ওমানে ঘূর্ণিঝড়ে লক্ষ্মীপুরের তিনজন নিহত

লক্ষ্মীপুর প্রতিনিধি;
  • প্রকাশিত: ৭ অক্টোবর ২০২১, ১:৫০ অপরাহ্ণ | আপডেট: ২ সপ্তাহ আগে
স্বজনদের আহাজারি।

ঘূর্ণিঝড় শাহিনের আঘাতে ওমানে তিন বাংলাদেশীর মৃত্যু হয়েছে। বুধবার নিহতদের মরদেহ শনাক্ত করে ওমান পুলিশ। নিহত সবাই বাংলাদেশের লক্ষ্মীপুর জেলার সদর উপজেলার পার্বতীনগর এলাকার বাসিন্দা।

বৃহস্পতিবার বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে এসব তথ্য নিশ্চিত করেন স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. সালাহ উদ্দিন ভূঁইয়া। তিনি বলেন, বিষয়টি প্রশাসনকে জানানো হয়েছে। মরদেহ দেশে আনার প্রক্রিয়া চলছে।

নিহতরা হলেন- সদর উপজেলার পাবর্তীনগর ইউনিয়নের আব্দুল করিম চেরাঙ্গ বাড়ির মৃত নুরুল আমিনের ছেলে শামছুল ইসলাম (৫৫), চাঁন কাজী বাড়ির শুক্কুর উল্লাহর ছেলে জিল্লাল হোসেন (৪৫) ও মিঝি বাড়ির আব্দুস শহিদের ছেলে আমজাদ হোসেন হৃদয় (২৮)। শামছুল ইসলাম ও আমজাদ হোসেন হৃদয় সম্পর্কে মামা-ভাগিনা। জিল্লাল হোসেন ও শামছুল ইসলাম চাচাতো ভাই।

পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, নিহতরা ওমানের সাহামে উম্মে ওয়াদি লেবান পারপার নামক স্থানে খেজুর বাগানে কাজ করতেন। ঘূর্ণিঝড় শুরু হলে তাদেরকে বাতাস ও পানির স্রোত ভাসিয়ে নিয়ে যায়। পরে স্থানীয়ভাবে খোঁজাখুঁজির পর তাদের ক্ষত বিক্ষত লাশের সন্ধান মেলে।

নিহত জিল্লাল হোসেন এর বাবা শুক্কুর উল্লাহ জানান, তার ছেলে ওমানের সাহামে উম্মে ওয়াদি লেবান পারপার নামক স্থানে খেজুর বাগানে শ্রমিক হিসেবে কাজ করতো। তার নিকটাত্মীয় অপর ২ জনও একই এলাকায় কাজ করতো। রোববার ঝড়ের পরে থেকে তারা নিখোঁজ ছিল। ঝড়ে আসা পানি নেমে যাওয়ার পর মঙ্গলবার সকালে শামছুল ইসলাম এবং জিল্লাল হোসেনের লাশ সনাক্ত করে প্রবাসীরা পুলিশকে জানায়।

অন্যদিকে গতকাল বুধবার আমজাদ হোসেন হৃদয়ের লাশ পাওয়া যায়। মৃত শামছুল ইসলাম গত ত্রিশ বছর ওমান প্রবাসী ছিলেন। তার তিন মেয়ে, এক ছেলে, স্ত্রী রয়েছে। মৃত জিল্লাল হোসেন গত ১৫ বছর ওমানে রয়েছেন। তার ছেলে, মেয়ে ও স্ত্রী রয়েছে। মৃত আমজাদ হোসেন হৃদয় তিন বোন, এক ভাই ও বাবা মা রয়েছে। মৃত ব্যক্তিরা ছিলেন পরিবারে অর্থ উপার্জনের একমাত্র ভরসা। এদের মৃত্যুর খবরে পুরো এলাকাতে শোকের ছায়া নেমে এসেছে।

সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ভারপ্রাপ্ত) মো. মামুনুর রশিদ বলেন, প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে মৃতদের দেশে আনার ব্যবস্থা করা হবে। এ ছাড়াও তাদের পরিবারের জন্য প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে আর্থিক অনুদানের ব্যবস্থা করা হবে।

উল্লেখ্য, গত রোববার ওমানে ঘূর্ণিঝড় শাহিনের কারণে ঝড়ো বাতাসের সঙ্গে তীব্র বৃষ্টিপাতে অনেক এলাকা প্লাবিত হয়। বাতাসের গতিবেগ ছিলো ঘণ্টায় ১২০ থেকে ১৫০ কিলোমিটার। ওই সময় ঘূর্ণিঝড়ের প্রভাবে প্রায় দশ মিটার উঁচু ঢেউ তৈরি হয়। বাসিন্দাদের ওমান সরকার উপকূলীয় এলাকা থেকে সরিয়ে নিলেও তারা সেখানেই ছিলো।

শেয়ার করুন

এই সম্পর্কিত আরও খবর...