ঢাকা ০৫:৩৩ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৬ জুলাই ২০২৪, ১ শ্রাবণ ১৪৩১ বঙ্গাব্দ

তিস্তাপাড়ে বন্যার শঙ্কা

প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট : ১০:৪৮:৩২ পূর্বাহ্ন, সোমাবার, ৩১ মে ২০২১
  • / 169

তিস্তাপাড়ের নিম্নাঞ্চল প্লাবিত, পানির তোড়ে ভেঙেছে বাঁধ। ছবি সংগৃহীত

::রংপুর প্রতিনিধি::

উজানের ঢলে ফুলে ফেঁপে উঠেছে তিস্তা। ডুবে গেছে ফসলি জমি, ভেসে গেছে পুকুরের মাছ। আকস্মিকভাবে তিস্তায় পানি বৃদ্ধি পেয়ে রংপুরের গঙ্গাচড়ায় স্বেচ্ছাশ্রমে নির্মিত একটি বাঁধ ভেঙে গেছে। কোলকোন্দ ইউনিয়নের বিনবিনা এলাকায় ওই বাঁধ ভেঙে লোকালয়ে পানি ঢুকে পড়ায় কয়েকটি গ্রাম প্লাবিত হয়ে পড়েছে।

এসব এলাকার সহস্রাধিক হেক্টর জমির উঠতি বাদাম ও ভুট্টাক্ষেত তলিয়ে গেছে। বাঁধটি রক্ষা করতে না পারলে আসন্ন বন্যায় গ্রামগুলো নিশ্চিহ্ন হয়ে যাওয়ার শঙ্কায় উৎকণ্ঠায় রয়েছে এলাকার মানুষ।

পানি উন্নয়ন বোর্ডের কর্মকর্তারা জানান, ঘূর্ণিঝড় ইয়াসের প্রভাবে উজানে সৃষ্ট বৃষ্টিপাতে তিস্তার পানি বৃদ্ধি পেয়েছে। তিস্তা ব্যারাজ পয়েন্টে সোমবার সকালে নদীর পানি বিপৎসীমার (৫২ দশমিক ৬০ সেন্টিমিটার) ১০ সেন্টিমিটার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হয়।

পানি উন্নয়ন বোর্ডের বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্রের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. আরিফুজ্জামান ভূঁইয়া জানান, বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদপ্তর ও ভারত আবহাওয়া অধিদপ্তরের গাণিতিক মডেলের তথ্য অনুযায়ী, আগামী বুধবার নাগাদ দেশের উত্তরাঞ্চল, উত্তর-পূর্বাঞ্চল ও তৎসংলগ্ন ভারতের আসাম, মেঘালয় ও হিমালয় পাদদেশীয় পশ্চিমবঙ্গের স্থানসমূহে মাঝারি থেকে ভারী বৃষ্টিপাতের পূর্বাভাস আছে।

এই সময়ে তিস্তা, ধরলা, দুধকুমার, যমুনেশ্বরী, ব্রহ্মপুত্র ও আপার মেঘনা অববাহিকার প্রধান নদ-নদীসমূহের পানি সমতল সময় বিশেষে দ্রুত বৃদ্ধি পেতে পারে এবং তিস্তা নদীর পানি সমতল ডালিয়া পয়েন্টে বিপৎসীমা অতিক্রম করতে পারে। তবে ব্রহ্মপুত্র-যমুনা নদ-নদীর পানি সমতল স্থিতিশীল আছে, যা মঙ্গলবার পর্যন্ত অব্যাহত থাকতে পারে। আর গঙ্গা নদীর পানি সমতল বৃদ্ধি পাচ্ছে, অপরদিকে পদ্মা নদীর পানি সমতল স্থিতিশীল আছে, যা বুধবার পর্যন্ত অব্যাহত থাকতে পারে।

দেশের উত্তর-পূর্বাঞ্চলের আপার মেঘনা অববাহিকার প্রধান নদীসমূহের পানি সমতল হ্রাস পাচ্ছে, যা আগামী ২৪ ঘণ্টা পর্যন্ত অব্যাহত থাকতে পারে।

গত ২৪ ঘণ্টায় বিভিন্ন নদ-নদীর পাউবোর পর্যবেক্ষণাধীন ১০১টি পয়েন্টের মধ্যে বেড়েছে ৩৭টি পয়েন্টের পানি। কমেছে ৫৮ টিতে, অপরিবর্তিত ৩টিতে, তথ্য পাওয়া যায়নি ৩টি পয়েন্টের।

