্থীদের ক্ষতি পুষিয়ে দেয়ার জন্য একটি মিটিং করা হয়েছে। আমরা সিদ্ধান্ত নিয়েছি, আমাদের দাবি আদায় হয়ে গেলে অতিরিক্ত ক্লাস, অনলাইন ক্লাস নিয়ে ক্ষতিটা পূরণ করবো।

শিক্ষক সমিতির অভিযোগ, এ স্কিম ‘বৈষম্যমূলক’। এতে ১ জুলাই এবং এর পরে নিয়োগ পাওয়া শিক্ষকরা আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হবেন।