নিউজটি শেয়ার করুন

ট্যাগস :

তিস্তাপাড়ে বন্যার শঙ্কা

আপডেট : ১০:৪৮:৩২ পূর্বাহ্ন, সোমাবার, ৩১ মে ২০২১
::রংপুর প্রতিনিধি::

উজানের ঢলে ফুলে ফেঁপে উঠেছে তিস্তা। ডুবে গেছে ফসলি জমি, ভেসে গেছে পুকুরের মাছ। আকস্মিকভাবে তিস্তায় পানি বৃদ্ধি পেয়ে রংপুরের গঙ্গাচড়ায় স্বেচ্ছাশ্রমে নির্মিত একটি বাঁধ ভেঙে গেছে। কোলকোন্দ ইউনিয়নের বিনবিনা এলাকায় ওই বাঁধ ভেঙে লোকালয়ে পানি ঢুকে পড়ায় কয়েকটি গ্রাম প্লাবিত হয়ে পড়েছে।

এসব এলাকার সহস্রাধিক হেক্টর জমির উঠতি বাদাম ও ভুট্টাক্ষেত তলিয়ে গেছে। বাঁধটি রক্ষা করতে না পারলে আসন্ন বন্যায় গ্রামগুলো নিশ্চিহ্ন হয়ে যাওয়ার শঙ্কায় উৎকণ্ঠায় রয়েছে এলাকার মানুষ।

পানি উন্নয়ন বোর্ডের কর্মকর্তারা জানান, ঘূর্ণিঝড় ইয়াসের প্রভাবে উজানে সৃষ্ট বৃষ্টিপাতে তিস্তার পানি বৃদ্ধি পেয়েছে। তিস্তা ব্যারাজ পয়েন্টে সোমবার সকালে নদীর পানি বিপৎসীমার (৫২ দশমিক ৬০ সেন্টিমিটার) ১০ সেন্টিমিটার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হয়।

পানি উন্নয়ন বোর্ডের বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্রের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. আরিফুজ্জামান ভূঁইয়া জানান, বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদপ্তর ও ভারত আবহাওয়া অধিদপ্তরের গাণিতিক মডেলের তথ্য অনুযায়ী, আগামী বুধবার নাগাদ দেশের উত্তরাঞ্চল, উত্তর-পূর্বাঞ্চল ও তৎসংলগ্ন ভারতের আসাম, মেঘালয় ও হিমালয় পাদদেশীয় পশ্চিমবঙ্গের স্থানসমূহে মাঝারি থেকে ভারী বৃষ্টিপাতের পূর্বাভাস আছে।

এই সময়ে তিস্তা, ধরলা, দুধকুমার, যমুনেশ্বরী, ব্রহ্মপুত্র ও আপার মেঘনা অববাহিকার প্রধান নদ-নদীসমূহের পানি সমতল সময় বিশেষে দ্রুত বৃদ্ধি পেতে পারে এবং তিস্তা নদীর পানি সমতল ডালিয়া পয়েন্টে বিপৎসীমা অতিক্রম করতে পারে। তবে ব্রহ্মপুত্র-যমুনা নদ-নদীর পানি সমতল স্থিতিশীল আছে, যা মঙ্গলবার পর্যন্ত অব্যাহত থাকতে পারে। আর গঙ্গা নদীর পানি সমতল বৃদ্ধি পাচ্ছে, অপরদিকে পদ্মা নদীর পানি সমতল স্থিতিশীল আছে, যা বুধবার পর্যন্ত অব্যাহত থাকতে পারে।

দেশের উত্তর-পূর্বাঞ্চলের আপার মেঘনা অববাহিকার প্রধান নদীসমূহের পানি সমতল হ্রাস পাচ্ছে, যা আগামী ২৪ ঘণ্টা পর্যন্ত অব্যাহত থাকতে পারে।

গত ২৪ ঘণ্টায় বিভিন্ন নদ-নদীর পাউবোর পর্যবেক্ষণাধীন ১০১টি পয়েন্টের মধ্যে বেড়েছে ৩৭টি পয়েন্টের পানি। কমেছে ৫৮ টিতে, অপরিবর্তিত ৩টিতে, তথ্য পাওয়া যায়নি ৩টি পয়েন্টের।